হুহু করে বাড়ছে কামারহাটির ডায়েরিয়া আক্রান্তের সংখ্যা

হুহু করে বাড়ছে কামারহাটির ডায়েরিয়া আক্রান্তের সংখ্যা

 হইচই পড়ে গিয়েছে কামারহাটিতে। প্রতিদিন কাতারে কাতারে মানুষ ভিড় জমাচ্ছেন হাসপাতলে। সকলেরই পেটে ব্যথা এবং বমির উপসর্গ রয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, মূলত জল থেকে সংক্রমণ ছড়িয়ে ডায়রিয়া হচ্ছে (Diarrhea|)। খোদ সরকারি রিপোর্টেই দেখা যাচ্ছে গত কয়েক দিনে ডায়েরিয়ায় আক্রান্ত ১৬০ জনের বেশি মানুষ।

সূত্রের খবর, এই ডায়েরিয়ার প্রকোপ দেখা যাচ্ছে কামারহাটির ১,২,৩ ও ৫ নং ওয়ার্ডে। এলাকার বিধায়ক মদন মিত্র (Madan Mitra) জানাচ্ছেন ইতিমধ্যেই ভাইস-চ্যান্সেলরের নেতৃত্বে কো-অর্ডিনেটর বহু লোককে বাড়ী বাড়ি পাঠিয়েছেন বিষয়টি সম্পর্তে তথ্য সংগ্রহ করতে। মদন মিত্রের আশ্বাস, "চিকিত্‍সা নিয়ে কোথাও যাতে কোনও সমস্যা না হয় তা আমরা দেখব।" ডায়রিয়া আক্রান্তদের ক্ষেত্রে বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়াচ্ছে জায়গার অপ্রতুলতা।

বহু রোগীকে দূরে রেফার করতে হচ্ছে। দেখা যাচ্ছে রোগীদের ক্ষেত্রে পেটে ব্যথা বমি তো রয়েছেই,, বহু রোগীই দ্রুত ‌ঝিমিয়ে পড়ছেন। স্বাস্থ্য দফতরের রিপোর্ট- কামারহাটি পুরসভায় এখনও পর্যন্ত ১৬০ জন ডায়রিয়ায় আক্রান্তের সন্ধান মিলেছে। এর মধ্যে ৭৬ জন কামারহাটি সাগর দত্ত মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিত্‍সাধীন। ৪০ জন কামারহাটি ইএসআই হাসপাতালে চিকিত্‍সাধীন।

চিকিত্‍সাধীন রোগীদের মধ্যে দু'জনের মৃত্যুর সঙ্গে ডায়রিয়ার সম্পর্ক রয়েছে। স্বাস্থ্যদফতরের যুক্তি আরও দুটি মৃত্যু হয়েছে ঠিকই কিন্তু তার সঙ্গে কোন ডায়রিয়ার সম্পর্ক নেই। কী পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে কামারহাটি পুরসভা এবং স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রতিটা বাড়ি পরিদর্শন করা হয়েছে। প্রত্যেককে পর্যবেক্ষণ করা হয়েছে। কাউন্সেলিং করা হয়েছে।

ডায়রিয়ার রোগী খুঁজে বার করা হয়েছে। হ্যালোজেন ট্যাবলেট এবং ওআরএস বিলি করা হয়েছে। সমস্ত জলের ট্যাঙ্কে জিওলিন দেওয়া হয়েছে। সকাল ছয়টা থেকে সন্ধ্যা ছয়টা পর্যন্ত স্বাস্থ্য শিবির করা হয়েছে। ৯ জনের পায়ু রস এবং ৪ জায়গা র জলের নমুনা বেলেঘাটা নাইসেডে পাঠানো হয়েছে। এখনও তার রিপোর্ট পাওয়া যায়নি।