করোনায় মা-বাবা হারানো শিশুদের ১০ লক্ষ টাকা দেবে মোদি সরকার

করোনায় মা-বাবা হারানো শিশুদের ১০ লক্ষ টাকা দেবে মোদি সরকার

করোনায় মা-বাবা দু'জনকেই হারিয়েছে বহু শিশু। তাদের পাশে দাঁড়াল কেন্দ্র। বৃহস্পতিবার এই উদ্দেশ্যে 'পিএম কেয়ারস ফর চিলড্রেন' স্কিমের ঘোষণা করল মোদী সরকার। এই প্রকল্পের অধীনে কী কী সুবিধা দেওয়া হবে? এর আগেই অবশ্য চলতি বছর ২৯ মে, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এ বিষয়ে ঘোষণা করেছিলেন। তিনি বলেছিলেন, 'বিশ্বমারীতে বাবা-মা উভয়কে হারানো শিশুদের সহায়তা করবে কেন্দ্রীয় সরকার।' এই ধরনের শিশুদের সার্বিক যত্ন এবং সুরক্ষা নিশ্চিত করার জন্য গাইডলাইন তৈরি করেছে নারী ও শিশু উন্নয়ন মন্ত্রক।

কোন শিশুরা এই সুবিধা পাবে? কারা এই প্রকল্পের দায়িত্বে থাকবে? একাধিক স্তরের মধ্যে দিয়ে এই প্রকল্প কার্যকর করা হবে। তবে এর তত্ত্বাবধানের মূল দায়িত্ব থাকবে কেন্দ্রীয় নারী ও শিশুকল্যাণ মন্ত্রকের উপর। নির্দেশিকা অনুযায়ী, জেলা ম্যাজিস্ট্রেট (DM) যোজনা বাস্তবায়নের জন্য জেলা পর্যায়ে নোডাল কর্তৃপক্ষ হবেন। চাইল্ড ওয়েলফেয়ার কমিটির (CWC) সহায়তায় জেলা ম্যাজিস্ট্রেট প্রথমে শিশুর বর্ধিত পরিবার বা আত্মীয়স্বজনদের মাধ্যমে তার পুনর্বাসনের চেষ্টা করবেন। যদি এটি একটির সুযোগ না থাকে, সেক্ষেত্রে ৪ থেকে ১০ বছর বয়সী শিশুদের জুভেনাইল জাস্টিস আইন, ২০১৫-র অধীনে স্বীকৃত হোমে থাকার ব্যবস্থা করতে হবে।

'যদি পালক পরিবার CWC-র পর্যবেক্ষণে উপযুক্ত না হয়, অথবা শিশু (৪-১০ বছর বা তার বেশি বয়সী) তাঁদের সাথে বসবাস করতে ইচ্ছুক না হয়, সেক্ষেত্রে শিশুটি PM কেয়ারের অধীনে যোগ্য সুবিধাভোগী হিসাবে বিবেচিত হবে। স্কিম, বয়স এবং লিঙ্গ অনুযায়ী উপযুক্ত চাইল্ড কেয়ার ইনস্টিটিউশনে (CCI) পাঠাতে হবে,' নির্দেশিকায় বলা হয়েছে। ৬ বছরের কম বয়সী শিশুরা পরিপূরক পুষ্টি, প্রাক-বিদ্যালয় শিক্ষা/ ECCE (শৈশবকালীন শিশুদের শিক্ষা), টিকা, এবং স্বাস্থ্য পরীক্ষা-সংক্রান্ত অঙ্গনওয়াড়ি পরিষেবার সহায়তা পাবে।

এছাড়াও, ১০ বছরের বেশি বয়সী শিশুরা, যারা চাইল্ড কেয়ার ইনস্টিটিউশনে থাকতে ইচ্ছুক নয়, তাদের কেন্দ্রীয় সরকার পরিচালিত আবাসিক বিদ্যালয়, যেমন নেতাজি সুভাষ চাঁদ বসু আভাসিয়া বিদ্যালয়, কস্তুরবা গান্ধী বালিকা বিদ্যালয়, একলব্য মডেল স্কুল ইত্যাদিতে ভর্তি করতে হবে। জেলাশাসক অন্য কোনও উপযুক্ত আবাসিক বিদ্যালয়-ও নির্বাচন করতে পারেন। অ-প্রাতিষ্ঠানিক যত্নের জন্য, শিশুদের আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হবে (অভিভাবকের অ্যাকাউন্টে) এবং প্রাতিষ্ঠানিক পরিচর্যার শিশুদের জন্য, CCIs-কে একটি রক্ষণাবেক্ষণ অনুদান দেওয়া হবে, নির্দেশিকায় বলা হয়েছে।

উচ্চতর বা পেশাগত শিক্ষার জন্য, এডুকেশান লোন পেতে সহায়তা করা হবে এবং পিএম কেয়ারস অফ চিলড্রেন স্কিম থেকে সুদ প্রদান করা হবে। এছাড়াও, তাদের বেশ কয়েকটি বৃত্তি প্রদান করা হবে। নির্দেশিকা অনুসারে, পিএম কেয়ার্স থেকে একক পরিমাণ অর্থ সরাসরি সুবিধাভোগীদের পোস্ট অফিসের অ্যাকাউন্টে স্থানান্তরিত করা হবে।

এমন পরিমাণ অর্থ দেওয়া হবে যাতে শিশুর ১৮ বছর হতে হতে মোট টাকার পরিমাণ ১০ লক্ষ টাকা হয়ে যায়। 'শিশুরা ১৮ বছর বয়সে পৌঁছলে মাসিক উপবৃত্তি পাবে। আগে থেকে জমা হওয়া সেই ১০ লক্ষ টাকা বিনিয়োগ করেই এই বৃত্তি দেওয়া হবে। ২৩ বছর বয়স পর্যন্ত উপবৃত্তি দেওয়া হবে। ২৩ বছর পূর্ণ হলে তখন তারা সেই ১০ লক্ষ টাকা তুলতে পারবে,' বলা হয়েছে নির্দেশিকায়। এছাড়া তাদের আয়ুষ্মান ভারত স্কিমের (PM-JAY) আওতায় আনা হবে। ১৮ বছর বয়স পর্যন্ত ৫ লক্ষ টাকার স্বাস্থ্য বীমা কভারেজ দেওয়া হবে। প্রিমিয়াম দেবে PM CARES ফান্ড থেকে।