কলকাতার কাছেই রয়েছেন এই প্রাচীন কালী, জেনে নিন দেবীমহিমা

কলকাতার কাছেই রয়েছেন এই প্রাচীন কালী, জেনে নিন দেবীমহিমা

দক্ষিণ শহরতলির বোড়ালকে কি আজ আর ‘গ্রাম’ বলা চলে? অথচ এই জনপদেই সত্যজিৎ রায় তাঁর অবিস্মরণীয় ‘পথের পাঁচালী’-র শ্যুটিং করেছিলেন। শহর বাড়তে বাড়তে বোড়ালের ‘গ্রামীণত্ব’-কে খেয়ে ফেলেছে কবেই। আজকে এই জনপদ মহানগরেরই এক সম্প্রসারিত অংশ। গড়িয়া থেকে খুব বেশি হলে ১০-১২ কিলোমিটার দূরের এই জনপদের প্রাচীনত্ব প্রশ্নাতীত।

আদিগঙ্গার তীরে অবস্থিত বোড়াল এক গুরত্বপূর্ণ প্রত্নক্ষেত্র। অনুমান করা হয়, মৌর্য-শুঙ্গ আমলে এবং অবশ্যই পাল ও সেন যুগে এখানে এক ঋদ্ধ জনবসতি ছিল। এখান থেকে বিভিন্ন সময়ে প্রাপ্ত প্রাচীন মূর্তি, মৃৎপাত্র ইত্যাদি রাজ্যের বিভিন্ন মিউজিয়ামে ছড়িয়ে রয়েছে। সেটা বড় কথা নয়, বোড়ালের অন্যতম আকর্ষণ অন্য জায়গায়। বোড়াল গ্রামে বেশ কিছু প্রাচীন মন্দির রয়েছে।

এদের মধ্যে দেবী ত্রিপুরসুন্দরীর মন্দিরটি সত্যিই রহস্যময়।ত্রিপুরসুন্দরী দশমহাবিদ্যার অন্যতমা। তিনিই ‘কামাখ্যা’ নামে পরিচিতা। ‘কালিকাপুরাণ’, ‘যোগিনীতন্ত্রম’ ইত্যাদি গ্রন্থে তাঁর যে রূপ বর্ণিত হয়েছে, তা এই রূপ— সুপ্ত শিবের নাভি থেকে উদ্‌গত পদ্মের উপরে তিনি উপবিষ্টা।

তাঁর পদপ্রান্তে অবস্থান করছেন পঞ্চদেবতা। এঁরা যথাক্রমে— ব্রহ্মা, বিষ্ণু, মহেশ্বর, ঈশ্বর এবং রুদ্র। এই দেবী ‘তান্ত্রিক পার্বতী’ নামেও পরিচিতা। পাল যুগে তন্ত্রধর্মের পুনর্বিন্যাস ঘটে। আর সেই সময়ে এই গ্রামটিও এক ঋদ্ধ জনপদে পরিণতি পায়।

অনুমান করা হয়, সেই কাল থেকেই পূজিতা হয়ে আসছেন গ্রামদেবী ত্রিপুরসুন্দরী। এখানে তন্ত্রোক্ত বর্ণনা অনুসারেই অধিষ্ঠান করছেন দেবী। তাঁর পদপ্রান্তে যথারীতি বিরাজ করছেন পঞ্চদেবতা।   মন্দিরের সংলগ্ন এক পুষ্করিণী, এর পরিচয় ‘সেন দিঘি’ নামে। এই জলাশয়ের গর্ভ থেকেই পাওয়া গিয়েছে বিভিন্ন প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন ও বেশ কিছু দেবমূর্তি।

 বোড়ালের আশপাশের এলাকায় ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে বেশ কিছু উল্লেখযোগ্য মন্দির। তার মধ্যে আটচালা ধাঁচের কয়েকটি তো বাংলার প্রাচীন স্থাপত্যের অনুপম নিদর্শন। ত্রিপুরসুন্দরীর মন্দিরটি কিছু দিন আগেই সংস্কার করা হয়েছে। গড়িয়া বাস স্ট্যান্ড থেকে অটোরিক্সায় ৫-১০ মিনিট গেলেই বোড়াল। ‘পথের পাঁচালী’-র স্মৃতি আজ আর অবশিষ্ট নেই বটে, তবে দেবী ত্রিপুরসুন্দরী রয়েছেন তাঁর সঙ্গে থমকে থাকা প্রায় হাজার বছরের ইতিহাস নিয়ে।