জাপানের এই গ্রামে মানুষের থেকে পুতুলের সংখ্যা বেশি

জাপানের এই গ্রামে মানুষের থেকে পুতুলের সংখ্যা বেশি

জাপানের শিকোকু দ্বীপের এই ছোট্ট গ্রামটির নাম নাগোরো,যেখানে মানুষের থেকে পুতুলের সংখ্যা বেশি।  প্রাকৃতিক পরিবেশ, বিশুদ্ধ বাতাস এর পরও কোনো উচ্ছল প্রাণের ছোটাছুটি নেই এই গ্রামে। নিস্তব্ধতা যেন চারদিকে আঁকড়ে ধরে আছে।  নাগোরো গ্রামের সুকিমি আয়োনো নামের এক নারী মানুষের শূন্যতা পূরণের জন্য পুতুলের আশ্রয় নিয়েছেন।শৈশবে তিনি যখন গ্রামে ছিলেন তখন ওই গ্রামে ৩০০ জনের মতো বাসিন্দা ছিলেন। পড়াশোনার জন্য নিকটবর্তী শহর ওসাকায় চলে গিয়েছিলেন তিনি। ওসাকা থেকে সুকিমি ফিরে আসেন ২০০২ সালে ,কিন্তু ফিরে এসে গ্রামের দৃশ্য তাকে বেশ ভাবিয়ে তোলে।

মন খারাপের নিঃসঙ্গ দিনগুলো একাই কাটানো শুরু করলেন সুকিমি, এর মধ্যেই  অসুস্থ হয়ে পড়েন সুকিমির বাবা ।সুকিমির বাবা  নিজ বাগানে বুনেছিলেন মুলা আর মটরশুঁটির বীজ। কিন্তু চারা বের হলেই পাখি সেগুলো খেয়ে ফেলত। এ সমস্যা থেকে উত্তরণের জন্য এক দিন নিজের বাগানের জন্য তাঁর বাবার মুখের আদলে কাকতাড়োয়া বানানোর সিদ্ধান্ত নিলেন সুকিমি। সে সময় সুকিমি চাইলেন গ্রামে মানুষ না থাকলেও সব জায়গা একেবারে মানুষবিহীন না থাকুক। তাই গ্রামের হারিয়ে যাওয়া মানুষদের কথা স্মরণ করে একের পর এক পুতুল বানানোর কাজে হাত দিলেন সুকিমি।

শুরুতেই তিনি একটি পুতুল বানিয়েছিলেন একজন মৃত প্রতিবেশীর আদলে, যার সঙ্গে সুকিমি রোজ কথা বলতেন। যেই মানুষগুলো হারিয়ে গেছে তাদের আদলে একের পর এক পুতুল বানানো শুরু করলেন তিনি।শিশু, কিশোর-কিশোরী, তরুণ-তরুণী, বৃদ্ধ-বৃদ্ধা সবার মতো করেই পুতুল বানিয়ে সাজিয়ে ফেললেন পুরো গ্রাম।  মাঠে কৃষিকাজ করতে থাকা কোনো কৃষক, নদীর পাড়ে গাছের ছায়ায় বসে থাকা সদ্য বিবাহিত জুটি, গায়ে কোট আর মাথায় টুপি পরে কয়েকজন মিলে হয়তো বাগানের কাজ নিয়ে আলোচনা করছেন এমন দৃশ্য নাগোরো গ্রামে  একদম সাধারণ দৃশ্য।

পুরনো কাপড় দিয়ে ৪০টিরও বেশি পুতুল তৈরি করেছিলেন ৭০ বছর এই বয়সী বৃদ্ধা । এই পুতুলগুলো বানানোর আগে গ্রামটি নিতান্তই সাধারণ এক গ্রাম ছিল। কিন্তু ২০১৪ সালে এক জার্মান ফিল্ম মেকার সুকিমির পুতুলের কাজ নিয়ে ‘ভ্যালি অব ডলস’ নামে একটি ছোট ডকুমেন্টারি বানান। তারপর থেকে পরিচিতি পায় এই গ্রাম।