হু হু করে ছড়াচ্ছে সংক্রমণ, জেনে নিন কি বলছেন বিশেষজ্ঞরা

হু হু করে ছড়াচ্ছে সংক্রমণ, জেনে নিন কি বলছেন বিশেষজ্ঞরা

করোনার দ্বিতীয় ঢেউ প্রায় সুনামির মতো সব হিসেব ওলটপালট করে দিয়েছে। বিশেষজ্ঞেরা আশা করেছিলেন, হার্ড ইমিউনিটি গড়ে উঠলে কোভিড সংক্রমণের হাত থেকে রক্ষা পাওয়া যাবে। কিন্তু দাবানলের মতো কোভিডের দ্বিতীয় ঢেউ ছড়িয়ে পড়ছে, মহারাষ্ট্রে প্রতি ৩ মিনিটে ১ জন কোভিড আক্রান্ত মারা যাচ্ছেন, ঘণ্টায় প্রায় ৩ হাজার মানুষ আক্রান্ত হচ্ছেন। দিল্লিতে ২৪ ঘণ্টায় সংক্রমণ হার বেড়েছে প্রায় ৬ শতাংশ। এই অবস্থায় স্বাভাবিক ভাবেই প্রশ্ন উঠছে, হার্ড ইমিউনিটি কি আদৌ সম্ভব? না কি তা কেবলমাত্র গবেষণাপত্র আর আলোচনাতেই সীমাবদ্ধ? 

তবে বিশেষজ্ঞরা নতুন নতুন সমস্ত লক্ষণগুলির বিষয়ে সতর্ক করেছেন। তাঁরা জানিয়েছেন, যে এগুলিই চিন্তার কারণ হয়ে উঠছে। তবে সর্বাধিক সাধারণ লক্ষণগুলির মধ্যে রয়েছে কাশি, জ্বর, সর্দি, শ্বাসকষ্ট, স্বাদ বা গন্ধ না পাওয়া, পেশী ব্যথা বা শরীরের ব্যথা, মাথা ব্যথা, গলা ফোলাভাব ইত্যাদি। তবে আরও বেশি কিছু নতুন নতুন লক্ষণ ধরা পড়েছে এবং আরও সংক্রামক হিসাবে প্রমাণিত হচ্ছে করোনার এই নতুন স্টেন।

করোনার ভাইরাস সংক্রমণের নতুন লক্ষণগুলি কী কী?

করোনার দ্বিতীয় তরঙ্গ দাবানলের মতো ছড়িয়ে পড়ছে এবং সমস্ত বয়সের মানুষকে সংক্রামিত করছে। তবে চিকিত্‍সকদের মতে যুব সমাজের আক্রান্তের সংখ্যা এবারে বেশি। এদিকে, দেশটি এর প্রভাবের মুখোমুখি হচ্ছে, তবে নতুন লক্ষণগুলি আবারও মানুষকে আতঙ্কিত করেছে। এর বিশেষত্ব হ'ল আপনার শরীর লালা উত্পাদন করতে ব্যর্থ হয়, যার ফলে গলা শুকিয়ে আসবে এবং আক্রান্ত ব্যক্তিদের খাবার চিবানো বা সঠিকভাবে কথা বলতে অসুবিধা হতে পারে।প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়েছে যে বধিরতা বা শ্রবণশক্তি হ্রাস, মাংসপেশীর ব্যথা, ত্বকের সংক্রমণ, দৃষ্টিশক্তি খারাপ হওয়া, পেট খারাপ হওয়া এবং কনজেক্টিভাইটিস বা গোলাপী চোখের মতো অন্যান্য নির্দিষ্ট লক্ষণগুলি খুব কমই উদ্ভাসিত হয় এবং এটি নতুন স্ট্রেনে বেশি দেখা যায়। আজকাল আমরা কোভিডের নতুন স্ট্রেন এবং জ্বর, পেশী ব্যথা, শুকনো কাশি এবং গন্ধযুক্ত ক্ষমতা হ্রাস করার অভিযোগের মতো কিছু নতুন লক্ষণ দেখতে পাচ্ছি। স্বাদের পাশাপাশি এটি রোগীদের মধ্যেও পাওয়া যায়। কনজেক্টিভাইটিস ছাড়াও গলা, মাথা ব্যথা, ফুসকুড়ি, পেট খারাপ হওয়া, আঙুল এবং অঙ্গুষ্ঠের বর্ণের পরিবর্তনও করোনার নতুন লক্ষণ। "

কী এই হার্ড ইমিউনিটি

  বিশেষজ্ঞরা জানালেন, ভাইরাস সংক্রমণের পরে প্রত্যেকের শরীরেই একটা অ্যান্টিবডি তৈরি হয় যা পরবর্তী কালে এই একই সংক্রমণ প্রতিরোধ করে। ধরা যাক কোনও একটি অঞ্চলে ১ হাজার মানুষের বসবাস। সেখানে যদি ৭০০–৮০০ জনের সংক্রমণ হয়, তা হলে সেই অঞ্চলের বাকি মানুষদের সংক্রমণের ঝুঁকি কমে যাবে। কারণ, যাঁদের এক বার সংক্রমণ হয়েছে তাঁদের যেমন রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বেড়ে নিজেরা নিরাপদ থাকবেন, তেমনই অন্যদের মধ্যেও অসুখটা তাঁরা আর ছড়াবেন না।কোভিড সংক্রমণের প্রথম পর্যায়ে মুম্বাইয়ের ধরাভি বস্তিতে হার্ড ইমিউনিটি তৈরির ব্যাপারে আশা করা হয়েছিল। ওই অঞ্চলে সমীক্ষা করে প্রায় ৫৫ শতাংশ মানুষের শরীরে কোভিড অ্যান্টিবডি পাওয়া যায়। কিন্তু বেশির ভাগ ক্ষেত্রে কয়েক মাসের মধ্যেই অ্যান্টিবডি কার্যকরিতা হারিয়ে ফেলেছে। এক বার কোভিড সংক্রমণের পরেও দ্বিতীয় বার কোভিড সংক্রমণ আটকানো যাচ্ছে না।একই ভাইরাস বার বার কোনও গোষ্ঠীর মধ্যে সংক্রমিত হলে হার্ড ইমিউনিটি তৈরি হয়। কিন্তু অতিমারি সৃষ্টিকারী কোভিড ১৯ আরএনএ ভাইরাস নিজেকে এমন ভাবে বদলে ফেলছে যে, হার্ড ইমিউনিটি তৈরির পথে তা বাধা হয়ে দাঁড়াচ্ছে। এই কারণেই এক জন মানুষ দ্বিতীয় বারও করোনা আক্রান্ত হচ্ছেন। 

হার্ড ইমিউনিটির জন্য গণহারে টিকা দেওয়া দরকার

আমাদের দেশের বিশাল জনসংখ্যার মধ্যে রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা গড়ে তোলার একমাত্র উপায় টিকা দেওয়া। অন্তত তেমনটাই দাবি মেডিসিনের চিকিৎসক দের।  দেশের ৬০ শতাংশের বেশি মানুষকে টিকা দেওয়া হলে কোভিড সংক্রমণ অনেকাংশে প্রতিরোধ করা যাবে বলেও দাবি করেছেন মেডিসিনের চিকিৎসকরা । , “কোভিডের টিকা দিয়েই হার্ড ইমিউনিটি তৈরি করা যায়। তাই ১৮ বছরের ঊর্ধ্বে প্রত্যেকের জন্যই কোভিড টিকা বাধ্যতামূলক করা উচিত। প্রসঙ্গত কোভিডের থেকেও বেশি সংক্রামক হাম আটকাতে ৯৫ শতাংশ শিশুকে টিকা দেওয়ায় হার্ড ইমিউনিটি তৈরি হয়েছে। পোলিওর সংক্রমণ আটকানো গিয়েছে ৮০ শতাংশ শিশুকে টিকা দেওয়ার পরে। সুতরাং কোভিডের বিরুদ্ধে হার্ড ইমিউনিটি গড়ে তুলতে টিকা নেওয়াই একমাত্র পথ।”