মৃত গর্ভস্থ সন্তান নিয়ে কাকুতি মিনতিতেও বেড মিলল না মেদিনীপুর হাসপাতালে

মৃত গর্ভস্থ সন্তান নিয়ে কাকুতি মিনতিতেও বেড  মিলল না মেদিনীপুর হাসপাতালে

ফের রোগী ফেরাল হাসপাতাল! এবার রেফার-যন্ত্রণার শিকার এক প্রসূতি! গর্ভস্থ সন্তান মৃত। তাই প্রসূতিকে হাসপাতালে ভর্তি না নিয়েই ফিরিয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠল মেদিনীপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের বিরুদ্ধে। তারপর খড়্গপুর থেকে মেদিনীপুর- দিনভর ছোটাছুটি করেও মিলল না শয্যা। চরম হয়রানির শিকার হলেন প্রসূতি ও তাঁর পরিবার।  জানা গিয়েছে, ওই প্রসূতির নাম মমতা রানা।

খড়্গপুরের পালঝাড়ি এলাকার বছর ২৩-এর গৃহবধূ বৃহস্পতিবার রাতে হঠাৎ করেই গর্ভের সন্তানের কোনও সাড়া পাচ্ছিলেন না, পাচ্ছিলেন না গর্ভাবস্থার অনুভূতি। তাই রাতেই তড়িঘড়ি খড়্গপুর মহকুমা হাসপাতালে ভর্তি করা হয় মমতা রানাকে। শুক্রবার সকালেই প্রসূতির আল্ট্রাসোনোগ্রাফি করা হয় হাসপাতালের তরফে। রিপোর্ট দেখে মমতার পরিবারকে চিকিৎসকেরা জানান, মমতাদেবীর গর্ভের সন্তান মৃত। জরুরি ভিত্তিতে অপারেশন প্রয়োজন বলেও জানান চিকিৎসকেরা। কিন্তু অপারেশন করার মতো পরিকাঠামো নেই খড়্গপুর মহকুমা হাসপাতালে।

এমনই কারণ জানিয়ে শনিবার সকালে প্রসূতিকে রেফার করা হয় মেদিনীপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে।  মাতৃযানে করে প্রসূতিকে খড়্গপুর থেকে নিয়ে আসা হয় মেদিনীপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে। কিন্তু আল্ট্রাসোনোগ্রাফি রিপোর্ট দেখে চিকিৎসকরা সাফ জানিয়ে দেন, ভর্তি নেওয়া হবে না প্রসূতিকে। বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করার পরামর্শ দেওয়ার অভিযোগ ওঠে চিকিৎসকদের তরফে। চিকিৎসকের পরামর্শ শুনে রীতিমতো ফাঁপড়ে পড়ে যান প্রসূতির পরিজনেরা। দীর্ঘ কাকুতি-মিনতির পরেও প্রসূতিকে ভর্তি নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ ওঠে।

প্রায় ছ-ঘণ্টা মেদিনীপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের মাতৃমা ভবনের সামনে বসে থাকার পর অথৈ জলে প্রসূতির পরিবার।  কোথায় গেলে মিলবে চিকিৎসা? ভেবেই দিশাহারা মমতা রানার পরিবার। বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার মতো পরিবারের আর্থিক স্বচ্ছলতাও নেই। ফলে বাধ্য হয়ে আবার প্রসূতিকে নিয়ে খড়্গপুর মহকুমা হাসপাতালের দিকেই রওনা দিয়েছেন মমতার পরিবার। যদিও জানেন না, আদৌ সেখানে প্রসূতির ঠাঁই মিলবে কিনা বা মমতার অপারেশন হবে কিনা।

শেষ পর্যন্ত কী হবে তা ভেবে পাচ্ছেন না মমতা রানার পরিবার। এদিকে, কোনও পরিস্থিতিতেই রোগী ফেরানো যাবে না বলে কড়া নির্দেশ দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কিন্তু তারপরেও কী ভাবে রোগী ফেরানো হল, এমন প্রশ্নও উঠছে। এব্যাপারে কার্যত মুখে কুলুপ এঁটেছে মেদিনীপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। হাসপাতালের সুপার থেকে মেদিনীপুর মেডিক্যাল কলেজের প্রিন্সিপালকে একাধিকবার ফোন করলেও মেলেনি উত্তর। ‘রেফার-রোগ’ কাটাতে বারবার মুখ্যমন্ত্রীর কড়া দাওয়াইয়ের পরেও চিত্রটা যে বদলায়নি, তা কার্যত এদিনের ঘটনা থেকেই স্পষ্ট।