আবার রবিনসন স্ট্রিট কাণ্ডের ছায়া,বাবার মৃতদেহ ৩ দিন ধরে আগলে রাখল মেয়ে

আবার রবিনসন স্ট্রিট কাণ্ডের ছায়া,বাবার মৃতদেহ ৩ দিন ধরে  আগলে রাখল মেয়ে

আজবাংলা     মৃত বাবার দেহ আগলে মেয়ে। রবিনসন স্ট্রিট কাণ্ডের ছায়া এবার সরশুনায়। ৩ দিন আগে ৮৭ বছরের বৃদ্ধ রবীন্দ্রনাথ চ্যাটার্জি নিজের বাড়িতেই প্রয়াত হয়েছেন। ঘরে দেহ পচন ধরায় দুর্গন্ধ পেয়ে প্রতিবেশীরা থানায় খবর দিলে, পুলিশ দেহ উদ্ধার করে। পুলিশ দরজা ভেঙে দেখে, মেয়ে নীলাঞ্জনা বৃদ্ধের খাটে পড়ে থাকা দেহের পাশেই বসে।

তদন্তে জানা যায়, ২ বছর আগে নীলাঞ্জনার মা ও দাদার দেহ ঘরেই পড়ে ছিল। তাঁদেরও পচা গলা দেহ উদ্ধার করেছিল পুলিশ। নীলাঞ্জনা মানসিক ভারসাম্যহীন বলে জানতে পেরেছে পুলিশ। হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছে চিকিত্‍সার জন্য। এদিন স্থানীয়রা লক্ষ্য করেন, রবীন্দ্রনাথ চ্যাটার্জির বাড়ি থেকে দুর্গন্ধ বের হচ্ছে। অনেক ডাকাডাকিতেও সাড়া না দেওয়ায় পুলিশে খবর দেন প্রতিবেশীরা। বৃদ্ধ রবীন্দ্রনাথবাবুকে বেশ কয়েকদিন বাড়ির বাইরে দেখা যায়নি।

সম্ভবত বার্ধক্যজনিত অসুখে ভুগেই তিনি মারা গেছেন। কীভাবে মৃত্যু হল বাবার, এ প্রশ্নের উত্তরে নীলাঞ্জনা অসংলগ্ন কিছু তথ্য দিয়েছেন। পুলিশ ওই দেহ তুলে ময়নাতদন্তে পাঠায়। ঘরের ভেতর জিনিসপত্র ছড়ানো ছেটানো ছিল। অগোছালো ঘরেই তারা দীর্ঘদিন থাকতেন বলে মনে করছে পুলিশ।রবিনসন স্ট্রিটেও পার্থ দে দিদির দেহ আগলে রেখেছিলেন।

একটি ঘটনার তদন্তে যাওয়ার পরেই পুলিশ জানতে পারে, মৃত দিদির দেহ আগলে রেখেছিলেন পার্থ দে। সরশুনা কাণ্ডে ওই বাড়ির জীবিত আর কেউ আছেন কি না তার খোঁজ করছে পুলিশ। বাড়িটি তালা দিয়ে রাখা হয়েছে। মৃত রবীন্দ্রনাথবাবুর আধার কার্ডের তথ্য অনুযায়ী ১৯৩৩ সালে জন্মগ্রহণ করেছেন। তিনি পেশায় কী করতেন বা নীলাঞ্জনা কী করেন, স্থানীয় সূত্রে পুলিশ সেসব জানার চেষ্টা করছে।নীলাঞ্জনার মা ও দাদার মৃত্যুর পর দেহ আগলে রাখার ঘটনা ঘটেছিল। সেই সূত্রেই এদিনও পচা গন্ধ পেয়ে সন্দেহ হয় প্রতিবেশীদের। পরে তাঁরা জানতে পারেন, বাবার দেহও আগলে রেখেছিলেন নীলাঞ্জনা।‌