জাপানের নতুন প্রধানমন্ত্রী হচ্ছেন ইওশিহিদে সুগা

জাপানের নতুন প্রধানমন্ত্রী হচ্ছেন ইওশিহিদে সুগা

আজবাংলা  জল্পনায় ইতি টেনে জাপানের পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী হতে চলেছেন ক্যাবিনেট সেক্রেটারি ইওশিহিদে সুগা। সোমবার জাপানের শাসকদল ‘লিবারেল ডেমোক্র্যাটিক পার্টি’র প্রধান হিসেবে নির্বাচিত হন তিনি। নির্বাচনে সর্বোচ্চ ভোট পেয়েছেন তিনি।আগামী বুধবার পার্লামেন্টের নির্বাচনের পরই সুগাকে জাপান সরকারের নেতা হিসেবে ঘোষণা করা হবে।

ভোটে জেতার পর সুগা বলেন, “করোনা মহামারীর আবহে জাপানের জাতীয় রাজনীতিতে শূন্যতা একেবারেই কাম্য নয়।” শিনজো আবের দীর্ঘ দিনের ঘনিষ্ঠ বন্ধু বলে পরিচিত সুগা তাঁর পূর্বসূরীর দেখানো পথে তাঁর নীতি অনুসরণ করেই চলবেন বলে জানিয়েছেন। সবাইকে চমকে দিয়ে শারীরিক অসুস্থতার জাপানের প্রধানমন্ত্রী পদে সম্প্রতি ইস্তফা দেন শিনজো আবে।

জাপানের প্রধানমন্ত্রী পদের দৌড়ে ছিলেন প্রাক্তন বিদেশমন্ত্রী ফুমিও কিশিদা এবং প্রাক্তন প্রতিরক্ষামন্ত্রী শিগেরু ইশিবা। তিনজনের মধ্যে সুগা পেয়েছেন ৩৭৭টি ভোট, কিশিদা পেয়েছেন ৮৯টি ভোট এবং ইশিবা পেয়েছেন ৬৮টি ভোট।বিশ্লেষকদের মতে, জাপানের রাজনীতিতে ইওশিহিদে সুগার উথ্থান চমকপ্রদ।

দ্বীপরাষ্ট্রটির রাজনীতির রাশ বরাবরই কুলীন রাজনেতাদের হাতে থেকেছে। সেই জায়গায় দাঁড়িয়ে স্ট্রবেরি চাষীর ছেলে ও উত্তর জাপানের প্রত্যন্ত গ্রামের স্কুল শিক্ষক সুগার  প্রধানমন্ত্রী পদে আসীন হওয়া সত্যিই বিস্ময় জাগায়। বয়সে আবের থেকেও বড় ৭১ বছরের সুগা বরাবরই প্রচারের আলো থেকে দূরে থেকেছেন।

তবে বিচক্ষণ রাজনেতা বলে তাঁর খ্যাতি রয়েছে। আবের সঙ্গে দীর্ঘদিন কাজ করার ফলে তাঁর নীতিই মেনে চলবেন সুগা বলে মনে করা হচ্ছে।শিনজো আবেকে ছাড়াই আবের প্রশাসন পরিচালনা করতে পারবেন বলেই ইউশিহিদে সুগাকে তাঁর উত্তরসূরি হিসেবে নির্বাচিত করা হয়েছে। কর্মঠ ও বাস্তববাদী নেতা হিসেবে সুগার উজ্জ্বল ভাবমূর্তি রয়েছে। এলডিপির মধ্যেও সুগা যথেষ্ট জনপ্রিয়।

আবের উত্তরসূরি পদের জন্য নির্বাচনে অংশ নিয়ে পরাজিত হন কিশিহিদা ফুমিও। তিনি আবের প্রশাসনে পররাষ্ট্রমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেছিলেন। সুগার তুলনায় ৬৩ বছরের ফুমিওর আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক অভিজ্ঞতা বেশি। তবে তাঁর প্রতি বিদায়ী শিনজো আবের সমর্থন কম ছিল।

আরেক পরাজিত প্রার্থী শিগেরু ইশিবা এলডিপির প্রাক্তন মহাসচিব। আবের মন্ত্রিসভায় একসময় তিনি প্রতিরক্ষামন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন। ৬৩ বছরের ইশিবার সঙ্গে আবের যথেষ্ট দূরত্ব ছিল। আবের পদত্যাগের পর তিনি নতুনভাবে সবকিছু শুরু করার প্রত্যাশা করেছিলেন।

নেতৃত্ব বদলের এই সময়টা জাপানের জন্য কঠিন। করোনার সংক্রমণ সামাল দিতে হিমশিম খাচ্ছে জাপান সরকার। করোনার কারণে জাপানে অর্থনৈতিক মন্দা রেকর্ড ছুঁয়েছে। করোনার প্রাদুর্ভাবের আগেও জাপানে অর্থনৈতিক মন্দা ও প্রবৃদ্ধির ধীরগতি ছিল।

জাপানে যুদ্ধপরবর্তী সংবিধান সংস্কারে সরকারি পরিকল্পনাও অসমাপ্ত রয়েছে। আবে জাপানের সেনাবাহিনীকে আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি দিয়ে সাংবিধানিক ধারায় বদল আনতে চেয়েছিলেন। জাপানের সেনাবাহিনী এখন সেলফ ডিফেন্স ফোর্স নামে পরিচিত। আন্তর্জাতিক সামরিক ম্যান্ডেটে অংশ নেওয়া থেকে বিরত রাখা হয় জাপানের সেনাবাহিনীকে। ইউশিহিদে সুগার নেতৃত্বাধীন নতুন প্রশাসন এসব প্রকল্প স্থিতিশীল রাখতে পারবে।