নদিয়ার তাহেরপুরে জিতে পারিনি শাসক তৃণমূল, ক্লোজ করা হল থানার ওসি

নদিয়ার তাহেরপুরে জিতে পারিনি শাসক তৃণমূল, ক্লোজ করা হল থানার ওসি

নদীয়ার তাহেরপুর পৌরসভা ফের সিপিএমের দখলে যেতেই রাতারাতি ওই থানার ওসিকে বদল করে দেওয়া হল। তার জায়গায় আনা হলো ধানতলা থানার ওসিকে। গোটা রাজ্যের সবুজঝড়ের মধ্যেই লাল দুর্গকে ধরে রেখেছে তাহেরপুর। তাহেরপুর পুরসভায় জয় হয়েছে বামেদের। আর সেই অর্থেই এই পুরসভা বঙ্গ রাজনীতিতে প্রাসঙ্গিক হয়ে উঠেছে। আর পুরভোটের নির্বাচনের ফলপ্রকাশের রাতেই তাহেরপুর থানার ওসি পদ থেকে অপসারণ করা হল অভিজিৎ বিশ্বাসকে।

পরিবর্তে তাহেরপুর থানার ওসি হয়েছেন ধানতলা থানার ভারপ্রাপ্ত ওসি অমিয়তোষ রায়কে। ধানতলা থানার ওসি-র দায়িত্ব পেয়েছেন রজনী বিশ্বাস। রাজনৈতিক মহলের দাবি, তাহেরপুর পুরসভার বামফ্রন্টের দখলে যাওয়াতেই প্রশাসনের এই রদবদল।সবুজ সাইক্লোনে কার্যত ধূলিসাৎ বিরোধীরা। সেখানে এই পরিস্থিতিতে দাঁড়িয়েও গড় অক্ষুণ্ণ রেখেছে বামেরা। তাহেরপুর পুরসভায় মোট ১৩ টি ওয়ার্ড রয়েছে।

তার মধ্যে ৮ টি ওয়ার্ডে সিপিএমের দখলে। বাকি ৫টি ওয়ার্ড তৃণমূলের দখলে।কিন্তু রাতারাতি কেন তাহেরপুর থানার ওসিকে অপসারণ করা হল, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। প্রশাসনিক এই রদবদলের পিছনে কি আদৌ ভোটের ফল দায়ী? শাসকদলের হাত রয়েছে এর পিছনে? প্রশ্ন থাকছেই। তাহেরপুর পৌরসভার প্রাক্তন কাউন্সিলার দীপঙ্কর চক্রবর্তীর বক্তব্য,' এবারের পুরভোটে তাহেরপুরে প্রশাসন নিরপেক্ষভাবে কাজ করেছে।

হয়তো সেই জন্যই তাকে সরিয়ে দেওয়া হল। যদিও এটা প্রশাসনিক বিষয় তাই এই বিষয় নিয়ে কোন মন্তব্য করব না।' নির্বাচনে নিরপেক্ষ ভূমিকা নেওয়ার জন্যই তাহেরপুর থানার ওসিকে সরে যেতে হল বলে মত প্রকাশ করেছে বিজেপি নেতৃত্ব। যদিও তৃণমূল কংগ্রেসের সহ-সভাপতি পরিতোষ ঘোষ বলেছেন,' এটা কঠিন বদল। এ ব্যাপারে আমাদের দলের কোন হাত নেই।'

উল্লেখ্য, ২০১৫ সালের পুরনির্বাচনেও তাহেরপুর পৌরসভা বামেদের দখলে ছিল। ২০১৯ সালের লোকসভা নির্বাচনে সবকটি ওয়ার্ডেই এগিয়ে ছিল বিজেপি। বামেরা ছিল তৃতীয় স্থানে। গত একুশের নির্বাচনে পরিস্থিতি আবারও পাল্টে যায়। সবেতেই এগিয়ে থাকে তৃণমূল। পুরভোটে বামেরা তাদের বোর্ড রাখতে পারবে কিনা, তা প্রশ্নের মুখে পড়ে।

এমন অবস্থায় নিজেদের গড় ধরে রেখে তাহেরপুর রাজ্যের মধ্যে নজির সৃষ্টি করেছে। ফল প্রকাশের রাতেই তাহেরপুর থানার ওসিকে সরিয়ে দিয়ে পুলিশ লাইনে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। স্বভাবতই রাজনৈতিক মহলে তা নিয়ে উঠছে প্রশ্ন। অবশ্য এ বিষয়ে পুলিশের একজন পদস্থ কর্তা জানিয়েছেন,' এটা রুটিন বদল।'