নাসার মহাকাশযান দেখল গ্রহাণুর প্রানের স্পন্দন

নাসার মহাকাশযান দেখল গ্রহাণুর প্রানের স্পন্দন

আজবাংলা  এতদিন আমরা সবাই জানতাম মহাকাশে প্রান নেই। কিন্তু এতগুলো বছর পার করে দেওয়ার পর জানা যাচ্ছে, তাঁদের মধ্যেও দেখা গেছে প্রানের স্পন্দন। এতদিন বাদে জানা যাচ্ছে, কোটি কোটি মাইল দূরে পড়ে পাথর যাদের ভাবা হত তাঁদের মধ্যেও নাকি রোজ ফাটল ধরে, ভাঙাচোরা হয়। 

নাসার মহাকাশযান ‘ওসিরিস রেক্স’-এর চোখেই প্রথম ধরা পড়ল আপাত-নিষ্প্রাণ আদ্যোপান্ত পাথুরে গ্রহাণুতে {অ্যাস্টারয়েড} প্রাণের স্পন্দন। গ্রহাণুটির নাম- ‘বেন্নু’। সেই পর্যবেক্ষণের ভিত্তিতে লেখা গবেষণাপত্রটি প্রকাশিত হয়েছে গত কাল, ৯ সেপ্টেম্বর। আন্তর্জাতিক বিজ্ঞান-জার্নাল ‘জার্নাল অব জিওফিজিক্যাল রিসার্চ: প্ল্যানেটস’-এ।

এই মুহূর্তে দাঁড়িয়ে বলা যায়, এই প্রথম কোন গ্রহাণুর মধ্যে এমন প্রানের সঞ্চার দেখা গেল। কোনও গ্রহাণু থেকে কী ভাবে রাশি রাশি কণা প্রতি মুহূর্তে ছড়িয়ে ছিটকে পড়ে মহাকাশে। কেন সেই প্রাণের স্পন্দন, তার যথাসম্ভব ব্যাখ্যা দেওয়ারও চেষ্টা করা হয়েছে গবেষণাপত্রে।কিন্তু সেটা যে কোনও গ্রহাণুর প্রাণের স্পন্দন, তা বোঝা যায়নি প্রথমে, জানিয়েছেন কার্ল।

তাঁরা দূর থেকে ওসিরিস-রেক্স-এর পাঠানো ছবি দেখে ভেবেছিলেন, ওই রাশি রাশি কণা আসলে গুচ্ছ গুচ্ছ তারা। এর পাশাপাশি জানিয়েছেন, ‘‘আমি প্রথমে ওসিরিস-রেক্সের পাঠানো ছবি দেখে চমকে উঠেছিলাম। এত তারা একসাথে ওই এলাকায় কীভাবে? ওখানে বড়জোর ১০টি তারা দেখা যেতে পারে। এখন মহাকাশযানের পাঠানো ছবিতে দেখলাম ছোট ছোট অন্তত ২০০টি বিন্দু। পরে সব ছবি খতিয়ে দেখে বুঝতে পারি ওখানে কোনও নক্ষত্রপুঞ্জ নেই। ওগুলি হল আসলে রাশি রাশি কণা। যা উগরে দিচ্ছে গ্রহাণু বেন্নু। কোনও গ্রহাণুতে যে এই ভাবে প্রাণের স্পন্দন চাক্ষুষ করা যাবে আগে ভাবিনি কখনও।’’

সাধারণত এই ঘটনাগুলি বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই ঘটে গ্রহাণুর বিকেল থেকে সন্ধ্যার মধ্যে। ঘণ্টাদু’য়েক ধরে। সবচেয়ে বড় আকারের যে কণাগুলিকে আমরা বেন্নু থেকে ছিটকে বেরিয়ে আসতে দেখেছি, সেগুলির ব্যাস ৬ সেন্টিমিটার (২ ইঞ্চি)। খুবই ছোট। সংখ্যাও ততটা বেশি কিছু নয়। গতিবেগও খুব কম।

এই প্রসঙ্গে কলকাতার ‘ইন্ডিয়ান সেন্টার ফর স্পেস ফিজিক্স (আইসিএসপি)’-এর অধিকর্তা জ্যোতির্বিজ্ঞানী সন্দীপ চক্রবর্তী জানিয়েছেন, পাথুরে গ্রহাণুগুলি থাকে মূলত মঙ্গল আর বৃহস্পতির মাঝখানে থাকা গ্রহাণুপুঞ্জে (‘অ্যাস্টারয়েড বেল্ট’)। এগুলি আসলে কোনও গ্রহ হয়ে উঠতে পারেনি। কিন্তু এরা যেহেতু সৌরজগত তৈরির সময়কার পদার্থ দিয়ে তৈরি হয়েছিল, তাই এদের সম্পর্কে জানাটা খুব জরুরি। মূলত পাথর আর ধুলোবালি দিয়েই তৈরি। বরফও থাকে যৎসামান্য।

তবে অদ্ভূত কক্ষপথে প্রদক্ষিণের সময় এদের বরফ উবে যায় বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই। যেহেতু এদের কোনও বায়ুমণ্ডল নেই, তাই দিনে আর রাতে গ্রহাণুগুলিতে তাপমাত্রার হেরফের হয় খুবই। পাথরে ফাটল ধরে। তাতে এদের পিঠ থেকে কণা, পদার্থ ছিটকে বেরিয়ে আসে। তার ফলে যে অনেক ক্ষেত্রে এদের এক ধরনের লেজও তৈরি হয়, সেটাও জানা ছিল। পরে মূলত বরফ আর বালি দিয়ে গড়া সেই লেজ খসে পড়ে গ্রহাণুর মূল শরীর থেকে। পৃথিবী সেই পথ দিয়ে গেলে তখনই আমরা উল্কাবৃষ্টি হতে দেখি। প্রতি বছর ১৩ ডিসেম্বর এমন উল্কাবৃষ্টি দেখা যায় যখন গ্রহাণু ‘ফায়থন-৩২০০’-এর খসে পড়া লেজের এলাকা দিয়ে যায় পৃথিবী।

https://www.youtube.com/watch?time_continue=13&v=x8Q8_aJHUwM&feature=emb_title