নদীয়ায় পণের দাবীতে বধূ নির্যাতনের অভিযোগ আইনজীবীর বিরুদ্ধে

নদীয়ায়  পণের দাবীতে বধূ নির্যাতনের অভিযোগ আইনজীবীর বিরুদ্ধে

মলয় দে    শান্তিপুর  4 বছর আগে শান্তিপুর ব্লকের গোবিন্দপুর নিবাসী শম্পা দাস এর সাথে ফুলিয়া দোয়ারপার জয়নগরের বাসিন্দা পেশায় আইনজীবী মনোজ কুমার দাসের বিবাহ সম্পন্ন হয়েছিলো হিন্দু শাস্ত্র মতে। শম্পা দাসের অভিযোগ, বিবাহ পরবর্তী সময় থেকে পণের দাবীতে নিয়মিত মানসিক এবং শারীরিক অত্যাচার চালাত, স্বামী মনোজ কুমার দাস, শাশুড়ি ঋতুরানী দাস এবং শশুর মষিম রঞ্জন দাস।

বিছানায় নয়! মেঝেতে শুতে দেয় আমাকে,  গত 29 .06. 2021 তারিখ বিকেল সাড়ে চারটে নাগাদ, অত্যাচারের মাত্রা চূড়ান্ত হয়ে দাঁড়ায়, পণ্যের দাবীতে শাশুড়ি অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ শুরু করে,  আমি প্রতিবাদ জানালে স্বামী প্রথমে লোহার রড দিয়ে মাথায় আঘাত করে, মাটিতে লুটিয়ে পড়লে কোমরের বেল্ট খুলে অমানবিক ভাবে মারতে থাকে, এবং বাড়ি থেকে বেরিয়ে যেতে বলে।

রক্তাক্ত অবস্থায় শান্তিপুর স্টেট জেনারেল হাসপাতালে পৌঁছালে সেখান থেকে আমার মা উদ্ধার করে আমাকে। যাবতীয় ঘটনার বর্ণনা দিয়ে সেই দিনই শান্তিপুর থানায় লিখিত অভিযোগ করি। মা সুলেখা দাস, এ প্রসঙ্গে বলেন, মোবাইলে বিভিন্ন মেসেজ দেখে মেয়ে আমাকে প্রায়ই বলতো জামাইয়ের একাধিক বিবাহ বহির্ভূত সম্পর্ক আছে, অর্থনৈতিকভাবে আমাদের দুর্বলতা থাকার কারণে মেয়েকে মানিয়ে চলার পরামর্শ দিতাম, কিন্তু প্রায়ই তার শরীরে নির্যাতনের চিহ্ন দেখে সহ্যের সীমা লঙ্গন করেছিলো সেদিন।

প্রতিবেশী চায়না সিকদার জানান, ছোটবেলা থেকে শম্পা আমাদের হাতে বড় হয়েছে, তাই একবার শ্বশুর-শাশুড়িকে জানানোর জন্য গিয়েছিলাম তাদের বাড়িতে, সেখানে আমার সামনে শম্পাকে এবং আমাকে বেধড়ক মারধর করে জামাই এবং তার বাবা। আইনজীবী জামাই এবং মুহুরীর কাজ করা শশুর আইনের প্রভাব খাটিয়ে বলেন, থানা পুলিশ আমার কিছু করতে পারবে না।

এলাকাবাসীদের পক্ষ থেকে প্রশ্ন উঠছে, তাহলে কি আইনের পেশার সাথে যুক্ত থাকলে  শত অন্যায় করলেও রেহাই পাওয়া যায়! আমরা জানার চেষ্টা করেছিলাম আইনজীবী মনোজ বাবুর বক্তব্য কিন্তু একাধিকবার তাকে ফোন করে পাওয়া যায়নি, তবে তার পিতা মষিম রঞ্জন দাস, জানান এটা পারিবারিক বিষয়, একসাথে বসে মিটিয়ে ফেলা হবে।