কড়া পদক্ষেপ নিল সুপ্রিম কোর্ট| বিজেপি, কংগ্রেস-সহ ৭ দলকে জরিমানা

কড়া পদক্ষেপ নিল সুপ্রিম কোর্ট| বিজেপি, কংগ্রেস-সহ ৭ দলকে জরিমানা

রাজনীতিকে অপরাধহীন' করতে বড় পদক্ষেপ নিল সুপ্রিম কোর্ট। নির্বাচনের আগে দলের নির্বাচিত প্রার্থীদের বিরুদ্ধে চলা সব ধরণের ফৌজদারি মামলার বিস্তারিতভাবে জনগণকে জানানোর নির্দেশ দিয়েছিল ভারতের সর্বোচ্চ আদালত। তবে সেই নির্দেশকে বুড়ো আঙুল দেখানোর মাশুল গুনতে হল দেশের রাজনৈতিক দলগুলোকে। নির্বাচনে প্রার্থীদের ফৌজদারি মামলা সংক্রান্ত তথ্য প্রকাশ্যে না জানানোর কারণে, মঙ্গলবার বিজেপি, কংগ্রেস, সিপিএম-সহ মোট নয়টি রাজনৈতিক দলকে আদালত অবমাননার দায়ে দোষী সাব্যস্ত করল সুপ্রিম কোর্ট।

সেইসঙ্গে, কংগ্রেস, বিজেপি এবং অন্যান্য পাঁচটি দলকে ১ লক্ষ টাকা করে জরিমানা করা হয়েছে। আর সিপিএম এবং জাতীয়তাবাদী কংগ্রেস পার্টি বা এনসিপি-র জরিমানা হয়েছে ৫ লক্ষ টাকা।২০২০ সালের বিহার নির্বাচনে প্রার্থীদের বিরুদ্ধে চলা একাধিক মামলা সম্পর্কে জনগণকে না জানানোর কারণে এনসিপিকে ৫ লাখের জরিমানা করল সুপ্রিম কোর্ট। শুধু এনসিপি নয়, তালিকায় আছে কংগ্রেস, বিজেপি, সিপিআই, জেডিইউ, আরজেডি ও এলজেপিকে এক লাখ করে জরিমানা করেছে আদালত।

তালিকার দিকে চোখ বোলালেই দেখা যায় সব রাজনৈতিক দলগুলোই প্রার্থীদের অপরাধের কথা জানায়নি জনগণকে। ২০১৩-তে সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ ছিল, নির্বাচনে যাদের প্রার্থী করছে দল তাদের বিরুদ্ধে যদি কোনো রকম অপরাধমূলক কেস থাকে তাহলে তা অন্তত তিনটি স্থানীয় ও তিনটি দেশীয় সংবাদমাধ্যমে বিজ্ঞপ্তি দিয়ে জানাতে হবে দলকে ও প্রার্থীকে। এমনকি ২০১৯ সালেও সেই পুরোনো রায়কে স্মরণ করিয়ে দিয়ে কড়া নির্দেশ জারি করে দেশের সর্বোচ্চ আদালত। কিন্তু তারপরেও টনক নড়েনি রাজনৈতিক দলগুলোর।

এবার তাই জরিমানার মতো কড়া পদক্ষেপ নিল সুপ্রিম কোর্ট। পাশাপাশি এই নথি জমা দেওয়ার ক্ষেত্রে একটি নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে বেঁধে দিল সুপ্রিম কোর্ট। ৪৮ ঘন্টার মধ্যে প্রার্থীদের অপরাধের পুঙ্খানুপুঙ্খ বিবরণ জানাতে হবে। অপরাধের সঙ্গে যুক্ত থাকা সত্ত্বেও কেন তাকে প্রার্থী করা হল সেই বিষয়ে দলকে জানানোর কথা বলা হল। মূলত, রাজনীতিকে 'অপরাধমুক্ত' করার লক্ষ্য নিয়েছিল সুপ্রিম কোর্ট। অপরাধীদের অপরাধের বিবরণ তুলে দেওয়ার ফলে মানুষের কাছে প্রার্থী পছন্দের ক্ষেত্রে একটি উল্লেখযোগ্য বিষয় যোগ হবে।

জনগণ জানতে পারবেন তারা যাদের পছন্দ করছেন তাদের বিরুদ্ধে চলা বিভিন্ন অপরাধের বিবরণ। নির্বাচনে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলগুলোর প্রার্থীদের মধ্যে বহু নেতা-নেত্রীর বিরুদ্ধে আছে ভয়ংকর সব অভিযোগ। খুন, খুনের চেষ্টা, ধর্ষণ, শ্লীলতাহানি, রাহাজানির মতো অপরাধ থাকে। তারপরেও তারা ভোটভিক্ষা করতে এসে 'শান্তি'র প্রতিশ্রুতি দিয়ে থাকে। সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি এনভি রামনের নেতৃত্বে তিন সদস্যের বেঞ্চে চলা এই সংক্রান্ত এক মামলার শুনানিতে এমন রায় দেয়। এছাড়াও আরও জানানো হয়, বর্তমানে দলের বিধায়ক ও সাংসদদের বিরুদ্ধে চলা কোনো অপরাধের মামলা হাইকোর্টের নির্দেশ ছাড়া রাজ্য সরকার তুলতে পারবে না।