পাকিস্তানিদের ভিসা দেওয়া বন্ধ করল ইসলামিক দেশ সংযুক্ত আরব আমিরশাহী

পাকিস্তানিদের ভিসা দেওয়া বন্ধ করল ইসলামিক দেশ সংযুক্ত আরব আমিরশাহী

সৌদি আরবের পর এবার সংযুক্ত আরব আমিরশাহীর  রোষের মুখে পাকিস্তান । বিশেষ করে ইজরায়েল-আমিরশাহী সম্পর্ক নিয়ে পাক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের বিরূপ মন্তব্যের পর থেকে ইসলামাবাদের উপর খাপ্পা আবু ধাবি। এবার পাকিস্তানিদের ভিসা দেওয়া বন্ধ করল দেশটি।

বুধবার এই খবরের সত্যতা স্বীকার করেছে পাকিস্তানের বিদেশদপ্তর। যদিও ইসলামাবাদের দাবি, করোনা আবহেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।ইমরান খান প্রশাসনের রাতের ঘুম উড়িয়ে ভারত এবং ইজরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক যত ভাল হচ্ছে, পাকিস্তানের সঙ্গে সম্পর্ক ততই খারাপ হচ্ছে সংযুক্ত আরব আমিরশাহীর।

তার জেরে আমিরশাহীতে বসবাস করা পাক নাগরিকদের রাতের ঘুম উড়েছে। তাঁদের উপর বাড়ছে পুলিশি নজরদারি ও হয়রানি। কর্মসূত্রে কয়েক লক্ষ পাকিস্তানি এখন দুবাই, আবু ধাবি-সহ আমিরশাহীর নানা শহরে বাস করেন। কিন্তু সন্ত্রাসবাদ, মাদক পাচার, জেহাদ, সামাজিক অপরাধে বহু পাক নাগরিক জড়িয়ে পড়ায় পাকিস্তানিদের ভিসা দেওয়ার ক্ষেত্রে কড়া বিধিনিষেধ জারি করেছে আমিরশাহী সরকার। প্রতিদিনই কয়েক হাজার পাকিস্তানির ভিসার আবেদন খারিজ করছে আমিরশাহী।

বিভিন্ন অপরাধে শুধুমাত্র আবু ধাবির আল সুয়েইহান জেলেই বন্দি ৫ হাজার পাক নাগরিক।কয়েকদিন আগে মকিং পৌরহিত্যে ইজরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করা নিয়ে আবু ধাবির বিরুদ্ধে সুর ছড়িয়েছিলেন ইমরান খান। এর ফলে তিক্ততা এসেছে দুই দেশের মধ্যে। তবে এটাই একমাত্র কারণ নয়।

জেহাদি সংগঠনগুলিকে মদত দেওয়া নিয়েও পাকিস্তানের উপর বিরক্ত আমিরশাহী। খালিজ টাইমস খবরের কাগজ ও আল জাজিরা টিভি চ্যানেল জানিয়েছে, ২০১৭ সালে আফগানিস্তানের কান্দাহারে সন্ত্রাসবাদী হামলায় নিহত হন আমিরশাহির পাঁচজন শীর্ষ কূটনীতিক।

সম্প্রতি জানা গিয়েছে, ওই হামলায় জড়িত ছিল পাক গুটচর সংস্থা আইএসআইয়ের মদতপুষ্ট হাক্কানি নেটওয়ার্ক। অর্থাত্‍ পরোক্ষে হামলা হয়েছিল আইএসআইয়ের নির্দেশেই। কিন্তু সেবার গোটা ঘটনার দায় ইরানের উপর চাপিয়েছিল ইসলামাবাদ। এবার সত্যি সামনে আসতে পাকিস্তানকে রীতিমতো তুলোধোনা করেছে সংযুক্ত আরব আমিরশাহী।