মমতাজের মৃত্যু কাহিনী যা আজও মানুষের অজানা

মমতাজের মৃত্যু কাহিনী যা আজও মানুষের অজানা

সম্রাট শাহজাহানের মমতাজের প্রতি ভালবাসার নিদর্শন হল দিল্লির যমুনা নদীর তীরে অবস্থিত তাজমহল। শাহজাহান তার পত্নী মমতাজের মৃত্যু শোকে স্মৃতিসৌধ হিসেবে গড়ে তুলেছিলেন তাজমহল এই তথ্য প্রায় সকলেরই জানা। কিন্তু অল্প বয়সে মমতাজের  মৃত্যু কীভাবে হয়েছিল সেই তথ্য আজও বহু মানুষের অজানা। জেনে নেওয়া যাক তাহলে এই মোঘল সম্রাজ্ঞীর মৃত্যু কীভাবে হয়েছিল —

মমতাজের আসল নাম ছিল আরজুমান্দ বানু বেগম। আগ্রার পারসি পরিবারের ওয়াকিল আসিফ খানের কন্যা মমতাজ। এবং ঔরঙ্গজেবের তৃতীয় পুত্র ছিল শাহজাহান। শাহজাহান এর আসল নাম ছিল প্রিন্স খুরাম। মুঘল সম্রাটদের বাগানে আয়োজিত  মিনা বাজারে শাহজাহান মমতাজকে দেখে পছন্দ হওয়ায় ১৬১২ সালে মমতাজকে বিবাহ করেন শাহজাহান। বিবাহের পর আরজুমান্দ বানু বেগম নাম পরিবর্তন করে শাহজাহান নাম দেন মমতাজ মহল। মমতাজ ছিল সম্রাট শাহজাহানের দ্বিতীয় স্ত্রী। 

মমতাজ চৌদ্দটি সন্তানের জন্ম দিয়েছিলেন। তার মধ্যে একটি মাত্র ছিল কন্যা সন্তান ছিল যিনি ছিলেন মহারানী জাহানারা বেগম। মমতাজের মৃত্যু ও হয় সন্তান জন্ম দেওয়ার সময়। 

শাহজাহান ও মমতাজের সম্পর্ক ছিল নিবিড় বন্ধনে আবদ্ধ।শাজাহান তাঁর জীবনে সব থেকে বেশি বিশ্বাসও করতেন মমতাজকে। মমতাজ হাতির লড়াই দেখতে খুবই পছন্দ করতেন। সেই কারণে বেশিরভাগ যুদ্ধক্ষেত্রেই মমতাজকে নিয়ে যেতেন এবং যুদ্ধক্ষেত্রে মমতাজের পরামর্শ নিতেন শাহজাহান।

১৬২৯ খ্রিস্টাব্দে মোগল সেনাপতি খান জাহান লোদী আহমেদনগরে নিজাম শাহের সাথে মিলিত হয়ে মোঘলদের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ ঘোষণা করেন। শাজাহান মমতাজকে সঙ্গে নিয়ে বিদ্রোহ দমনে যান বুরহানপুর। তখন মমতাজ সন্তানসম্ভবা। মমতাজের শরীর সেই সময় ভালো না থাকার সত্বেও সম্রাট শাহজাহানের সাথে যুদ্ধক্ষেত্রে যাবার জন্য রাজি হন। এই সময় যুদ্ধ যাত্রার কষ্ট সহ্য করতে না পেরে ১৬৩১ সালে ১৪ তম সন্তান জন্ম দেবার সময় সন্তান বেঁচে গেলেও মৃত্যু বরন করেন মমতাজ। 

শোকে কাতর শাহজাহান মমতাজের মৃত্যুর পর তাঁর দেহ তাপ্তি নদীর তীরে জাহানাবাদ বাগানে অস্থায়ীভাবে কবরস্থ করা হয়। এবং মমতাজের দেহ সুরক্ষিত রাখার জন্য মমি তৈরির নানা ভেষজ ঔষধ দিয়ে রাখা হয়। পরবর্তীকালে ১৬৩২ সালে ৫ ই জানুয়ারি সোনায় মোড়া কফিন তুলে আগ্রার যমুনা নদীর তীরে সমাধিস্থ করেন। ১৬৩২ সাল থেকে ১৬৫৩ সাল পর্যন্ত দীর্ঘ ২২ বছর ধরে তিলে তিলে গড়ে তোলেন শোকে কাতর শাহজাহান তাজমহল। শাহজাহান ও মমতাজের ভালোবাসাকে অমর করে রেখেছে এই তাজমহল। এটি শাহজাহান ও মমতাজের ভালোবাসার স্মৃতিসৌধ ছাড়াও  এটি হল পৃথিবীর সপ্তম আশ্চর্যের মধ্যে একটি।