ক্রেডিট কার্ডে কেনাকাটা আর ড্রাগের নেশায় কোনও তফাত নেই, দাবি নয়া সমীক্ষায়

ক্রেডিট কার্ডে কেনাকাটা  আর ড্রাগের নেশায় কোনও তফাত নেই, দাবি নয়া সমীক্ষায়

 সবার আগে একটা কথা স্পষ্ট করে না নিলেই নয়- ডেবিট কার্ডকে এই তালিকা থেকে একেবারে ছেঁটে ফেলে দিতে হবে। ডেবিট কার্ডে কেনাকাটাও আলবাত ক্যাশলেস ট্রানজাকশন, কিন্তু এখানে কতটা খরচ করা যাবে, তার একটা বাধাধরা গণ্ডি আছে। ফলে, একটা হিসেব মাথার মধ্যে থেকেই যায়। কিন্তু ক্রেডিট কার্ডের ক্ষেত্রে সেই ঝক্কি নেই, অতএব কেনাকাটার আনন্দও লাগামছাড়া।

তাই ইউনাইটেড কিংডমের ইউনিভার্সিটি অফ ম্যাসাচুসেটসের টেকনোলজি বিভাগের তরফ থেকে দাবি করা হচ্ছে যে কোকেনের মতো ড্রাগ নিলে মস্তিষ্কে যে সুখের অনুভূতি হয়, ক্রেডিট কার্ড দিয়ে কিছু কেনাকাটা করলেও হুবহু এক অনুভূতি হয়। সাম্প্রতিক এই সমীক্ষাটি পরিচালনা করেছেন ইউনিভার্সিটি অফ ম্যাসাচুসেটসের অধ্যাপক ড্রেজেন প্রেলেক এবং তার দল।

নগদ টাকা ফেলে কেনাকাটা করেন এবং ক্রেডিট ব্যবহার করে কেনাকাটা করেন, এমন একদল উপভোক্তার মধ্যে এই সমীক্ষাটি পরিচালনা করা হয়েছিল যার ফলাফল প্রকাশিত হয়েছে সায়েন্টিফিক নামের জার্নালে। অধ্যাপক প্রেলেক এবং তাঁর দলের দাবি, কোকেন এবং এই জাতীয় ড্রাগের নেশায় মস্তিষ্কে যে রাসায়নিক প্রতিক্রিয়া হয়, ঠিক সেটাই না কি ক্রেডিট কার্ডে কেনাকাটা করলেও হয়ে থাকে।

তবে এক্ষেত্রে কিছু প্রভেদ আছে। এই রাসায়নিক প্রতিক্রিয়া এবং সুখানুভূতি দেখা দেয় একমাত্র বিলাসবহুল কোনও জিনিসের পিছনে ক্রেডিট কার্ড ব্যবহার করে খরচ করার সময়েই। গবেষকরা পরীক্ষা করে দেখেছেন যে জনৈক ব্যক্তি যদি ক্রেডিট কার্ড ব্যবহার করে গাড়ির জন্য জ্বালানি তেল কেনেন, তাহলে তাঁর মস্তিষ্কে ড্রাগ নেওয়ার মতো কোনও রাসায়নিক প্রতিক্রিয়া তৈরি হয় না।

কিন্তু কেউ যদি কোনও রেস্তোরাঁয় যান এবং ঠিক করে থাকেন যে ক্রেডিট কার্ডের মাধ্যমে পেমেন্ট করবেন, তাহলে ড্রাগ নেওয়ার মতো অনুভূতি মস্তিষ্কে হয়। শুধু তাই নয়, এই ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির প্রয়োজন না থাকলেও নানা রকম খাবার কিনে খরচের মাত্রা বাড়িয়ে তোলার প্রবণতা দেখা গিয়েছে বলে দাবি করছেন গবেষকরা। সঙ্গত কারণেই বিষয়টি নিয়ে আপাতত উদ্বেগ দেখা দিয়েছে বিশেষজ্ঞ মহলে।

কেন না, করোনাকালে যাতে কাগজের নোট থেকে সংক্রমিত হতে না হয়, সেই ভয়ে ক্যাশলেস ট্রানজাকশনের পরিমাণ অনেকটাই বেড়ে গিয়েছে। এ কাজে মূলত ক্রেডিট কার্ডের ব্যবহার দিন দিন বেড়ে চলেছে। ইউনাইটেড কিংডমের সাম্প্রতিক আরেক সমীক্ষা দেখিয়ে দিয়েছে যে কেনার আনন্দে নিজেদের আটকাতে না পেরে অনেক পরিবার একেক বারে ১০০ ইউরো অর্থাত্‍ ৮ হাজার ৬৪৬ টাকা ৬০ পয়সা করেও খরচ করে চলেছেন, সে ধার শোধ করার ক্ষমতা তাঁর থাকুক বা না থাকুক! এরকম চলতে থাকলে দেশের অনেক পরিবার নিঃস্ব হয়ে যাবে এবং পরিণতিতে তা নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে দেশের অর্থনীতিতে।