কলকাতায় আচমকাই বাড়ছে ডেঙ্গি রোগে আক্রান্তের সংখ্যা

কলকাতায় আচমকাই বাড়ছে ডেঙ্গি রোগে আক্রান্তের সংখ্যা

করোনার তৃতীয় ঢেউ নিয়ে এমনিতেই চিন্তিত চিকিৎসক মহল। এরই মধ্যে শহরে বাড়ছে ডেঙ্গি। কলকাতার একটি বেসরকারি হাসপাতালে আচমকাই ডেঙ্গি রোগীর সংখ্যা বেড়ে গিয়েছে বলে খবর। জানা গিয়েছে, দক্ষিণ কলকাতার একটি হাসপাতালের বেশ কিছু নার্সও এই মুহূর্তে ডেঙ্গি নিয়ে ভর্তি ওই হাসপাতালে। সেই কারণেই বেসরকারি হাসপাতালে বিশেষ একটি ওয়ার্ড খোলা হয়েছে। রোগীদের উপর নজর রাখছেন হাসপাতালের অভিজ্ঞ নার্সরা।

এ প্রসঙ্গে উডল্যান্ডস হাসপাতালের ম্যানেজিং ডিরেক্টর তথা CEO রূপালী বসু বলেন, 'বর্তমানে আমাদের হাসপাতালে ভর্তি রোগীদের মধ্যে ১৫ শতাংশই ডেঙ্গি রোগী। ১৫ দিন আগে হাসপাতালে দু’ জন ডেঙ্গি রোগী ভর্তি হয়েছিলেন। তবে গত পাঁচদিন আগে আচমকাই ডেঙ্গি রোগে আক্রান্তের সংখ্যা বাড়তে শুরু করে। গত ৭ অক্টোবর চারজন রোগী ভর্তি হয়েছিলেন ওই হাসপাতালে। গত রবিবার সেই সংখ্যা ১৪ ছুঁয়েছে। পঞ্চমীর দিন হাসপাতালে মোট ১৭ জন রোগী ভর্তি ছিলেন। বিষয়টি নিয়ে চিন্তায় রয়েছি আমরা।

 তাঁর সংযোজন ‘ডেঙ্গিতে আক্রান্ত রোগীদের অত্যন্ত যত্নে রাখতে হয়। তাঁদের নজরে রাখাটা অত্যন্ত জরুরি। সেই কারণেই আমরা ডেঙ্গিতে আক্রান্তদের জন্য হাসপাতালের মধ্যে একটি পৃথক ওয়ার্ড তৈরি করেছি। যেখানে নার্সদের একটি বিশেষ টিম রয়েছে। এছাড়াও ডেঙ্গি নিয়ে বিশেষ টপ শিট এবং ড্যাশবোর্ড তৈরি করা হয়েছে। যেখানে রোগের উপসর্গ এবং প্রতিটি রোগীর চিকিৎসার বিশদ বিবরণ রয়েছে।' তিনি জানিয়েছেন, গত দু'দিনে একই হাসপাতালের আবাসিক ন'জন নার্স ডেঙ্গি আক্রান্ত হয়ে ভর্তি হয়েছেন উডল্যান্ডসে।

তাঁরা সকলেই এক হস্টেলের আবাসিক বলে খবর। ঘটনাটিকে বেশ গুরুতর বলেই মনে করছেন বেসরকারি হাসপাতালের চিকিৎসকেরা। জানা গিয়েছে, ডেঙ্গি আক্রান্ত রোগীদের মধ্যে একজনের অবস্থা গুরুতর। আর সেই কারণেই তাঁকে ICU-তে রাখা হয়েছে। এদিকে হাই ডিপেন্ডেন্সি ওয়ার্ডে রয়েছেন একজন। চিকিৎসকরা জানাচ্ছেন, বিগত বছরগুলিতে ডেঙ্গি আক্রান্ত রোগীদের মধ্যে যে যে উপসর্গ দেখা গিয়েছিল, এবারেও তা-ই দেখা যাচ্ছে। যদিও এবারের সংযোজন র‍্যাশ।

অনেক রোগীর শরীরেই ওই উপসর্গ দেখা গিয়েছে। মূলত রোগীদের পিঠ এবং বুকে ওই র‍্যাশ দেখা যাচ্ছে। যা মাঝেমধ্যেই চুলকাচ্ছে বলে দাবি করেছেন হাসপাতালে কর্তব্যরত চিকিৎসকরা। এদিকে চিকিৎসকদের মাথাব্যথার আরও এক কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে উৎসবের মরশুমে কোভিড স্ফীতি। মঙ্গলবার আবারও রাজ্যে বেড়েছে করোনা সংক্রমণ।