ছুটি কাটানোর সবচেয়ে সুন্দর জায়গা পুরুলিয়ার অযোধ্যা পাহাড়

ছুটি কাটানোর সবচেয়ে সুন্দর  জায়গা পুরুলিয়ার অযোধ্যা পাহাড়

অযোধ্যা পাহাড় সপ্তাহ শেষে ছুটি কাটানোর একটি অসাধারন জায়গা হল অযোধ্যা পাহাড় ও আশেপাশের অঞ্চল। অযোধ্যাপাহাড়ের চূড়া পুরুলিয়া থেকে ৪২ কিলোমিটার, কলিকাতা থেকে ৩৩২ কিলোমিটার, দুর্গাপুর থেকে ১৬৫ কিলোমিটার, রাঁচি থেকে ৯০ কিলোমিটার,বাঁকুড়া থেকে ১২২ কিলোমিটার দুরে অবস্হিত।এটি ছোটো নাগপুর মালভূমির অন্তর্গত। এটি ছোটো নাগপুর মালভূমির পূর্বদিকে অবস্হিত।

ইহা পুরুলিয়া জেলার উত্তর পশ্চিম প্রান্তে অবস্হিত। পশ্চিমবঙ্গে পাহাড় ও জঙ্গল দিয়ে বেষ্ঠিত একটি সবুজ,শান্ত, অসাধারণ ছবির মতো ঘোরার জায়গা এই অযোধ্যা পাহাড়। অযোধ্যা পাহাড়ের সর্বোচ্চ শৃঙ্গ হল চামতাবুড়ু(৭১২ মিটার)।এর কাছাকাছি জনপদ বলতে আসে বাগমুন্ডি। অযো্ধ্য পাহাড়ের পশ্চিমে রয়েছে সুবর্ণরেখা নদী। উত্তরে রয়েছে কংসাবতী নদী ও কুমারী নদী। পর্বত আরোহণের প্রাথমিক শিক্ষার জন্য অযোধ্যা পাহাড়ের গুরুত্ব অসীম। অযোধ্যা পাহাড়ে যাওয়ার জন্য তিনটি পথ ব্যবহার করা হয়। একটি শিরকাবাদ হয়ে, একটি ঝালদা, আরেকটি বাগমুন্ডি হয়ে।

অযোধ্যা পাহাড়, থাকার সুন্দর ব্যবস্হা রয়েছে। বিশেষ করে পশ্চিমবঙ্গ বন বিভাগের রিসোর্টগুলি বা ইকো টুরিজম এর বাংলোগুলি এক কথায় অসাধারণ। প্রকৃতির সতেজ ও প্রাণবন্ততা এখানে অন্য মাত্রা যোগ করেছে। অযোধ্যা পাহাড়ের আশেপাশেই কয়েকটি সুন্দর ঘোরার জায়গা রয়েছে। এখানে সবুজ পাহাড়, পাহাড়ের পাদদেশ, জঙ্গল, লেক সবই রয়েছে।

শীত ও বর্ষায় ঘোরার উপযুক্ত স্হান।অযোধ্যা পাহাড়ের পৌরানিক বৈশিষ্ঠ্য কথিত আছে স্বয়ং রামচন্দ্র বনবাস কাটানোর সময় কয়েকদিনের জন্য অযোধ্যা পাহাড়ে কাটিয়ে গিয়েছিলেন। একদিন সীতার জল তৃষ্ঠা পায়। এদিকে কাছে কোথাও জলাধার নেই। তখন রামচন্দ্র তীর নিক্ষেপ করে আড়াআড়ি পাথড়ে ফাটল ধরিয়ে জল বের করেছিলেন। তাই এখানকার জলাধারটির নাম হয়েছে সীতাকুন্ড।

 জায়গাটা সারা বছরই সবুজ ও শান্তিপূর্ণ থাকে। গরমে সর্বাধিক তাপমাত্রা ৪৪-৪৬ ডিগ্রীতে চলে যায়। আবার পাশাপাশি শীতে তা ২-৩ ডিগ্রীতে নেমে যায়। তবে বর্ষার অযোধ্যা পাহাড়ের সৌন্দর্য্যের সাথে কোনো তুলনা চলে না। এছাড়াও বসন্তকালে পলাশ, শিমুলের লাল ফুলের রঙে রাঙা হয়ে ওঠে পাহাড়ের পাদদেশ।

অযোধ্যা গ্রাম পঞ্চায়েতের অন্তর্গত দুর্গাবেরা রাঙ্গা গ্রামের কাছাকাছি অবস্হিত। সমদ্রপৃষ্ঠ থেকে এর উচ্চতা ২০০০ ফুট।  অযোধ্যা পাহাড়ের কাছাকাছি অবস্হিত এটি একটি অসাধারণ জায়গা। এটি অযোধ্যা পাহাড়ের চূড়া থেকে ৭ কিলোমিটার দূরে ও পুরুলিয়া থেকে ৫৯ কিলোমিটার দূরে অবস্হিত।

দুর্গা বেরী পরিষ্কার নীল রঙের স্বচ্ছ জলাধার। এটি পাখিদের স্বর্গ রাজ্যও। এটি ঘোড়ার জন্য একটি আদর্শ জায়গা। পর্যটকরা এখানে বোটিং করতে পারে।টুর্গা বঁধ ও ঝর্ণা বাগমুন্ডির কাছাকাছি অবস্হিত। এটি একটি অসাধারণ জায়গা। এটি অযোধ্যা পাহাড়ের চূড়া থেকে ১৮ কিলোমিটার দূরে ও বাগমুন্ডি থেকে ২ কিলোমিটার দূরে অবস্হিত।

এটি ঘোড়ার জন্য একটি আদর্শ জায়গা। বাগমুন্ডির অদূরে অবস্হিত টুর্গা বাঁধ একটি সুন্দর ঘোড়ার জায়গা। দুদিকের অসাধারণ চিত্র সৌন্দর্য্য মনকে পুলকিত করে তোলে। এছাড়াও টুর্গা ঝর্ণাও দেখার।পুরুলিয়া জেলার দক্ষিণ দিকে বাগমুন্ডি অবস্হিত।

এখানে প্রচুর পর্যটক আসেন অযোধ্যা পাহাড়,বাগমুন্ডি, মর্গুমা বাঁধ দেখতে। অযোধ্যা পাহাড়ের একটি আকর্ষণীয় জায়গা হল বাগমুন্ডি। এটি অযোধ্যা পাহাড়ের চূড়া থেকে ১৬ কিলোমিটার দূরে অবস্হিত। এটি অন্যতম জনপ্রিয় ঘোরার জায়গা। শুধু তাই নয়। এটি পর্বত আরোহন শিক্ষার একটি গুরুত্বপূর্ণ স্হান।

অযোধ্যা পাহাড়ের কাছাকাছি অবস্হিত বামনি ঝর্ণা একটি অসাধারণ জায়গা। এটি অযোধ্যা পাহাড় থেকে ১০ কিলোমিটার ও বাগমুন্ডি থেকে ১৪ কিলোমিটার দূরে অবস্হিত। এটি বাগমুন্ডি ও অযোধ্যা পাহাড়ের মাঝামাঝি জায়গায় পড়ে। এর দুদিকের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য্য অসাধারণ।

 কিভাবে গড় অযোধ্যা পাহাড় যাবেন?

কলিকাতা থেকে পুরুলিয়া যাওয়ার কিছু ট্রেন আছে। সেখান থেকে গাড়ীতে পৌছে যেতে পারবেন বাগমুন্ডি বা অযোধ্যা পাহাড়। এখানে কতগুলি ট্রেনের সবিস্তরে বর্ণনা করা হল:-

১)রূপসী বংলা এক্সপ্রেস ১২৮৮৩..( সুপার ফাস্ট): সাঁতরাগাছি..সকাল ৬.২৫ মিনিট-পুরুলিয়া সকাল ১১.৫০ মিনিট,সপ্তাহে প্রতি দিন,সময় ৫.২৫ ঘন্টা।

২)লাল মাটি এক্সপ্রেস ১২৮৬৫..(সুপার ফাস্ট)..হাওড়া..সকাল ৮.৩০ মিনিট-পুরুলিয়া সকাল ২.১০,সপ্তাহে  ২ দিন,সময় ৩.৫৪ ঘন্টা।

৩) হাওড়া রাঁচী ইন্টার সিটি এক্সপ্রেস ০৮৬২৭( সুপার ফাস্ট): কলিকাতা দুপুর ১২.৫০ মিনিট-পুরুলিয়া, সন্ধ্যা ৬.২৯,সপ্তাহে ৩ দিন,সময় ৫.৩৯ ঘন্টা।

4)নওগাঁও এক্সপ্রেস ১৫৩৬০..(এক্সপ্রেস):নিউ জলপাইগুড়ি..রাত ১১.৫০ মিনিট-পুরুলিয়া সকাল ১২.০৮ মিনিট,সপ্তাহে ১ দিন, সময় ১২.১৮ ঘন্টা।

এছাড়াও আরো অনেক ট্রেন আছে।যেগুলি বিকেল ও রাতের। গাড়ীতে অযোধ্যা পাহাড় বলরামপুরের কাছাকাছি। দক্ষিণ বঙ্গের যে কোনো জায়গা থেকে সহজে আপনি যেতে পারবেন। কলিকাতা থেকে সরাসরি বাসে পুরুলিয়া বা বলরামপুর। পুরুলিয়া থেকে গাড়ীতে সময় লাগে ১.১৫ ঘন্টা এয়ারপোর্ট নিকটবর্তী এয়ারপোর্ট রাঁচীর বিরসা মুন্ডা থেকে অযোধ্যা পাহাড়ের দুরত্ব ৮৭ কিলোমিটার দূরে। থাকার জায়গা অযোধ্যা পাহাড়ের ওপরে ও বাগমুন্ডিতে থাকার সুন্দর ব্যবস্হা রয়েছে।

বিশেষ করে পশ্চিমবঙ্গ বন বিভাগের রিসোর্টগুলি বা কো টুরিজমের থাকার জায়গা এক কথায় অসাধারণ। তবে এখানে গেলে আগে থেকে বুক করে যাবেন। নিকটবর্তী ঘোরার জায়গাঃ মুরগুমা,রাঁচী,কল্যানেশ্বরী মন্দির, মুকুটমণিপুর, ঝলিমিলি, বাঁকুড়া, ঘাটশিলা, জামসেদপুর,পরশনাথ,শুশনিয়া পাহাড়, গিরিডি, বিষ্ণুপুর ইত্যাদী।