সমস্ত অবৈধ ইটভাটাকে বৈধ ঘোষণা করার পথে রাজ্য সরকার

সমস্ত অবৈধ ইটভাটাকে বৈধ ঘোষণা করার পথে রাজ্য সরকার

বৈধ হতে চলেছে রাজ্যের সব অবৈধ ইটভাটা। এমনই সিদ্ধান্ত নিতে চলেছে রাজ্য সরকার। শীঘ্রই এই মর্মে ঘোষণা হতে পারে বলে খবর সূত্রের। ইটভাটা নিয়ে বিতর্ক শুধুমাত্র এরাজ্যে নয়, সারা দেশে। অধিকাংশ ইটভাটাই আইন মেনে চলে না। এমন অভিযোগ সামনে এসেছে বারবার। কখনও পরিবেশ দূষণ, কখনও কৃষিজমি দখল, তো কখনও আবার নদীর চর দখল --- ইটভাটাকে কেন্দ্র করে বিস্তর অভিযোগ।

তা নিয়ে প্রচুর মামলা হয়েছে পরিবেশ আদালতে। পরিবেশ আদালতের নির্দেশে বহু বেআইনি ইটভাটা বন্ধও করে দিয়েছে রাজ্য প্রশাসন। তার জেরে রুটিরুজি হারাতে হয়েছে বহু শ্রমিককে। দীর্ঘকালীন এই টানাপোড়েনের অবসান ঘটাতে এবার তত্‍পর হয়েছে রাজ্য সরকার। সব অবৈধ ইটভাটাকে বৈধ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। কীভাবে সম্পন্ন হবে এই প্রক্রিয়া? নবান্ন সূত্রে খবর, যেহেতু মাটি কেটে ইট তৈরি হয়, তাই এতদিন ইটভাটাগুলি খনি শিল্পের আওতায় ছিল।

এবার তাকে খনি শিল্পের আওতা থেকে বের করে আনা হচ্ছে। নতুন নিয়মে, দেড় মিটার মাটি কাটলে তা খনি শিল্পের আওতায় পড়বে না। পুরো বিষয়টি দেখাশোনা ও নিয়ন্ত্রণের জন্য আলাদা মন্ত্রিগোষ্ঠী তৈরি করা হয়েছে। রাজ্যের মুখ্যসচিব হরিকৃষ্ণ দ্বিবেদী বলেন, ইটভাটাগুলোকে লিগালাইজ করা হচ্ছে। মাইনিং এর আওতা থেকে বার করে আনা হচ্ছে। স্বাস্থ্যসাথী থেকে লক্ষ্মীর ভাণ্ডার, একাধিক জনমুখী প্রকল্প শুরু করেছে রাজ্য সরকার।

এই পরিস্থিতিতে সব ইটভাটা বৈধ হলে সরকারের আয় বাড়বে। নবান্ন সূত্রে খবর, রাজ্যে ৪০ শতাংশ ইটভাটা বৈধ, ৬০ শতাংশ ইটভাটা অবৈধ। একটি ইটভাটা বছরে গড়ে ১০ থেকে ১২ লক্ষ টাকা রাজস্ব দেয়। সব ইটভাটা বৈধ হলে তা থেকে রাজ্য সরকারের আয় বেড়ে হবে বছরে প্রায় ১২০০ কোটি টাকা। বিশেষজ্ঞদের একাংশের আশঙ্কা, এর ফলে মাটির ওপরের পার্ট, বিশেষ করে কৃষি জমি নষ্ট হতে পারে।

ইটভাটা ইউনিয়নগুলি সরকারকে প্রস্তাব দিয়েছে যেসব খালবিল মজে গিয়েছে, চড়া পড়েছে, সেখান থেকে মাটি তুলে ইট তৈরির অনুমতি দেওয়া হোক। সরকার নিয়ম করে দিলে আগামী ৫০ বছর মাটির অভাব হবে না। ইটভাটা অ্যাসোসিয়েশনের কর্তা অরূপ মান্না বলেন, লিগালাইজ করে দিল ভাল হল। সরকারের আয় বাড়বে। আমাদেরও সুবিধা হবে। এই সিদ্ধান্তকে সাধুবাদ জানাই। আমরা এই প্রস্তাবও দিয়েছি নদীর চর পড়ে যাওয়া অংশ বা মরা খালবিল থেকে মাটি তুলে ইট তৈরি করব। ইটভাটা অ্যাসোসিয়েশন সূত্রে খবর, ইতিমধ্যেই দামোদর অববাহিকা অঞ্চলে এই মডেলে কাজ শুরু হয়েছে।