নতুন করে ৭০০০ প্রাথমিক শিক্ষক পদে নিয়োগ করবে রাজ্যে

নতুন করে ৭০০০ প্রাথমিক শিক্ষক পদে নিয়োগ করবে রাজ্যে

সোমবার অপরাহ্নেই ভুল প্রশ্ন মামলায় প্রাথমিক শিক্ষা পর্ষদের সভাপতিকে হাইকোর্ট বলেছে,'যোগ্য প্রার্থীদের চাকরির ব্যবস্থা করুন। এখনই সম্ভব না হলে ভবিষ্যতে শূন্যপদগুলি তৈরি হলে সেখানে নিয়োগ করুন। এই চাকরিপ্রার্থীরা কতদিন আর লড়াই করবে!' দিন শেষ হতে না হতেই বড় সিদ্ধান্ত নিল নবান্ন। এ দিন মন্ত্রিসভার বৈঠকে নতুন করে শূন্যপদ তৈরির সিদ্ধান্তে সিলমোহর পড়ল।

মুখ্যসচিব হরিকৃষ্ণ দ্বিবেদী এ দিন জানিয়েছেন,প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগের ক্ষেত্রে উত্তর ২৪ পরগনা ও মালদহে ৩১৭৯ শূন্যপদ তৈরি করেছে স্কুল শিক্ষা দফতর। এর পাশাপাশি ৩৯২৫ শূন্যপদ শীঘ্রই পূরণের সিদ্ধান্ত হয়েছে রাজ্য মন্ত্রিসভার বৈঠকে। অর্থাত্‍ ৭ হাজারের অধিক পদে শিক্ষক নিয়োগ করতে চলেছে রাজ্য সরকার।

প্রসঙ্গত, গত ২১ জুন রাজ্যে ৩২ হাজার শিক্ষক নিয়োগের কথা ঘোষণা করেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। বলেছিলেন,'পুজোর আগে নেওয়া হবে ১৪ হাজার আপার প্রাথমিক শিক্ষক এবং ১০ হাজার ৫০০ প্রাথমিক শিক্ষক। পুজোর পর মার্চের মধ্যে সাড়ে ৭ হাজার প্রাথমিক শিক্ষককে নিয়োগপত্র দেওয়া হবে। মোট ৩২ হাজার নিয়োগপত্র দেবে রাজ্য সরকার।'যদিও অনেকের বক্তব্য, ২০০৯-এর চাকরিপ্রার্থীদের বড় অংশ দক্ষিণ চব্বিশ পরগনায়। সেই জেলার কতাহ এদিন সরকারের তরফে বলা হয়নি।

এদিন শিল্প সংক্রান্ত বিষয়েও কিছু নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে মন্ত্রিসভা। বলা হয়েছে, ইন্ডাস্ট্রিয়াল পার্ক তৈরির জন্য শিল্প সংস্থাগুলি যাতে ট্রেডলাইসেন্স, বিদ্যুত্‍, জলের অনুমতি সহজে পেতে পারে তার জন্য সিঙ্গল উইন্ডো শুরু করছে রাজ্য সরকার। এদিন প্রাথমিকে ভুল প্রশ্ন মামলার শুনানিতে মামলাকারীদের নিয়োগের নির্দেশ দিয়ে সেই মামলার নিষ্পত্তি করলেও নবান্নকে শিক্ষক নিয়োগ নিয়ে আরও একটি বড় নির্দেশ দেয় কলকাতা হাইকোর্ট। বিচারপতি অভিজিত্‍ গঙ্গোপাধ্যায় নবান্নের উদ্দেশে বলেছেন, 'আদালত মনে করছে রাজ্যের সমস্ত শিক্ষাঙ্গনে যে শূন্য পদ রয়েছে সেগুলি দ্রুত পূরণ করুক রাজ্য সরকার।

আমি নির্দেশ দিচ্ছি রাজ্য সরকার অবিলম্বে রাজ্যের শিক্ষক নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু করুক।' প্রাথমিক, উচ্চপ্রাথমিক-সহ শিক্ষক নিয়োগের অজস্র মামলা আদালতে ঝুলে রয়েছে। সেগুলির নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত শূন্যপদ পূরণ হচ্ছে না। এদিন সেই প্রসঙ্গ তুলেই আদালত বলেছে, শূন্য পদ পূরণে অবিলম্বে যেন নবান্ন দ্রুত ও স্বচ্ছ নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে। আদালত এদিন স্পষ্ট করে বলেছে, যাঁদের চাকরি দেওয়ার নির্দেশ বিচারপতি সমাপ্তি চট্টোপাধ্যায় দিয়েছিলেন তাদের সকলের নিয়োগ নিশ্চিত করতে হবে। এ নিয়ে কোনও টালবাহানা চলবে না। শুধু তাই নয়। সামগ্রিক ভাবে রাজ্যের স্কুলগুলিতে শূন্যপদ অবিলম্বে পূরণের কথা বলেছে আদালত। শিক্ষক নিয়োগে মামলার জটিলতা নিয়ে এর আগে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও একবার বিরক্তি প্রকাশ করেছিলেন।