স্ত্রীর মৃত্যুর ৫দিনের মাথায় প্রয়াত কিংবদন্তি মিলখা সিংহ

স্ত্রীর মৃত্যুর ৫দিনের মাথায় প্রয়াত কিংবদন্তি মিলখা সিংহ

প্রয়াত দেশের কিংবদন্তি অ্যাথলিট 'উড়ন্ত শিখ' মিলখা সিং (Milkha Singh)। শুক্রবার রাত সাড়ে ১১টা নাগাদ শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। মৃত্যুকালে বয়স হয়েছিল ৯১ বছর। গভীর শোকপ্রকাশ করেন রাষ্ট্রপতি রামনাথ কোবিন্দ, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ, ক্রীড়ামন্ত্রী কিরন রিজিজু, পঞ্জাবের মুখ্যমন্ত্রী অমৃন্দর সিং, বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়-সহ দেশ-বিদেশের বহু বিশিষ্টজনেরা। গত ২০ মে কোভিড (CoronaVirus) আক্রান্ত হয়েছিলেন মিলখা। তাঁর বাড়ির দুই পরিচারক করোনা সংক্রমিত হয়েছিলেন।

বাড়ির অন্যান্যদের করোনা পরীক্ষার ফল নেগেটিভ এলেও, মিলখার রিপোর্ট পজিটিভ আসে। হাসপাতাল থেকে সুস্থ হয়ে বাড়িও ফিরে এসেছিলেন।করোনা থেকে সুস্থ হওয়ার পরও বিভিন্ন শারীরিক সমস্যায় ভুগছিলেন মিলখা। এর মধ্যেই দিন পাঁচেক আগে স্ত্রী নির্মল কৌর প্রয়াত হন।তিনিও কোভিডে আক্রান্ত হয়েছিলেন।বৃহস্পতিবার রাত থেকে ফের অসুস্থ হয়ে পড়েন মিলখা। রক্তে কমে যায় অক্সিজেনের মাত্রা। গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন তিনি। সঙ্গে ছিল জ্বর। চণ্ডীগড়ের একটি হাসপাতালের আইসিইউ-তে রাখা হয় তাঁকে।

শুক্রবার সন্ধে থেকে তাঁর শারীরিক অবস্থার আরও অবনতি হয়। শেষপর্যন্ত আর যুঝতে পারেনি তাঁর শরীর। পাঞ্জাবের গোবিন্দপুর গ্রামে হতদরিদ্র এক পরিবারে মিলখার জন্ম। দারিদ্র্য এতটাই যে অন্য কিছু ভাবার অবকাশ কারও ছিল না। কোনওভাবে বেঁচে থাকাটাই ছিল বড় ব্যাপার। ১৯৫৮ সালের কমনওয়েলথ গেমসে দেশকে সোনার পদক এনে দেন মিলখা। রোম অলিম্পিকের (১৯৬০) ফাইনালে উঠেছিলেন।

ফোটো ফিনিশে অল্পের জন্য অলিম্পিক পদক হাতছাড়া হয় তাঁর। কিন্তু ৪০০ মিটারে তাঁর সেই দৌড় ভারতীয় অ্যাথলেটিক্সকে পৌঁছে দিয়েছিল এক অন্য উচ্চতায়। এশিয়ান গেমস থেকে জেতেন চার-চারটি সোনা। মিলখার জীবন নিয়ে পরবর্তীকালে তৈরি হয় বায়োপিক 'ভাগ মিলখা ভাগ' (Bhaag Milkha Bhaag)। মিলখার ভূমিকায় অভিনয় করেন ফারহান আখতার। সেই ছবিতে দেখানো হয়, দেশভাগের সাম্প্রদায়িক দাঙ্গায় কিশোর মিলখার চোখের সামনেই মেরে ফেলা হচ্ছে মা-বাবা এবং ভাইবোনদের। জীবনের শেষ মুহূর্তের ঠিক আগে মিলখার বাবা চিত্‍কার করে বলেন, 'ভাগ মিলখা ভাগ'। জীবন বাঁচাতে দৌড় শুরু করেন মিলখা। সেই দৌড় থেমে গেল শুক্রবার।