নগাঁওয়ে পুকুর থেকে যুবকের দেহ উদ্ধার, গ্রেফতার অভিযুক্ত দম্পতি

নগাঁওয়ে পুকুর থেকে যুবকের দেহ উদ্ধার, গ্রেফতার অভিযুক্ত দম্পতি

নগাঁও    মধ্য অসমের নগাঁও জেলার সামাগুড়ি বিধানসভা এলাকার আমনিতে গতকাল বুধবার একটি পুকুর থেকে অজ্ঞাতপরিচয় জনৈক যুবকের মৃতদেহ উদ্ধার হয়। পরবর্তীতে পুলিশি তদন্তে মৃতদেহটি কলিয়াবরের উলুবনি থানার অন্তর্গত রহঢলা গ্ৰামের বছর ২৬-এর গোবানি কোঁওরের বলে শনাক্ত করে। এদিকে তদন্তের গতি বাড়িয়ে গোবিনকে খুন করা হয়েছে বলে নিশ্চিত হয়ে পুলিশ এর সঙ্গে জড়িত অভিযোগে এক দম্পতিকে গ্ৰেফতার করতে সক্ষম হয়েছে।

ঘটনার বিবরণে প্রকাশ, আমনির মহারাজ হোটেলের পেছনে বুধবার একটি পুকুর থেকে বস্তাবন্দি গোবানি কোঁওরের মৃতদেহ উদ্ধার হয়েছিল। ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে পুলিশ তদন্তে নামে। খোঁজখবর নিয়ে টেলেঙা বস্তির এক দম্পতিকে আটক করে পুলিশ। পুলিশি জেরায় ওই দম্পতি নাকি স্বীকার করেছে গোবিনকে তাদের ঘরে খুন করা হয়েছে।

পুলিশের তদন্তকারী আধিকারিক জানান, আমনির সন্তোষ হোটেলের মূল রাধুঁনি এবং মহারাজ হোটেলের পেছনে টেলেঙা বস্তির বাসিন্দা শরত্‍ ডেকার স্ত্ৰী জয়ন্তী ডেকার সঙ্গে দীৰ্ঘদিন ধরে গোবিনের অবৈধ প্ৰেমের সম্পর্ক ছিল। মঙ্গলবার বিকেলে স্বামী শরত্‍ (৩০) বাড়িতে না থাকার সুযোগে গোবিন তাদের বাড়িতে এসেছিল।

রাত প্ৰায় ১০ টা নাগাদ স্বামী শরত্‍ বাড়িতে ফিরে আসে। ঘরের ভেতর টেবিলে দুটো খালি গ্লাস দেখতে পায় শরত্‍। সে নিশ্চিত হয় গ্লাসে মদ খাওয়া হয়েছিল। সন্দেহের বশে শরত্‍ ঘরে তালাশি চালিয়ে গোবিনকে খাটের নীচ লুকিয়ে থাকতে দেখে। শরত্‍ রাগে হিতাহিত জ্ঞান হারিয়ে রশি দিয়ে গোবিনের হাত পা বেঁধে বাঁশের লাঠি দিয়ে বেধম মারতে থাকে। মারের চোটে তাদের ঘরেই প্রাণ হারিয়ে ফেলে গোবিন।

এর পর প্রমাণ লোপাটের জন্য গোবিনের মৃতদেহ শরত্‍ ডেকা এবং তার স্ত্ৰী জয়ন্তী ডেকা উভয়ে মিলে দুটো বস্তায় ভরে রাত প্ৰায় দুটো নাগাদ বাড়ির পাশে পুকুরে গিয়ে ফেলে আসে। পুলিশি জেরায় শরত্‍-দম্পতি এ কথা স্বীকার করেছে। পুলিশ দুজনকে ভারতীয় ফৌজদারি দণ্ডবিধির উপযুক্ত ধারায় গ্রেফতার করেছে। আজ তাদের নগাঁওয়ে মুখ্য বিচারবিভাগীয় ম্যাজিস্ট্রেটের আদালতে পেশ করেছে পুলিশ।