পশ্চিমী ঝঞ্ঝা প্রভাবে রাজ্যে হাওয়া বদলের ইঙ্গিত আবহাওয়া দফতরের

পশ্চিমী ঝঞ্ঝা প্রভাবে রাজ্যে হাওয়া বদলের ইঙ্গিত আবহাওয়া দফতরের

এখনও শীতের আমেজ রয়েছে শহরে। তাপমাত্রার (Temperature In Kolkata) সামান্য হেরফের হলেও বৃহস্পতিবারও কনকনে শীতের আমেজ গায়ে মেখেই ঘুম ভেঙেছে কলকাতার। তবে শীতের মেয়াদ আর বেশিক্ষণ নয়। আগামী ২৪ ঘণ্টা পর থেকেই রাজ্যে হাওয়া বদলের ইঙ্গিত মিলেছে। আবহাওয়া দফতর জানাচ্ছে, শুক্রবার থেকেই বাড়বে রাতের তাপমাত্রা।

নতুন বছরে ঠান্ডা কমে যাওয়ার খবরে মনখারাপ শীতপ্রেমী বঙ্গবাসীর।  আলিপুর আবহাওয়া দফতর জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার অবধি প্রবল শীত অনুভূত হবে শহরে। বুধবারের তুলনায় সামান্য বেড়ে এদিন শহরের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রয়েছে ১৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস। যা স্বাভাবিকের থেকে এক ডিগ্রি কম। সর্বাধিক তাপমাত্রা থাকার কথা ২৪.৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

যা স্বাভাবিকের থেকে এক ডিগ্রি কম। বাতাসে আপেক্ষিক আর্দ্রতার পরিমাণ ৯৯ শতাংশ। ফলে বেলার দিকে গরম অনুভূত হবে শহরে। ৭ জানুয়ারি অর্থাৎ শুক্রবার থেকেই বাড়বে শহরের তাপমাত্রা। যদিও সেভাবে ফিকে হবে না উত্তুরে হাওয়ার দাপট। আবহাওয়া দফতর জানিয়েছে, আগামী পাঁচ দিন বাংলায় বৃষ্টিপাতের কোনও সম্ভাবনা নেই।  আলিপুর আবহাওয়া দফতরের পূর্বাঞ্চলীয় অধিকর্তা সঞ্জীব বন্দ্যোপাধ্যায় জানিয়েছেন, উত্তর পশ্চিম ভারতে প্রবেশ করতে চলেছে পশ্চিমী ঝঞ্ঝা।

ফলে আবারও বৃষ্টি হওয়ার সম্ভাবনা থেকেই যাচ্ছে। আর আকাশ মেঘাচ্ছন্ন হলে স্বাভাবিকভাবেই আবারও বাড়তে পারে তাপমাত্রা। তাছাড়া আগামী তিনদিন রাজ্যের বেশ কয়েকটি জেলায় ঘন কুয়াশার আস্তরণ দেখা যাবে। যার জেরে তাপমাত্রা কমতে পারে। কোন কোন জেলায় থাকবে কুয়াশার দাপট? হাওয়া অফিস জানিয়েছে, দুই বর্ধমান, বীরভূম, মুর্শিদাবাদ, নদিয়ায় আগামী তিনদিন ঘন কুয়াশা দেখা যাবে।

বাকি জেলাগুলিতেও তুলনামূলকভাবে হালকা কুয়াশা থাকবে।  উল্লেখ্য, গতবছর ডিসেম্বর মাঝামাঝি সময় জাঁকিয়ে শীত উপভোগ করেছে রাজ্যবাসী। কিন্তু, পরবর্তীতে পশ্চিমী ঝঞ্ঝার জেরে একাধিকবার বাধা পেয়েছে উত্তুরে হাওয়া। ঝঞ্ঝা ঘূর্ণিঝড়ের রূপ নেওয়ার ফলে শেষ পর্যন্ত 'শীতঘুমে' চলে গিয়েছিল শীত। ১১-১২ ডিগ্রি ছুঁয়েও দীর্ঘায়িত হয়নি শীতের আমেজ। যদিও ভূতত্ত্ববিদ সুজীব কর আগেই জানিয়েছিলেন, এ বছর একাধিকবার বৃষ্টিপাতের জেরে তাপমাত্রা বাড়লেও, ফেব্রুয়ারি মাসের শেষ অবধি শীতের আমেজ বজায় থাকবে।

বছরের শেষটা ভারী তুষারপাতেই আবৃত ছিল পাহাড়ের বিস্তীর্ণ এলাকা। ফের একবার দার্জিলিং-সান্দাকফু সহ পাহাড়ে ভারী তুষারপাতের সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানিয়েছেন আবহাওয়াবিদরা। অন্যদিকে, দিল্লি এবং NCR -এর বিস্তীর্ণ এলাকায় হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টি হয়েছে। মৌসম ভবনের পূর্বাভাস অনুযায়ী, বৃষ্টিপাত হয়েছে বাহাদুরগড়, গাজিয়াবাদ, ইন্দিরাপুরম, নয়ডা, দাদরি, গ্রেটার নয়ডা, গুরুগ্রাম, ফরিদাবাদ, মানেসরে। জম্মু-কাশ্মীরে ব্যাপক তুষারপাত হয়েছে গত ২৪ ঘণ্টায়। উত্তরকাশী, চামোলি, রুদ্রপ্রয়াগ, পিথোরাগড় এবং বাঘেশ্বরেও ভারী তুষারপাত হয়েছে বলে খবর।