শিশিরে খালি পায়ে হাঁটলে পেতে পারেন অধিক উপকারিতা

শিশিরে খালি পায়ে হাঁটলে পেতে পারেন অধিক উপকারিতা

সিনেমায় বৃষ্টিতে ভেজা গানের যেমন একটা আমেজ আছে, ভোরবেলা শিশিরে ভেজা ঘাসের ওপর হাঁটার আমেজ জীবনে তার চেয়ে কোনো অংশে কম নয়। সবুজ ঘাসে খালি পায়ে হাঁটুন। সকালে প্রাতঃ ভ্রমণে বেরিয়ে ব্যায়াম করার সময় কিছুক্ষণ ঘাসের উপর দিয়ে হাঁটতে বা দৌড়ানোর চেষ্টা করুন।কারণ পায়ের উপর দিয়ে হাঁটলে দেহের উপকার হয় এবং শরীর ও মন দুটোই ভালো থাকে। তাছাড়া ওজন কমাতে ও সুস্থ থাকতে হাঁটা সবচাইতে ভালো শরীরচর্চা। ঘাসের উপর হাঁটার সুফলগুলো জেনে নিন এক নজরে-

হৃদপিণ্ড ভালো থাকে : যারা নিয়মিত হাঁটাহাঁটি করেন তাদের হার্টের অসুখ ও স্ট্রোকের ঝুঁকি অনেকাংশে কমে যায়। এছাড়া হাঁটার সময় শরীর থেকে ক্ষতিকর কোলেস্টেরল এলডিআর কমে যায় ও ভালো কোলেস্টেরল এইচডিআর-এর মাত্রা বেড়ে যায়। এছাড়া শরীরের রক্তচলাচল স্বাভাবিক থাকে।

দৃষ্টিশক্তির উন্নতি ঘটে : একাধিক গবেষণায় একথা প্রমাণিত হয়েছে যে প্রতিদিন ভোর বেলা, খালি পায়ে ঘাসের উপর হাঁটলে পায়ের তলায় থাকা একাধিক প্রেসার পয়েন্টে চাপ পরতে শুরু করে। এই সব প্রেসার পয়েন্টের সঙ্গে চোখের সরাসরি যোগ রয়েছে। ফলে পায়ের তলায় যত চাপ পরে, তত দৃষ্টিশক্তির উন্নতি ঘটতে শুরু করে।

মানসিক চাপ দূর করে : ভোরবেলা সকালে খালি পায়ে ঘাসের উপর দিয়ে হাঁটলে মন খুব শান্ত থাকে ও সকালের পরিষ্কার বাতাস, মৃদু সূর্যের আলো ও সবুজ পরিবেশ সবকিছু মিলিয়েই মনকে চাঙ্গা রাখার চেষ্টা করে। 

অনিদ্রা রোধ করে : অনিদ্রা রোধ করতে বা ঘুমের উন্নতি ঘটাতে প্রতিদিন সকালে প্রায় ৩০ মিনিটের জন্য ঘাসের উপর হাঁটুন। এতে অনিদ্রা দূর হবে।

 

স্মৃতিশক্তি বাড়ে : বয়স বাড়ার সঙ্গে সাধারণত মানুষের স্মৃতিশক্তি কমে যায়। ৬৫ বা এর বেশি বয়সীদের মধ্যে প্রতি ১৪ জনের মধ্যে ১ জনের স্মৃতিভ্রম হয়। আর ৮০ বা এর বেশি বয়সীদের ৬ জনের মধ্যে ১ জনের দেখা দেয় স্মৃতি হারানোর রোগ। নিয়মিত বিভিন্ন ব্যায়াম অনুশীলনে মস্তিষ্কে রক্তচলাচল বাড়ে। এতে স্মৃতিহানি হওয়ার ঝুঁকি ৪০ ভাগ পর্যন্ত কমে যায়। 

ডায়বেটিস কমায় : যাদের ডায়াবেটিস রয়েছে ডাক্তারের পরামর্শে তারা নিয়মিত হাঁটাহাঁটি করেন। এতে অবশ্য তারা উপকার পান। এতে টাইপ টু ডায়াবেটিসের ঝুঁকিও কমে যায়।

রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতার উন্নতি ঘটে : আমাদের পায়ের তলায় থাকা একাধিক সেন্সারি নার্ভ, খালি পায়ে হাঁটার সময় অ্যাকটিভ হয়ে গিয়ে শরীরের ভিতরে পজেটিভ এনার্জি তৈরি করতে শুরু করে। ফলে ধীরে ধীরে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা এতটাই শক্তিশালী হয়ে ওঠে যে নানাবিধ সংক্রমমের আশঙ্কা কমে যায়।