জীবন্ত রাম সীতার পুজো হল কলকাতায়, সঙ্গে ছিল ছাপ্পান্ন রকমের ভোগের বন্দোবস্ত

জীবন্ত রাম সীতার পুজো  হল কলকাতায়,  সঙ্গে ছিল ছাপ্পান্ন রকমের ভোগের বন্দোবস্ত

আজবাংলা   যখন বুধবার অযোধ্যায় রামের মন্দিরের প্রধানমন্ত্রী শিলাবিন্যাস করছিলেন, ঠিক একই সময়ে দক্ষিণ কলকাতার একটি মন্দিরে পূজিত হল ভগবান রাম ও সীতা। দক্ষিণ কলকাতার ওই রাম মন্দিরের উদ্যোক্তা ছিলেন বিজেপি নেতা রাকেশ সিং। তবে দক্ষিণ কলকাতার অরফ্যানগঞ্জ রোডের ওই রাম মন্দিরে ছিল এক বিশেষ চমক। সেই মন্দিরে পূজিত হল একেবারে জীবন্ত রাম-সীতা। অর্থাৎ মূর্তি পুজোর বদলে ছোট্ট রাম ও সীতাক। ঠিক অনেকটা কুমারী পুজোর ধাঁচের। 

কলকাতার এই রাম মন্দিরে সেদিন অযোধ্যার মতনই বেলকাঠ ও ঘি দিয়ে যজ্ঞ করা হয়। ওখানকার পঞ্চম শ্রেণীর দুই বালক ও বালিকাকে রাম ও সীতা করা হয়েছিল। সেদিন ভোর হতে না হতেই মন্দিরের প্রস্তুতিপর্ব শুরু হয়ে যায়। পুজো শেষ হতেই ওখানে উপস্থিত সকলে বালক ও বালিকার অর্থাৎ রাম সীতার চরণে হাত দিয়ে প্রনাম করেন। কলকাতার এই মন্দিরে পোলাও থেকে শুরু করে আলুর দম, মিষ্টি, লাড্ডু ছাড়াও ছাপ্পান্ন রকম ভোগের বন্দোবস্ত করা হয়েছিল। পুজোয় অংশ নেওয়া প্রত্যেকে করোনার নিয়মবিধি মেনেই সেখানে উপস্থিত হয়েছিলেন। দশ থেকে বারো বছরের মধ্যে প্রায় জনাকুড়ি কচিকাঁচা দর্শক হিসেবে উপস্থিত ছিল। সামাজিক দূরত্ববিধি মেনে তাদের রামের পুজো দেখানো হয়। পুজোর পর শেষে কিছু আতশবাজি পুড়িয়ে আনন্দ করেন ওখানকার লোকেরা। কলকাতার এই রাম পুজোর জন্য কোনও রকম অশান্তি যাতে না হয় সেইকারনে পুলিশও উপস্থিত ছিল। তবে পুলিশের মধ্যে থেকেই একজন দুজন এই মন্দিরের কিছু দৃশ্য ক্যামেরাবন্দি করার জন্য ঝামেলা হয় রাকেশের অনুগামীরাদের সাথে, কিনটু পরে তা ঠিক হয়ে যায়।

পুজো প্রসঙ্গে ওখানকার উদ্যোক্তা বিজেপি নেতা রাকেশ সিং বলেন, "৫০০ বছর পর আজ হিন্দুদের স্বপ্ন পূরণ হচ্ছে। সেজন্য আজ প্রত্যেক হিন্দুর কাছে আনন্দের দিন। তাই মূর্তির এখানে আমরা জলজ্যান্ত মানুষকে রাম ঠাকুর হিসেবে পুজো করছি। তার ভোগের জন্য ৫৬ রকম পদের আয়োজন করা হয়েছে।" রামপুজোয় হাজির শিশুদের মুখেও শোনা কে 'জয় শ্রী রাম' স্লোগান। রাকেশ বলেন, "এখানে শিশুদের নিয়ে এসেছি তার কারণ এটা ঐতিহাসিক দিন। আগামী প্রজন্ম যাতে দিনটিকে স্মরণ করে রাখে ও হিন্দু ধর্মের সংজ্ঞা বুঝতে পারে সে জন্যই এরকম আয়োজন।"