অবৈধ ১ কোটি ১০ লাখ অভিবাসী দের নাগরিকত্ব দেবে আমেরিকা

অবৈধ ১ কোটি ১০ লাখ অভিবাসী দের নাগরিকত্ব দেবে আমেরিকা

মাসের পর মাস, বছরের পর বছর সীমান্তে অপেক্ষা। প্রিয়জন বিচ্ছিন্ন হয়ে চলে গিয়েছে ওপারে। একলা সঙ্গী সীমান্তের কাঁটাতারের জালে আটকে পড়েছেন। এটাই পরিচিত দৃশ্য আমেরিকা-মেক্সিকোর (US-Mexico border) সীমান্তে। শরণার্থীদের প্রবেশ ঠেকাতে সেখানে পাঁচিল তোলার সিদ্ধান্তে এককাট্টা ছিলেন সদ্যপ্রাক্তন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প (Donald Trump)।

কিন্তু বর্তমান প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন (Joe Biden) হোয়াইট হাউসে প্রবেশের আগেই এই সংক্রান্ত নিয়ম শিথিল করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলে। সেইমতো প্রক্রিয়া শুরু হল শুক্রবার থেকে। সীমান্তে আটকে থাকা ব্যক্তিদের মার্কিন ভূখণ্ডে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হল। এভাবেই ট্রাম্পের সিদ্ধান্ত বাতিলের কাজে হাত দিলেন বাইডেন। অবৈধ ১ কোটি ১০ লাখ অভিবাসীর নাগরিকত্ব দেওয়ার পরিকল্পনা করছে বাইডেন প্রশাসন। এ সুযোগ তৈরি করতে একটি বিল উত্থাপন করেছেন ডেমোক্র্যাটরা।

বৃহস্পতিবার প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের অভিবাসন পরিকল্পনার অংশ হিসেবে বিলটি উত্থাপন করা হয়। বিলে বলা হয়েছে, এই বিরাটসংখ্যক অভিবাসীকে আমেরিকায় স্থায়ীভাবে বসবাসের সুযোগ না দেওয়ার কোনো যৌক্তিকতা নেই। তারা সেই সুযোগ দিতেই বিলটি এনেছেন। এসব অভিবাসীদের নাগরিকত্ব দেওয়ার জন্য অভিবাসন নীতি সংস্কার ‘দীর্ঘদিনের চাওয়া’ বলে উল্লেখ করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট বাইডেন।

তিনি বলেছেন, পূর্বসূরি ডোনাল্ড ট্রাম্পের ‘ভুল নীতি’ থেকে সরে আসার লক্ষ্য ছিল তাদের। বাইডেন প্রশাসনের আমলে উত্থাপিত নতুন বিলে লাখ লাখ অভিবাসীর আইনগত সুরক্ষা দেওয়ার বিষয়টিকে জোর দেওয়া হয়েছে। এসব অভিবাসীর বেশিরভাগ মধ্য আমেরিকা ও মেক্সিকো থেকে যাওয়া, যারা অনেক বছর ধরে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস করছেন। তাদের ব্যবসা, বাড়ি, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে জন্ম নেওয়া সন্তান ও নাতি-নাতনিও রয়েছে। এক বিবৃতিতে বাইডেন বলেছেন, অভিবাসন আমাদের শক্তির যে অপরিমেয় উৎস এবং এটা আমাদের জাতির জন্য অপরিহার্য।

অভিবাসন নীতি সংস্কারকে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ উল্লেখ করে তিনি আরো বলেন, অভিবাসন নীতিগুলো উপযোগী করার প্রথম গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ এটি। এটা পরিবারের সদস্যদের পুনর্মিলন ঘটাবে, আমাদের অর্থনীতির উন্নতি ও শক্তিশালী করবে এবং আমাদের নিরাপত্তা রক্ষা করবে। নতুন এই বিলের প্রধান লক্ষ্য হলো, আগামী আট বছরে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে কাগজপত্রহীন অবস্থায় বসবাস ও কর্মরত ১ কোটি ১০ লাখ অভিবাসীকে নাগরিকত্ব প্রদানের সুযোগ তৈরি করা।

এই অভিবাসীদের মধ্যে কৃষিশ্রমিক এবং শিশুকালে পরিবারের সঙ্গে আসা ব্যক্তিদের (ড্রিমার্স) দ্রুত স্থায়ী বসবাসের সুযোগ তৈরি করা হবে অথবা বৈধভাবে কাজ করার সুযোগ দিতে তাদের দেওয়া হবে গ্রিন কার্ড। এই বিলের প্রধান সমর্থক ডেমোক্রেটিক দলের সিনেটর বব মেনডেজ বলেছেন, কাগজপত্রহীন ১ কোটি ১০ লাখ অভিবাসীর সবাইকে অন্ধকার থেকে বাইরে আনার এখনই উপযুক্ত সময়। তিনি বলেন, এই বিল অভিবাসীদের জীবনমানের যেমন উন্নয়ন ঘটাবে, তেমনি উন্নতি হবে দেশের অর্থনীতি ও অগ্রযাত্রার।

 আসলে মেক্সিকো থেকে আমেরিকায় ঢুকে পড়ার প্রবণতা শরণার্থীদের বহু পুরনো। এভাবে বহু মেক্সিকান মার্কিন ছত্রছায়ায় নিজেদের জীবনে খানিকটা উন্নতি করেছেন। তবে ২০১৯ থেকে এ নিয়ে কড়া সিদ্ধান্ত নেন তত্‍কালীন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। মেক্সিকো থেকে অনুপ্রবেশ রুখতে সীমান্তের পাঁচিল তোলা সংক্রান্ত বিলে সই করায় সেখানেই আটকে পড়েন বহু মানুষ।এমনও দেখা গিয়েছে, শিশুর থেকে মা, বাবাকে বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া হয়েছে। এভাবে ২ জনের মৃত্যুও হয়েছে। তবে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের প্রচারেই ডেমোক্র্যাট শিবিরের প্রার্থী জো বাইডেন এসবের বিরোধিতা করেছিলেন। ভোটে জিতে পদে বসে তিনি ট্রাম্পের সই করা সেই বিল ধাপে ধাপে বাতিলের পথেই হাঁটছেন। শুক্রবার থেকে মেক্সিকো সীমান্তে অপেক্ষারত শরণার্থীদের জন্য আমেরিকার দুয়ার খুলে দেওয়ার সিদ্ধান্তই তার প্রমাণ।