সোমড়াবাজারের বিখ্যাত মা আনন্দময়ীর মন্দির

সোমড়াবাজারের বিখ্যাত মা আনন্দময়ীর মন্দির

শিয়ালদা কিংবা হাওড়া থেকে ব্যান্ডেল হয়ে কাটোয়া রেলপথে সোমড়াবাজার রেল স্টেশন। সোমড়া গ্রামে ঢুকলেই আঁকাবাঁকা বাঁধানো পিচের রাস্তা | স্টেশন থেকে ভ্যান বা টোটো করে পৌঁছনো যায় সুখাড়িয়া গ্রামে | স্টেশন থেকে খুব বেশি হলে ১০ থেকে ১৫ মিনিট লাগবে সুখড়িয়া গ্রামে পৌঁছতে |

সেখানেই আনন্দময়ী কালীমন্দিরে বিরাজ করছেন মা আনন্দময়ী | জানা যায়, ১৮১৩ সালে সোমড়াবাজারের এই বিখ্যাত আনন্দময়ী মন্দিরটি নির্মাণ করেছিলেন সুখড়িয়া গ্রামের জমিদার বীরেশ্বর মিত্র মুস্তাফি | মায়ের মন্দিরটি প্রাঙ্গনটি শুরু হয়েছে জমিদার বাড়ি ছাড়িয়ে একটু এগিয়ে |

মায়ের মন্দিরে পৌঁছতে গেলে ডান হাতে পড়বে একটি বিশাল বড় পুকুর | পুকুরের উল্টোদিকে আরও একটি জমিদার বাড়ি (বিশ্বাস বাড়ি) | মন্দিরের মন্দিরের সামনে একটি পুরো ফুটবল আকারের উঠোন | উঠোনের চারিদিকে শিব মন্দির | মায়ের মন্দিরের ডানদিকে ৬ টি শিব মন্দির ও বাম দিকে ৬টি শিব মন্দির |

সব মিলিয়ে মায়ের মন্দির ছাড়াও সেখানে ১২টি শিব মন্দির রয়েছে |   আনন্দময়ী মন্দিরটি সম্পূর্ণভাবে ইটের তৈরী | মন্দিরের স্তম্ব, খিলান, শীর্ষ ও বহির্ভাগ টেরাকোটার দারুন সুন্দর অলংকরণে সাজানো | মন্দিরের গর্ভগৃহে সিমেন্টের বেদিতে কাঠের সিংহাসনে শায়িত শিব |

শিবের হাত দুটি মাথার দিকে | মা আনন্দময়ী বাবু হয়ে বসে আছেন শিবের মুখের দিকে মুখ করে | মাথায় রুপোর মুকুট | দেবী চতুর্ভুজা | কষ্টিপাথরে নির্মিত বিগ্রহ উচ্চতায় প্রায় তিন ফুট | বসা বিগ্রহের আকর্ষণই আলাদা | ফালা ফালা চোখ দুটো যেন একটা পটলের দুটো ফালি |

তিনতলা বিশিষ্ট মন্দিরে শিখর বা চূড়া আছে মোট পঁচিশটি | কথিত আছে রানী রাসমণি নবদ্বীপ যাওয়ার সময় মা আনন্দময়য়ের মন্দিরটি দেখেছিলেন | তারপরেই তিনি দক্ষিনেশ্বর ফিরে জগৎ বিখ্যাত দক্ষিণেশ্বরের মা ভবতারিনীর মন্দিরটি ওই ভাবেই তৈরী করেছিলেন |  

ছ’ফুট উঁচু ভিত্তি বেদির উপরে ৭০ ফুট ৮ ইঞ্চি উচ্চতার এই বিশালাকার মন্দিরটি গঠনে ও অলঙ্করণে একটি বিশিষ্ট স্থান অধিকার করে আছে সারা বাংলা জুড়ে মন্দিরের সম্মুখভাগে সিংহবাহিনী, তারা, দুর্গা, অন্নপূর্ণা, জগদ্ধাত্রী, রাধাকৃষ্ণ, রাম-লক্ষ্মণ-সীতা, মহাবীর, গণেশ প্রভৃতির মূর্তি ফলকে উৎকীর্ণ আছে |

 মায়ের মন্দিরের পশে মোট বারোটি শিব মন্দির এর মধ্যে দুটি পঞ্চরত্ন, বাকি দশটি আটচালা | পঞ্চরত্নের মন্দির দুটির মধ্যে একটি গণেশের | এছাড়াও সোমড়াবাজার গ্রামে রয়েছে আরও বহু প্রাচীন মন্দির | যেমন নিস্তারিণী মন্দির, রয়েছে হরসুন্দরী মন্দির, রয়েছে বাবা বুড়ো শিবের মন্দির |