জেলা পরিষদ থেকে শুভেন্দু ঘনিষ্ঠ নেতার ইস্তফা, শোরগোল তৃণমূলে

জেলা পরিষদ থেকে শুভেন্দু ঘনিষ্ঠ নেতার ইস্তফা, শোরগোল তৃণমূলে

পশ্চিম মেদিনীপুর জেলা পরিষদের মেন্টর পদ থেকে ইস্তফা দিলেন প্রাক্তন তৃণমূলের (TMC) জেলা সভাপতি তথা প্রাক্তন মেদিনীপুর পুরসভার চেয়ারম্যান প্রণব বসু। মেদিনীপুর পুরসভার প্রশাসক বোর্ড থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে কয়েকদিন আগেই।

তার বিরুদ্ধে তিনি আদালতেও গিয়েছেন। এবার নিজের থেকেই জেলা পরিষদের মেন্টর পদ থেকে ইস্তফা দিলেন তিনি। জেলার রাজনীতিতে এই তৃণমূল নেতা শুভেন্দু অধিকারীর ঘনিষ্ঠ। তাই তিনি রাজ্য মন্ত্রিসভা থেকে বেরিয়ে আসার পরেই জোর গুঞ্জন শুরু হয়েছে।

এ প্রসঙ্গে প্রণব বসু বলছেন, ''লুকোচুরির কোনও বিষয় নেই। আমি দলে রয়েছি। দলের হয়ে কাজ করছি। কিন্তু যেভাবে পুরসভার পথ থেকে সরিয়ে দেওয়া হল তা থেকে মনে হচ্ছে যে কোন মুহূর্তে মেন্টর পদ থেকেও সরিয়ে দেওয়া হতে পারে। তার আগে নিজেরই ইস্তফা দিয়ে দিলাম।'' শুভেন্দু ঘনিষ্ঠ হওয়ায় গত ১৮ নভেম্বর মেদিনীপুর পুরসভার প্রশাসক বোর্ডের সদস্য পদ থেকে তাঁকে সরিয়ে দেওয়া হয় প্রণব বসুকে।

যদিও তার আগে তাঁকে কিছুই জানানো হয়নি বলে অভিযোগ। সেই পদে বসানো হয়েছে খড়গপুর গ্রামীনের বিধায়ক দীনেন রায়কে। তারপরই তিনি সরকারি নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিলেন। কিন্তু, মেন্টর পদ থেকে পদত্যাগ করার পরেই জেলা তৃণমূলের অন্দরমহলে ঝড় উঠেছে। এ প্রসঙ্গে তৃণমূল নেতৃত্ব অবশ্য মুখে কুলুপ এঁটেছেন।  

রাজনীতিতে শুভেন্দু অধিকারীর অনুগামী হিসেবেই পরিচিতি প্রণব বসুর। সম্প্রতি একটি অনুষ্ঠানে শুভেন্দুবাবুর সঙ্গে দেখা গিয়েছিল তাঁকে। তারপর থেকেই শুরু হয় জল্পনা। প্রণববাবুর কথায়, ''শুভেন্দু অধিকারী এখনও দলে রয়েছেন। তিনি মন্ত্রী পদ থেকে ইস্তফা দিয়েছেন ঠিকই কিন্তু দলের একজন কর্মী হিসেবে রয়েছেন।

যেহেতু তিনি দলের রয়েছেন তাই তাঁকে নেতা হিসেবে মানি। তিনি যতক্ষণ পর্যন্ত দল ছাড়ছেন বা তাঁকে দল থেকে সরিয়ে দেওয়া হচ্ছে ততক্ষণ পর্যন্ত তাঁকে নেতা হিসেবে মেনে চলব।'' ৭ তারিখ মুখ্যমন্ত্রী সভাতেও ডাক পাবেন কিনা তা নিয়ে সংশয়ে রয়েছেন তিনি। প্রণববাবু বলেন, ''কোনও লুকোচুরির বিষয় নেই। আমি দলে রয়েছি। দলের হয়ে কাজ করব।