মালদার হরিশ্চন্দ্রপুরে দেওয়াল লিখনকে ঘিরে শুরু হল রাজনৈতিক তরজা

মালদার হরিশ্চন্দ্রপুরে দেওয়াল লিখনকে ঘিরে শুরু হল রাজনৈতিক তরজা

তনুজ জৈন   হরিশ্চন্দ্রপুর:   একুশের নির্বাচনের দামামা বেজে গেছে। শুরু হয়ে গেছে তোড়জোড়। রাজ্যে এবার জোড়া ফুল নাকি পদ্ম? কার ভাগ্যে শিকে ছিড়বে এই নিয়ে জল্পনা তুঙ্গে। এইদিন মালদার হরিশচন্দ্রপুর বিধানসভায় দেওয়াল লিখনকে ঘিরে দেখা গেল এক অদ্ভুত দৃশ্য। একটি দেওয়ালেই গেরুয়া, সবুজ দুই দলেরই দেওয়াল লিখন। বিষয়টি দেখে তাজ্জব এলাকাবাসী। দুই প্রতিপক্ষ একই দেওয়াল ভাগাভাগি করে নিচ্ছে, এ তো সত্যিই বিরল দৃশ্য।

এটি কোনো সমঝোতা নাকি হুমকির সম্মুখীন হয়েছে ঐ পরিবারগুলি তা নিয়ে শুরু হয়েছে রাজনৈতিক চাপানউতোর। যদিও বিজেপির দাবি তৃণমূল হুমকি দিয়ে বাধ্য করেছে দেওয়ালের মালিককে। সামনে বিধানসভা নির্বাচন সেই উপলক্ষে হরিশ্চন্দ্রপুর এলাকাজুড়ে দেওয়াল লিখন শুরু হয়ে গিয়েছে।কিন্তু দেখা যাচ্ছে হরিশ্চন্দ্রপুর এলাকার বিভিন্ন অঞ্চলে একটি বাড়ির দেওয়ালে ভাগাভাগি করে লিখছে তৃণমূল-বিজেপি দুই দলই।

পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতির উঠোনে যারা একে অপরের চরম শত্রু, সেখানে কোন সমঝোতায় দেওয়াল লিখন করছেন তারা ভাগাভাগি করে। এই নিয়ে উঠেছে এলাকায় প্রশ্ন। অন্যদিকে এলাকাবাসীদের অনেকেরই ধারণা দুই রাজনৈতিক দলের সঙ্গে ভালো সম্পর্ক রাখতে চান বলেই মধ্যবিত্তরা এই পথকে বেছে নিচ্ছেন। কাউকে চটতে দিতে রাজি নন তারা। তাছাড়া অনেকেরই ধারণা তবে কি এলাকার দেওয়াল মালিকরা কোন রাজনৈতিক দলের কাছ থেকে হুমকি পাচ্ছেন। তার ফলে তারা মাঝামাঝি অবস্থান নিচ্ছেন। এই নিয়েও উঠেছে প্রশ্ন। হরিশ্চন্দ্রপুর থানা মোড় কিংবা হাসপাতাল যাওয়ার রাস্তা অথবা

চাঁচল হরিশ্চন্দ্রপুর জাতীয় সড়কের ধারে গেলেই একাধিক দেওয়ালে দেখতে পাওয়া যাবে একটি দেওয়াল কে ভাগ করে মূলত এই দুই দল নিজেদের প্রচার চালাচ্ছে। বিজেপির মন্ডল সভাপতি রূপেশ আগারওয়াল বলেন, "আমরা তো নির্বাচনের নিয়ম মেনে বাড়ির মালিককের কাছে এনওসি নিয়ে দেওয়াল লিখনের কাজ করেছিলাম। পরে দেখি বিজেপি কেটে তৃণমূল লেখা হয়েছে। এরপর বাড়ির মালিককে জিজ্ঞেস করলে তিনি বলেন তারা তৃণমূলকে কোনো এনওসি দেননি।

জানতে পারি হুমকি পাচ্ছেন তারা। আমরা প্রশাসনের কাছে মৌখিকভাবে বিষয়টি জানাই। এবং কোনোরকম ঝামেলায় না গিয়ে বাকি অর্ধেক দেওয়াল নিয়ে আমরা কাজ করি‌।" মালদা জেলা তৃণমূল সাধারণ সম্পাদক বুলবুল খান বলেন, "আমাদের সমস্ত কর্মীকে বলা আছে তারা যেন বাড়ির মালিকের সাথে কথা বলে তাদের অনুমতি নিয়ে দেওয়াল লিখনের কাজ করে। আমরা হুমকি দিয়ে কাজ করিনা। সব জায়গায় আমাদের পরিচিতি আছে, লোকসভায় ভালো ফল করেছি আমাদের হুমকি দেওয়ার মতো কিছু নেই।

এখানে বিজেপির কোনো চিহ্ন নেই। তৃণমূল মানুষের মনে বসে আছে। এগুলো সব ভুয়ো কথা।" নির্বাচনের নির্ঘণ্ট ঘোষণার পর থেকেই রাজ্যে সাজো সাজো রব। ভোটের প্রাক্কালে এই দেওয়াল লিখনের কাজকে নিয়ে তরজা তুঙ্গে এলাকায়। তৃণমূল দাবি করছে তারা কাউকে হুমকি দেন নি। কিন্তু বিজেপির অভিযোগ দেওয়াল মালিকদের ভয় দেখাচ্ছে শাসকদল।