দু’দিনের কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের সফর ঘিরে রাজ্য জুড়ে জল্পনা তুঙ্গে

দু’দিনের কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের সফর ঘিরে রাজ্য জুড়ে জল্পনা তুঙ্গে

দু’দিনের বঙ্গ সফরে আসছেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। তাঁর সেই সফরে তৃণমূলের আর কে কে যোগ দেবেন, তা নিয়ে রাজ্য জুড়ে জল্পনা তুঙ্গে উঠেছে। গত বারের সফরে অমিত শাহের হাত ধরে বিজেপি-তে যোগ দিয়েছিলেন শুভেন্দু অধিকারী, সুনীল মণ্ডল-সহ একাধিক তৃণমূল নেতা। অমিত-সফরে এ বার যাঁরা যোগ দিতে পারেন জল্পনার সেই তালিকায় রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায়, বৈশালী ডালমিয়া, প্রবীর ঘোষালের নাম ভাসছে।

বিজেপি সূত্রে জানা গিয়েছে, ২৯ জানুয়ারি শুক্রবার রাতে কলকাতায় পৌঁছবেন অমিত। তার পরের দু’দিন তাঁর ঠাসা কর্মসূচি রয়েছে। তার মধ্যে ৩১ জানুয়ারি রবিবার হাওড়ার ডুমুরজলায় বিজেপি-র এক জনসভায় অংশগ্রহণ করবেন অমিত। অসমর্থিত সূত্রের খবর, সেখানেই অমিতের হাত ধরে গেরুয়া শিবিরে যোগ দিতে পারেন রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী তথা ডোমজুড়ের তৃণমূল বিধায়ক রাজীব।

তাঁর সঙ্গী হতে পারেন বালির বহিষ্কৃত তৃণমূল বিধায়ক বৈশালী। এ ছাড়াও দলবদল করার সম্ভাবনা রয়েছে উত্তরপাড়ার তৃণমূল বিধায়ক তথা সাংবাদিক প্রবীর ও হাওড়ার প্রাক্তন মেয়র রথীন চক্রবর্তীর। পাশাপাশি, হাওড়া ও কলকাতা পুর নিগমের বেশ কিছু কাউন্সিলরও বিজেপি-তে যোগ দিতে পারেন। বিধানসভা ভোটে বাংলা দখল করতে গেলে মতুয়া ভোট যে প্রয়োজন, তা বিলক্ষণ জানেন শাহ।

তাই এই সফরে তৃণমূলকে ধাক্কা দেওয়ার পাশাপাশি, মতুয়া ভোট নিশ্চিত করাও প্রাক্তন বিজেপি সভাপতির অন্যতম লক্ষ্য বলেই মনে করা হচ্ছে। যদিও, দলীয় কর্মসূচির পাশাপাশি, শনিবার সিআরপিএফ আধিকারিকদের সঙ্গে এবং রবিবার বিএসএফ আধিকারিকদের সঙ্গে বৈঠক করবেন তিনি।  ​উল্লেখ্য, সাম্প্রতিককালে বেশ কিছু বিষয় নিয়ে দলের বিরুদ্ধে সোচ্চার ছিলেন বৈশালী ডালমিয়া।

তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হল নিজের বালি কেন্দ্রে বেআইনি নির্মাণ। এছাড়াও দলের কিছু নেতার আচার-আচরণ নিয়েও তিনি প্রশ্ন তোলেন। তাদেরকে 'উইপোকার' সঙ্গে তুলনা করেছিলেন। তারপর রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায়ের পক্ষে মুখ খোলার পর দল থেকে বহিষ্কার করা হয় বৈশালী ডালমিয়াকে। এদিকে, বৈশালী ডালমিয়ার বিজেপিতে যোগদানের সম্ভাবনা নিয়ে খুব একটা ভাবিত নয় বলে জানিয়েছে তৃণমূল।

দলের বর্ষীয়ান নেতা তথা দমদমের সাংসদ সৌগত রায় বলেছেন, বৈশালী ডালমিয়া সেই অর্থে রাজনৈতিক নেতা নন। সুতরাং, তাঁর বিজেপিতে যোগ দেওয়ার বিষয়টি নিয়ে আমরা খুব একটা ভাবিত নই। এদিকে অমিত শাহ রাজ্যে পা দেওয়ার আগেই শুরু হয়ে গিয়েছে তাঁর কর্মসূচি নিয়ে জটিলতা। বিদ্যাসাগরের বাড়ি যাওয়ার কথা রয়েছে অমিত শাহের। কিন্তু এখনও পূর্ত দফতরের অনুমতি মেলেনি। ফরে বিদ্যাসাগরের বাড়ি যাওয়ার কর্মসূচি বাতিল হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।