উত্তরবঙ্গের বিখ্যাত মাকরা পাড়া কালী মন্দির

উত্তরবঙ্গের বিখ্যাত মাকরা পাড়া কালী মন্দির

একদিকে বাংলাদেশে ইসকন সহ দুর্গামন্ডপে হামলা ও তছনছ করার অভিযোগে উত্তাল গোটা বিশ্ব। অন্যদিকে ভারত-ভুটান সীমান্তের পাহাড়ের কোলে স্বপ্নাদেশে তৈরি উত্তরবঙ্গের বিখ্যাত মাকড়াপাড়া কালী মন্দিরের ৭১ বছর ধরে বিদ্যুতের খরচ বহন করছে প্রতিবেশী দেশ রয়াল গভঃ অফ ভুটান। মন্দির থেকে প্রতিবেশী দেশের দুরত্ব মাত্র ৫০ মিটার। তাই সম্পূর্ণ অন্য ধর্মে বিশ্বাসী হয়েও ভুটান নাগরিকদের কাছেও মাকড়াপাড়া কালীমন্দির এক পবিত্র ধর্মীয় স্থান।

এই মন্দিরের নিত্য পুজো থেকে শুরু করে বার্ষিক পুজো সবেতেই সার্বিক উপস্থিতি থাকে ভুটানের নাগরিকদের। বার্ষিক পুজোতে এই পুজোয় প্রচুর সংখ্যায় হাজির থাকেন ভুটানের রাজধানী থিম্পুর জনসাধারণ থেকে শুরু করে সে দেশের পারো, সামসিং, ফুন্টশোলিং এর ভুটিয়া নাগরিকেরা। আলিপুরদুয়ার জেলার মাদারিহাট-বীড়পাড়া ব্লকের ভারত-ভুটান সীমান্তের একেবারে শেষ প্রান্তে মাকড়া পাড়া চা বাগানে অবস্থিত উত্তরবঙ্গের বিখ্যাত জাগ্রত এই কালী মন্দির।

এই কালী মন্দিরে প্রতিদিন গড়ে হাজার খানেক ভক্ত হাজির হয় মায়ের পুজো দিতে। কালি পুজোর দিন লক্ষাধিক ভক্তের সমাবেশ হয় জাগ্রত এই কালী মন্দিরে।যদিও করোনা সংক্রমণের জন্য গত দুই বছর ধরে ভুটানের এবং দেশের দর্শনার্থীদের জন্য বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে। ১৯৫০ সালে মাকড়াপাড়া চা বাগানের তৎকালীন ম্যানেজার মায়ের স্বপ্নাদেশ পেয়ে এই পুজোর প্রচলন করেন।

সে সময় এই স্থায়ী মন্দির ছিল না।মাকড়াপাড়া বাজারে ব্রিটিশ আমলের এক প্রাচীন বট গাছের নিচে এই পুজো করা হতো। কয়েক বছর পর হাতির হামলায় সেই মাটির প্রতিমা ভেঙে যায়। এরপর মাকড়াপাড়া চা বাগান কর্তৃপক্ষ ভুটান পাহাড়ের কোলে বর্তমান স্থানে এই মন্দির স্থাপন করেন। এই মন্দিরে প্রথম পুরোহিত ছিলেন বিশ্বেশ্বর চক্রবর্তী। এরপর বংশপরম্পরায় বিশ্বেশ্বর চক্রবর্তীর পরিবার এই পুজো করে আসছেন। বর্তমানে এই মন্দিরে পুজো করছেন বিশ্বেশ্বর চক্রবর্তীর নাতি সন্দীপ চক্রবর্তী।পুরোহিত সন্দীপ চক্রবর্তী বলেন এর আগে এই মন্দিরের পুরোহিত ছিলেন আমার বাবা প্রদীপ চক্রবর্তী।

আমরা তিন পুরুষ ধরে এই মন্দিরের পুজো করে আসছি। এই মন্দিরে প্রতিদিন তিন বেলা পুজো হয়। প্রতিদিন এই মন্দিরে অগণিত দেশ-বিদেশের ভক্ত ও পর্যটকরা বেড়াতে আসেন।এই মন্দিরে কয়েক লাখ মানুষের মানত রয়েছে। হাজার, হাজার ভুটান নাগরিক এই মন্দিরে পুজো দিতে আসেন। এই মন্দিরের বিদ্যুতের খরচ বহন করছে প্রতিবেশী দেশ ভুটান সরকার। সন্দীপ চক্রবর্তী বলেন আগে এই মন্দিরে কালী পুজোর সময় পাঁঠা বলি হতো। বার্ষিক কালীপুজোতে চারশ-পাঁচশ বলি হতো। কিন্তু গত চার বছর ধরে এই মন্দিরে বলি প্রথা বন্ধ হয়ে গেছে। আগামী অমাবস্যার রাতে এই মন্দিরের বার্ষিক কালীপুজা। সেই মোতাবেক মন্দিরে পুজোর প্রস্তুতি চলছে।