পর্যটকদের জন্য নতুন গাইডলাইন জারি করল সিকিম সরকার

পর্যটকদের জন্য নতুন গাইডলাইন জারি করল সিকিম সরকার

করোনা অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে। একটানা বাড়িতে বন্দিদশা আর বিধি নিষেধের গেরোয় আটকে যাওয়া জীবন থেকে মুক্তি পেতে অনেকেই ব্যাগপত্র গুছিয়ে বেরিয়ে পড়ার প্ল্যান সাজিয়ে ফেলেছেন। তবে করোনা অতিমরারির মধ্যে ঝক্কি এড়াতে খুব বেশি দূরে ঘুরতে যাওয়ার পরিকল্পনা করছেন না কেউই। আর তাই এ রাজ্যের পর্যটকদের কাছে ঘুরতে যাওয়ার সহজ ঠিকানা প্রতিবেশী রাজ্য সিকিম।

করোনা বিধিনিষেধ শিথিল হওয়ায় ফের পর্যটকদের জন্য সিকিমের দরজা খুলে গিয়েছে। কিন্তু তা সত্ত্বেও সিকিমে প্রবেশের অনুমতি পেতে গেলে বেশ কিছু শর্ত মানতে হবে ভিন রাজ্যের পর্যটকদের। সিকিম প্রশাসনের তরফে জুলাইয়ের প্রথম সপ্তাহে জানানো হয়েছে, যাঁদের করোনা টিকার দু'টি ডোজই নেওয়া রয়েছে, তাঁদের প্রবেশের ক্ষেত্রে কোনও বাধা থাকবে না।

শুধু চেক পোস্টে টিকা নেওয়ার সার্টিফিকেটটি দেখালেই হবে। ইন্ডিয়া টুডে-তে প্রকাশিত একটি প্রতিবেদন অনুযায়ী, আংশিক টিকাকরণ হয়েছে বা যাঁদের বয়স ১৮ বছরের নীচে, তাঁদেরও সিকিমে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হল। তবে এক্ষেত্রে দু'টি শর্ত মানতে হবে। প্রথমত, এই ধরনের পর্যটকদের দলে অন্তত দু' জনের টিকার দু'টি ডোজই নেওয়া থাকতে হবে। আর বাকিদের সিকিমে প্রবেশের সর্বাধিক ৭২ ঘণ্টার আগের আটি- পিসিআর টেস্টের নেগেটিভ রিপোর্ট দেখাতে হবে।

সিকিমের বাইরে থেকে কোনও যানবাহন নিয়ে গেলে চালকের টিকার দু'টি ডোজই নেওয়া থাকতে হবে। তা না হলে সিকিমে প্রবেশের দিন চালককে ফিরে যেতে হবে। এতদিন শুধু টিকার দু'টি ডোজ নেওয়া থাকলেই পর্যটকরা সিকিমে প্রবেশের অনুমতি পাচ্ছিলেন। কিন্তু রাজ্যের পর্যটন ব্যবসাকে চাঙ্গা করতেই বাধ্য হয়ে পর্যটকদের জন্য বিধিনিষেধ শিথিল করল সিকিম সরকার।

সিকিমে সাধারণ সময়ে প্রতি বছর প্রায় ১৪ লক্ষ পর্যটক যেতেন। কিন্তু ২০২০ সালে করোনা অতিমারির জেরে তা এক লক্ষে নেমে আসে। সিকিমের অর্থনীতি পর্যটন ব্যবসা নির্ভর। পর্যটকরা না আসায় রাজ্যের সাধারণ মানুষের একটা বড় অংশের উপার্জনও কার্যত বন্ধ হয়ে যায়। রাজ্যের কোষাগারেও বিপুল চাপ পড়ছিল। সিকিম সরকারের নতুন এই সিদ্ধান্তে পর্যটকরা যেমন খুশি, সেরকমই পর্যটন ব্যবসা এবং পর্যটকদের উপরে নির্ভরশীল সিকিমের বাসিন্দারাও সুদিন ফেরার আশায় বুক বাঁধছেন।