মাস্টার ব্লাস্টার শচীন তেণ্ডুলকরকে 'চূড়ান্ত' অপমান যুব কংগ্রেসের

মাস্টার ব্লাস্টার শচীন তেণ্ডুলকরকে 'চূড়ান্ত' অপমান যুব কংগ্রেসের

খেলা ছাড়লেও জনপ্রিয়তায় বিন্ধুমাত্র ভাঁটা পড়েনি। এখনও অর্ধেক ভারতবাসীর চোখের মণি। তিনি সচিন তেল্ডুলকর। কিন্তু কৃষক আন্দোলন ইস্যুতে রিহানা আর গ্রেটা থুনবার্গের টুইটের পরিপ্রেক্ষিতে সোশ্যাল মিডিয়ায় একতার বার্তা দেওয়ার পরই নেটিজেনরা তার বিপক্ষে বলতেও শুরু করেছে। কিন্তু সবকিছু ছাপিয়ে গেল কেরল কংগ্রেসের আচরণ। যা হার মানাল অশ্লীলতাকেও।

মাস্টার ব্লাস্টার শচীন তেণ্ডুলকরকে(Sachin Tendulkar)। কেরলের (Kerala) কোচিতে (Kochi) তাঁর কাট আউটে কালো রংয়ের তেল মাখানোর অভিযোগ উঠল যুব কংগ্রেস কর্মীদের বিরুদ্ধে।  শুক্রবার কেরল যুব কংগ্রেসের একদল সদস্য সচিন তেল্ডুলকারের ছবি নিয়ে আন্দোলনকারী কৃষকদের সমর্থনে একটি মিছিল করেন কোচিতে। সেখানে সচিন তেল্ডুলকারের ছবিতে কালো রঙের তেল ঢেলে দেওয়া হয়।

পোস্টার কাট আউটটি ছিঁড়ে ফেলে হয় বলেও অভিযোগ উঠেছে। কেরল কংগ্রেসের এই আচরণের নিন্দা জানিয়েছেন শচিন ভক্তরা। তাঁদের কথায় ক্রিকেটের ভগবানকে চূড়ান্ত অমপান করা হয়েছে। বুধবার কৃষক আন্দোলনকে সমর্থন জানিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করেছিলেন মার্কিন পপস্টার রিহানা। তারপরই দিল্লির উপকণ্টে চলা কৃষক আন্দোলন নিয়ে একে একে মুখ খুলতে থাকেন আন্তর্জাতিক স্তরের সেলিব্রিটিরা।

এই পরিস্থিতিতে একতার ও ভারত বিরোধী প্রচার না করার আবেদন জানিয়েছে সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি বিজ্ঞপ্তি জারি করেছিল বিদেশ মন্ত্রক। দিনের শেষে কেন্দ্রীয় সরকারের পাশে দাঁড়িয়ে একতার বার্তা দিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি পোস্ট করেন সচিন তেন্ডুলকর। তিনি লিখেছিলেন ভারতের বিষয়ে সমস্ত সিদ্ধান্ত ভারতীয়রাই নেবে। কিন্তু তারপর থেকেই একদল নেটিজেন সচিনের বিরুদ্ধে মুখ খুলতে শুরু করেন। অনেকেই জানতে চেয়েছিলেন কৃষক আন্দোলন নিয়ে তাঁর কী মতামত। তবে তারপর থেকে বিষয়টি নিয়ে মুখে কুলুপ এঁটেছেন মাস্টার ব্লাস্টার।  

এর আগে কৃষকদের আন্দোলনের পাশে দাঁড়িয়ে ভারতের বিরুদ্ধে সরব হয়েছিলেন বিশ্বখ্যাত পপস্টার রিহানা, কিশোরী পরিবেশকর্মী গ্রেটা থুনবার্গ থেকে প্রাক্তন পর্নস্টার মিয়া খালিফা। টুইটারে কৃষক বিক্ষোভের প্রচার শুরু করেন তাঁরা। পরবর্তীতে তার বিরুদ্ধেই পালটা সোচ্চার হন ভারতীয় ক্রীড়াবিদ ও বিনোদুনিয়ার তারকারা। বিরাট কোহলি, অজিঙ্কা রাহানে, রবি শাস্ত্রী, অক্ষয় কুমার, লতা মঙ্গেশকর, সুনীল শেট্টি, করণ জোহরের মতো তারকাদের পাশাপাশি শচীনও টুইট করেন।

মাস্টার ব্লাস্টার টুইট করেন, ''ভারতের সার্বভৌমত্বের সঙ্গে কোনও আপস নয়। বিদেশি শক্তি দর্শক হতে পারে, দেশের কোনও ঘটনার অংশীদার নয়। ভারতীয়রা দেশকে ভাল করেই চেনেন এবং দেশের সম্পর্কে নিজেরাই সিদ্ধান্ত নিতে পারেন। আমাদের সকলের ঐক‌্যবদ্ধ থাকা উচিত।'' কিন্তু অনেকেই এরপর শচীনেরও সমালোচনা করতে শুরু করেন। তারপরই ঘটল কোচির এই ঘটনা।