শেয়ার বাজার, সেনসেক্স পেরিয়ে গেল ৫০ হাজারের অঙ্ক

শেয়ার বাজার, সেনসেক্স পেরিয়ে গেল ৫০ হাজারের অঙ্ক

ঐতিহাসিক উচ্চতায় শেয়ার বাজার। এই প্রথম বার বম্বে স্টক এক্সচেঞ্জের সূচক পেরিয়ে গেলে ৫০ হাজারের মনস্তাত্ত্বিক অঙ্ক। বৃহস্পতিবার বাজার খুলেতেই ৫০ হাজারের উপরে চলে গেল সেনসেক্স। তাল মিলিয়ে ন্যাশনাল ফিফটি (নিফটি)-ও ১৪ হাজার ৭০০ অঙ্কের উপরে চলে গেল।

মঙ্গলবার বোম্বে স্টক এক্সচেঞ্জে (বিএসই) সেনসেক্স বাড়ল ৮৩৪ পয়েন্ট। আর ন্যাশনাল স্টক এক্সচেঞ্জে (এনএসই) নিফটি বাড়ল ২৪০ পয়েন্ট। দিনের শেষে সেনসেক্স পৌঁছল ৪৯ হাজার ৩৯৮-এ। আর নিফটি পৌঁছল ১৪ হাজার ৫২১-এ। এর আগে এক দিনে সেনসেক্স ও নিফটি এতটা চড়েছিল ৪ মাস আগে। গত বছরের ২৫ সেপ্টেম্বর। কেন হঠাত্‍ এতটা চড়ল সেনসেক্স ও নিফটি?  

করোনা, লকডাউনের ধাক্কা কাটিয়েও শেয়ার বাজার এই নজিরবিহীন উচ্চতায় পৌঁছে যাওয়ায় খুশির হাওয়া লগ্নিকারীদের মধ্যে। গত কয়েক সপ্তাহ ধরে যে ভাবে শেয়ার বাজারে তেজি ভাব, তাতে সেনসেক্সে ৫০ হাজারের উপরে পৌঁছনো শুধু সময়ের অপেক্ষা ছিল বলেই মনে করছিলেন বাজার বিশেষজ্ঞরা। অবশেষে এল সেই মাহেন্দ্রক্ষণ।

বৃহস্পতিবার বাজার খুলেছে ৫০ হাজার ৯৬ অঙ্কে। সকাল ১০টা পর্যন্ত সর্বোচ্চ ৫০,১২৬.৭৩ অঙ্কে পৌঁছেছে সেনসেক্স। নিফটির সর্বোচ্চ উত্থান ১৪,৭৩৮.৩০। লকডাউন কাটিয়ে স্বাভাবিক হয়েছে শেয়ার বাজার। করোনার সংক্রমণও নিয়ন্ত্রণে। তার উপর শনিবার থেকে দেশ জুড়ে শুরু হয়েছে করোনাভাইরাসের টিকাকরণ কর্মসূচি।

এ সবের মিলিত প্রভাবে শেয়ার বাজার মজবুত ছিলই। বুধবার আমেরিকার নতুন প্রেসিডেন্ট হিসেবে জো বাইডেন শপথ নেওয়ার পর তাতে আরও গতি আসে। বৃহস্পতিবার বাজার খুলতেই ফের সবুজ সঙ্কেত প্রায় সব ক্ষেত্রে।  বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই সব ক্ষেত্রে কাজ করে যে ভারতীয় কোম্পানিগুলি তাদের শেয়ার কিনতেই গত ৪ মাসে রীতিমতো হুড়োহুড়ি পড়ে গিয়েছে বিদেশি বিনিয়োগকারীদের।

তার ফলে, দেশের শেয়ার বাজার এখন ঊর্ধ্বমুখী। তাঁদের আশা, চলতি অর্থবর্ষের শেষ ত্রৈমাসিকেও এই ধারা বজায় থাকবে। ফলে, দেশের শেয়ার বাজারের স্বাস্থ্য আরও দু'-তিন মাস ভালই থাকবে। এক দিনে সেনসেক্স ও নিফটি-র এমন উল্লম্ফনের ঘটনা আবারও ঘটলে তাঁরা অবাক হবেন না বলেই জানাচ্ছেন।