কোভিড বিধিনিষেধকে থোরাই কেয়ার রমরমিয়ে রাজ্য চলছে প্রাইমারি স্কুল

কোভিড বিধিনিষেধকে থোরাই কেয়ার রমরমিয়ে রাজ্য চলছে প্রাইমারি স্কুল

করোনাভাইরাসের ডেল্টা রূপকে পিছনে ফেলে আমেরিকায় ইতিমধ্যেই সংক্রমণে প্রধান স্থান দখল করে নিয়েছে ওমিক্রন। সেই সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে শিশুদের আক্রান্ত হওয়ার ঘটনাও। ইতিমধ্যেই কোভিড-১৯ আক্রান্ত শিশুদের হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার ক্ষেত্রে রেকর্ড গড়েছে আমেরিকা। আমেরিকায় করোনা নিয়ন্ত্রণের দায়িত্বপ্রাপ্ত সরকারি সংস্থা ‘সেন্টারস ফর ডিজিস অ্যান্ড প্রিভেনশন’ (সিডিসি)-এর প্রধান রোচেল ওয়ালেনস্কি জানিয়েছেন,

ডিসেম্বরের মাঝামাঝি থেকে ওমিক্রন সংক্রমণে বাড়বাড়ন্তের সময় থেকেই শিশুদের আক্রান্ত হওয়ায় ঘটনার দ্রুত গতিতে বেড়েছে। তিনি বলেন, ‘‘১৪টি প্রদেশের ২৫০টি হাসপাতাল থেকে পাওয়া পরিসংখ্যান অনুযায়ী প্রতি দশ হাজার আক্রান্তের মধ্যে ৫ বছর বা তার কম বয়সী শিশু ৪ জন। ৫ থেকে ১৭ বছরের শিশু এবং কিশোর অন্তত ১ জন।’’ টিকা নেওয়া বয়স হয়নি এমন শিশুদের আক্রান্ত এবং হাসপাতালে ভর্তি হওয়ায় ঘটনা ‘খুবই উদ্বেগজনক’ বলে জানিয়েছেন তিনি। 

কোভিড সংক্রমণের সুনামি গতিতে নাজেহাল অবস্থা। জারি হয়েছে বিধিনিষেধ। বন্ধ স্কুল, কলেজ। কিন্তু নির্দেশিকাকে থোড়াই কেয়ার, রমরমিয়ে চলছে স্কুল। এক একটি বেঞ্চে তিন চারজন করে বসানো হয়েছে খুদে পড়ুয়াদের। কেন বিধি ভেঙে এই পদক্ষেপ? জবাবে আজব দাবি স্কুলের প্রতিষ্ঠাতার। সংক্রমণের বাড়বাড়ন্ত। শিশু থেকে বৃদ্ধ- সব বয়সীরাই আক্রান্ত। এর মধ্যে উঁচু ক্লাসের পড়ুয়াদের টিকা দেওয়ার কাজ শুরু হয়েছে।

কিন্তু, নিচু ক্লাসের পড়ুয়াদের টিকাকরণ কবে হে তা জানানো হয়নি। ফলে শিশুদের স্বাস্থ্যের কথা বিবেচনা করে স্কুল, কলেজ সব বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। তার মধ্যেই বিধি ভঙ্গ করে জোরকদমেই ক্লাস হচ্ছে হাওড়ার পাঁচলার বিকিহাকোলায় প্যারাগন প্রাইমারি স্কুলে। কেন নিয়ম ভাঙে চালু রয়েছে স্কুল? এই প্রশ্নের জবাবে প্রতিষ্টাতা স্বপনবাবু সরাসরি সরকারের বিরুদ্ধে হুমকি দিয়েছেন।

তাঁর দাবি,' করোনার কথা বলে স্কুল বন্ধ রেখে সরকার শিশুদের ভবিষ্যত নষ্ট করছে। স্কুল কিছুতেই বন্ধ করবো না।' এইভাবে স্কুল খোলা থাকলে শিশুদের কোভিডে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে তো? প্রতিষ্ঠাতার উত্তর, 'এখানে ক্লাসে এসে এখনও কেউ আক্রান্ত হয়নি। সারা বিশ্বে শিশুদের আক্রান্ত হওয়ার কোন খবর নেই। শিশুদের শিক্ষার অধিকার আইনের জোরেই স্কুল খোলা রয়েছে।'

তাঁর কাছে এখনও পর্যন্ত স্কুল বন্ধ রাখার কোন নির্দেশিকা এসে পৌঁছায়নি বলেও দাবি করেছেন তিনি। পরে স্বপবাবুর জানিয়েছেন, স্কুল বন্ধের সরকারি নির্দেশিকা এলে তিনি স্কুল বন্ধ করে দেবেন। বিধিনিষেধেও স্কুল খোলা! কেন পদক্ষেপ করছে না জেলা প্রাথমিক শিক্ষা দফতর? এপ্রসঙ্গে দফতরের আধিকারিকের কোনও প্রতিক্রিয়া মেলেনি।