অসমের গ্যাসকূপে বিধ্বংসী আগুন কবে নিভবে তা অনিশ্চয়তায় ঘেরা

অসমের গ্যাসকূপে বিধ্বংসী আগুন কবে নিভবে তা অনিশ্চয়তায় ঘেরা

তিনসুকিয়া   মেরামতির মাঝেই বড় মাপের আগুন লাগল অসমের তিনসুকিয়ায় অয়েল ইন্ডিয়া লিমিটেড-এর প্রাকৃতিক গ্যাস ভাণ্ডারে।তিনসুকিয়ার  বাঘজানে গ্যাসকূপের আগুন কবে নিভবে তা অনিশ্চয়তায় ঘেরা। আগামী দুই-আড়াই মাসেও আগুন না নেভার সম্ভাবনা। আগুন নেভাতে আসছে কানাডার দল। এমনটাই জানালেন শিল্প-বাণিজ্যমন্ত্রী চন্দ্ৰমোহন পাটোয়ারি৷ 

বাঘজানে প্রায় ১০০ দিন ধরে জ্বলছে অয়েল ইন্ডিয়ার  পাঁচ নম্বর গ্যাস কূপ। বিদেশি বিশেষজ্ঞদের সাহায্যেও আগুন নেভেনি। প্রতিবার আশা করা হচ্ছে আগুন অনতিবিলম্বে নিভে যাবে। কূপের মুখ ক্যাপিংও করা হয়েছিল। কিন্তু আগুন নেভেনি।আগুন নেভানোর ব্যর্থতা নিয়ে অসম বিধানসভায় প্রশ্ন তোলেন দুর্গা ভূমিজ।

অভিযোগ তোলেন বাঘজাবনে ক্ষতিগ্রস্তদের অনেকে ক্ষতিপূরণ পাননি।চন্দ্রমোহন জানান, আড়াই মাস পরে কানাডার বিশেষজ্ঞদের বাঘজানে আসার কথা। বাঘজানের আগুনে বাড় পুড়ো যাওয়া ২০টি পরিবারকে ২০ লক্ষ টাকা, ক্ষতিগ্রস্ত ১৪৮৪টি পরিবারকে ৩০ হাজার টাকা দেওয়া হয়েছে। জেলাশাসকের তদন্তের ভিত্তিতে ক্ষতিগ্রস্ত ৫৭টি পরিবারকে চিহ্নিত করা হয়েছে।

তাদেরও ১০ লক্ষ টাকা করে ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে। কূপ থেকে দেড় কিলোমিটার দূরে থাকা ৫৬১টি পরিবারকে দেওয়া হবে আড়াই লক্ষ টাকার ক্ষতিপূরণ। কার ভুলে এই অগ্নিকাণ্ড- তার তদন্তও অব্যহত আছে বলে পাটোয়ারি জানান।অয়েল ইন্ডিয়া সূত্রে জানা গিয়েছে,

উচ্চ চাপের গ্যাস প্রবাহ বন্ধ করতে ব্যর্থ হওয়া সিঙ্গাপুরের অ্যালার্ট ডিজাস্টার কোম্পানীর বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে পরবর্তী পদক্ষেপ নিয়ে অয়েল ও ওএনজিসি কর্তাদের মতানৈক্য হচ্ছে।

জানা গিয়েছে, আগুন নেভাতে না পারায় নির্গত গ্যাস পাইপ দিয়ে আর্লি প্রোডাকশন স্টেশন পর্যন্ত উৎপাদনক্ষম করে তোলার চেষ্টা হচ্ছে এবার।সরকার যদিও বলছে, বাঘজানবাসী ক্ষতিপূরণ পেয়েছে। কিন্তু বাঘজানের ক্ষতিগ্রস্তরা ক্ষতিপূরণের দাবিতে জেলাশাসক কার্যালয়ের বাইরে শিবির গেড়ে প্রতিবাদ চালাচ্ছেন।

গত ২৭ মে ভূস্তর থেকে ৩,৭২৯ মিটার গভীরে থাকা তেল ও গ্যাসের রিজার্ভয়ার থেকে গ্যাস সংগ্রহের কাজ চলার সময় আচমকা বাঘজানের ওই গ্যাস কূপ থেকে দমকে দমকে প্রাকৃতিক গ্যাস ও কন্ডেন্সেট বের হতে শুরু করে। নেক চেষ্টা করকেও তা বন্ধ করা যায়নি।