বারাসতের বাঙালি যুবকের লড়াইয়ে অস্ট্রেলিয়ায় চালু হল বাংলায় সরকারি ওয়েবসাইট

বারাসতের  বাঙালি যুবকের লড়াইয়ে  অস্ট্রেলিয়ায়  চালু হল  বাংলায় সরকারি ওয়েবসাইট

 আজবাংলা    অস্ট্রেলিয়ার একটি অঞ্চলে পশ্চিমবঙ্গ ও বাংলাদেশের বাঙালিদের কথা চিন্তা করে বাংলায় ওয়েবসাইটই চালু করে ফেলল।বিদেশে গিয়ে একদিকে নিজের অস্তিত্বের লড়াই, একইসঙ্গে বাঙালির দাবি আদায় করতে আরেক লড়াইয়ে সফল হলেন বারাসতের ছেলে অর্ণব ঘোষ রায়।বাবা ছিলেন রাজ্য সরকারি কর্মচারি।

২০০৩-তে পরিবারের আর্থিক সংকটের মধ্যেও পড়াশুনা করতে অষ্ট্রেলিয়ায় পাড়ি দেন মধ্যবিত্ত পরিবারের সন্তান অর্ণব ঘোষ রায়। দুবছর পর ফেডারেল ইউনিভার্সিটি থেকে কমার্সে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি লাভ করেন। ২০০৭-তে অ্যাসোসিয়েট মেম্বার অব ইন্সটিটিউট অব পাবলিক অ্যাকাউন্টেন্ট। ২০০৯ সালে সেখানে নাগরিকত্বের অধিকার পান।

২০১৪ তে ভিক্টোরিয়া ইউনিভার্সিটি থেকে এমবিএ। সলিসিটর হওয়ার লক্ষ্যে এখন ওই বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ব্যাচেলর অব ল পড়ছেন অর্ণব ঘোষ রায়। কিভাবে নিরাপদ ও সুস্থ থাকা যায়, করোনা পরিস্থিতিতে কী কী সরকারি সাহায্য পাওয়া যেতে পারে, পরীক্ষা ও নিভৃতবাস, নিরাপদে থাকাসহ যাবতীয় বিস্তারিত তথ্য মিলছে অস্ট্রেলিয়ার ভিক্টোরিয়া স্টেটের স্বাস্থ্য দফতরের বাংলা ওয়েবসাইটে।

 এরাজ্যে বাংলা ভাষা নিয়ে সরকারি ও বেসরকারি স্তরে দীর্ঘ লড়াই এখনও চলছে। বাঙালি প্রধান রাজ্য হলেও বেশ কিছু বেসরকারি ব্যাংকসহ অনেক সংস্থায় বাংলায় কথাই বলেন না সেখানকার কর্মীরা। ভারতের ৫৪,৫৬৬জন বাঙালি অস্ট্রেলিয়ার নাগরিক বা পার্মানেন্ট রেসিডেন্ট রয়েছেন ভিক্টোরিয়ায়। এছাড়া বাংলাদেশের বাঙালিও আছেন সেখানে।

দীর্ঘদিন অস্ট্রেলিয়ায় থাকার পর অর্ণবের উপলব্ধি হয় ভাষাগত কারণে বাঙালি প্রবীণরা সেখানে নানা ধরনের অসুবিধায় পড়ছেন। ভাষাগত অসুবিধা দূর হলে সরকারি নানা সুযোগ-সুবিধা পেতে সহজ হতে পারে। বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় সাংসদের সঙ্গে আলোচনা করেন অর্ণব। কলকাতা থেকে প্রায় নয় হাজার কিলোমিটার দূরে অবস্থিত ভিক্টোরিয়ার রাজধানী মেলবোর্ন।

সেখানেই প্রথম ভারতীয় অধিনায়ক হিসেবে সেঞ্চুরি করেছিলেন বঙ্গতনয় সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়। সেই ঘটনার দুই দশক পরে ওই শহরে বসেই নয়া নজির গড়েছেন কলকাতার আরেক বাসিন্দা অর্ণব ঘোষ রায়। বর্তমানে ভিক্টোরিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের আইনের ছাত্র ৩৮ বছরের অর্ণববাবু। তাঁর সৌজন্যেই অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে সরকারি ওয়েবসাইটে জায়গা করে নিয়েছে বাংলা ভাষা।

এই বিষয়ে অর্ণব ঘোষ রায় জানিয়েছেন যে মেলবোর্ন-সহ সমগ্র ভিক্টোরিয়াতে প্রচুর বাঙালি বসবাস করেন। কিন্তু কোনও সরকারি জায়গায় বাংলা ভাষার ব্যবহার ছিল না। অথচ আরবি বা অন্যান্য ভাষা ব্যবহার করা হতো। কোনও ভারতীয় ভাষা ছিল না। কিন্তু এখানে প্রচুর বাঙালি বাস করেন এবং সেই সংখ্যা ক্রমশ বাড়ছে।অর্নববাবু আরও জানিয়েছেন যে অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে চিকিৎসা ব্যবস্থা ভারতের থেকে ভিন্ন। সম্পূর্ণটাই হয় সরকারিভাবে। প্রত্যেককে মেডিকেয়ার কার্ড দেওয়া হয়।

সেই কার্ড দেখিয়ে চিকিৎসা পরিষেবা গ্রহণ করতে পারেন সাধারণ মানুষ। অনেক বাঙালি বৃদ্ধ মানুষ রয়েছেন যারা ইংরেজি জানেন না, তাদের জন্য সরকারি ওয়েবসাইটে বাংলা ভাষায় সব নির্দেশিকা দেওয়া খুবই দরকার ছিল। সেই নিয়েই স্বাস্থ্য দফতর এবং সংশ্লিষ্ট দফতরে আবেদন জানানো হয়েছিল।

আর তাতেই এসেছে সাফল্য।অস্ট্রেলিয়ার ভিক্টোরিয়া ছাড়াও নিউ সাউথ ওয়েলস প্রদেশেও বহু ভারতীয় বসবাস করেন। যাদের অনেকেই বাঙালি। ওই প্রদেশের প্রতিটি স্কুলে হিন্দি পড়ানো শুরু হয়েছে। সেখানেও বাংলা চালু করার বিষয়ে আবেদন জানানো হয়েছে বলে জানিয়েছেন অর্ণব ঘোষ রায়।এবার লড়াই সেখানে বাংলাকে দ্বিতীয় ভাষা হিসাবে অন্তর্ভুক্তি করার।