উষ্ণায়নের ফলে পৃথিবী থেকে বিলুপ্তির পথে কোমোডো ড্রাগন

উষ্ণায়নের ফলে পৃথিবী থেকে বিলুপ্তির পথে কোমোডো ড্রাগন

আজবাংলা    সারা পৃথিবী জুড়ে ক্রমগত বদলে যাওয়া জলবায়ুর শিকার হয়ে চলেছে একের পর এক প্রাণী। দিন কয়েক আগের এক সমীক্ষা যেমন অবলুপ্তির মুখে দাঁড়িয়ে থাকা প্রাণীকুলের তালিকায় নাম টেনে এনেছিল প্রজাপতিরও।জানিয়েছিল, সারা পৃথিবী জুড়েই অতিরিক্ত উত্তপ্ত জলবায়ুর কারণে এক দিকে এরা যেমন হারাচ্ছে পাখার রং, তেমনই পাখার বৃদ্ধিও যথেষ্ট হচ্ছে না।

এর ঠিক পরেই ধাপেই সাম্প্রতিক এক সমীক্ষা বলছে, কোমোডো ড্রাগন এই মুহূর্তে রয়েছে বিপন্নতার তালিকার সব চেয়ে ওপরে। যে কোনও দিন জলবায়ুর পরিবর্তনের শিকার হবে এই প্রজাতিটিও।সম্প্রতি অ্যাডেলেড এবং ডিকিন বিশ্ববিদ্যালয়ের যৌথ উদ্যোগে সমীক্ষা চালানো হয়েছিল। সমীক্ষায় উঠে আসা তথ্য থেকে গবেষকরা বলেছেন বিশ্ব উষ্ণায়ন এবং সমুদ্রপৃষ্ঠের স্তর বেড়ে যাওয়ায় বিপন্ন হতে চলেছে কোমোডো ড্রাগন।

অবশ্য সত্যি বলতে কী, সরীসৃপ জাতীয় এই প্রাণীটির সংখ্যা কিন্তু এখনই হাতে গোনা। ঠিকঠাক সংরক্ষণ না হলে আর কয়েক দশকের মধ্যেই পুরোপুরি হারিয়ে যেতে পারে কোমোডো ড্রাগন। অ্যাডেলেড বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইটেও উল্লেখ করা হয়েছে তা।গবেষণায় অনুমান করা হচ্ছে ইন্দোনেশিয়ার তিনটি দ্বীপ থেকে পুরোপুরি হারিয়ে যেতে পারে এই প্রাণী। এখনও পর্যন্ত দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার মাত্র ৫টি দ্বীপে এই কোমোডো ড্রাগনের বসবাস। এই দ্বীপগুলি হল- কোমোডো, রিঙ্কা, নুসা, কোডে এবং গিলি মটাংগ।

প্রাণিবিদরা বলেন, অবলুপ্তির মুখে দাঁড়়িয়ে থাকা জীবজগতের এই বিস্ময়টির বিজ্ঞানসম্মত নাম ভারানুস কোমোডো এনসিস। গিরগিটি প্রজাতির এই প্রাণীটি পৃথিবীর অন্যতম প্রাচীন প্রাণী। কয়েক লক্ষ বছর ধরে পৃথিবীতে রয়েছে এরা। তবে বর্তমানে কোনও মতে টিঁকে আছে সংখ্যায় মোট হাজার চারেক।সাম্প্রতিক সমীক্ষাটি প্রকাশিত হয়েছে ইকোলজি অ্যান্ড ইভোলিউশন জার্নালে। এই প্রসঙ্গে ডঃ জোন্স জানিয়েছেন এখনও পর্যন্ত সংরক্ষণের জন্য যা যা পদক্ষেপ করা হয়েছে, তার কোনওটাই না কি যথেষ্ট নয়।

জলবায়ুর পরিবর্তন, বন্যভূমি নষ্ট করে ফেলার মতো ঘটনায় বছরের পর বছর ধরে বিলুপ্ত হয়ে যাচ্ছে একের পর এক প্রজাতির প্রাণী।ইন্দোনেশিয়াতেই আরও অন্তত ২০টি প্রজাতিকে বিপন্ন ঘোষণা করা হয়েছে কোমোডো ড্রাগনের পাশাপাশি।বিশ্ব জুড়ে জলবায়ুর পরিবর্তন, পরিবেশ সংরক্ষণের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে সচেতনতা আগের চেয়ে হয়তো বেড়েছে। কিন্তু কত দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণ করা উচিত, তা নিয়ে বিভিন্ন দেশের মধ্যে মতপার্থক্য ঘটছে যথেষ্টই।