ভারতের এই এলাকার বাসিন্দারা আজ কথা বলেন সংস্কৃতই

ভারতের এই এলাকার বাসিন্দারা আজ কথা বলেন সংস্কৃতই

পৃথিবীতে প্রতিনিয়ত নানা আশ্চর্যের ঘটনা ঘটে আসছে। এর কতটুকুই বা জানি আমরা। দেশের মধ্যেই রয়েছে নানা অজানা ইতিহাস, অদেখা স্থান, তা আজও 'দেখা হয় নাই চক্ষু মেলিয়া'। সেরকমই একটি গ্রামের সন্ধান পাওয়া গিয়েছে। আশ্চর্যের বিষয় হল এই গ্রামে একটি ভাষারই চল রয়েছে। তা হল সংস্কৃত। একুশ শতকে দাঁড়িয়েও প্রাচীন এই ভাষাতেই কথা বলেন গ্রামের বাসিন্দারা।

হিন্দি, ইংরেজি, কন্নড় কোনও ভাষাই আধিপত্য তো দূর, সমাজেই স্থান পায়নি। গোটা গ্রামে মূল ভাষা একটাই। তা হল- সংস্কৃত। তাই সংস্কৃত না জেনে এই গ্রামে গেলে একজন অনুবাদক লাগবেই। অন্য ভাষা জানা থাকলেও সেই ভাষাতে কথা কেউ বলবে না। কর্ণাটকের সিমোগা জেলার মাথুর গ্রামের এই ঘটনা সকলেরই প্রায় অজানা। এর শুরুটাও বেশ অদ্ভূত, কিন্তু তা প্রাচীন নয়।

১৯৮১ সালে অর্থাৎ প্রায় ৪০ বছর আগে মাথুরে ১০ দিনের একটি সংস্কৃত ওয়ার্কশপ চালু করে সংস্কৃতি ভারতী নামে একটি সংস্থা। গ্রামের গণ্যমান্য ব্যক্তিত্বরা ছাড়াও পড়শি রাজ্য উদুপি থেকেও অনেকে যোগদান করেছিলেন এই অনুষ্ঠানে। সেখান থেকেই এই ভাষার প্রতি অন্যরকম ভালবাসা তৈরি হয় গ্রামবাসীদের। তাঁরা ঠিক করেন দেশের এই বিলুপ্ত প্রায় ভাষাটিকে সযত্নে লালন করবেন তাঁরা।

এরপরই গোটা গ্রামে এই সিদ্ধান্ত ঘোষণা হয়। সকলে ভালবাসার সঙ্গে ভাষা লালনের এই কাজে লেগে পড়েন। এই গ্রামে বসবাসকারীরা বেশিরভাগই ব্রাক্ষ্মণ সম্প্রদায়ের। প্রায় ৬০০ বছর আগে তাঁরা কেরল থেকে এই গ্রামে আসেন। গ্রামের মাঝে রয়েছে একটি মন্দির। পাঠশালাও আছে। ১০ বছর বয়স থেকেই বেদ এবং অন্যান্য পুঁথি পড়ুয়াদের শেখান সংস্কৃত পণ্ডিতেরা।

গ্রামের মানুষেরা তো সংস্কৃতে কথা বলেনই। দেওয়ালের পোস্টার থেকে দোকানের নামও লেখা থাকে এই ভাষাতেই। এই গ্রামে ঘোরার জন্য খুব সুন্দর সুন্দর জায়গা রয়েছে। পর্যটনের কেন্দ্রবিন্দু না হলেও যারা অফবিট লোকেশন খোঁজেন তাঁদের জন্য বেশ ভাল জায়গা। তুঙ্গা নদীর তীরের এই গ্রাম আদতে ছবির মতো সুন্দর। প্রাচীন ভাষার এমন চর্চা ও পীঠস্থান দেখে অজানাকে জেনে আসা যেতে পারে।