এবার ওমিক্রনের থাবা আক্রান্ত , মুর্শিদাবাদের ৭ বছরের শিশু

এবার ওমিক্রনের থাবা  আক্রান্ত , মুর্শিদাবাদের ৭ বছরের শিশু

গত কয়েকদিন ধরে ওমিক্রন নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে দেশ জুড়ে। একে একে করোনার নয়া ভ্যারিয়েন্টের খোঁজ পাওয়া গিয়েছে মহারাষ্ট্র, কর্ণাটক, গুজরাট সহ একাধিক রাজ্যে। এবার বাংলায় মিলল ওমিক্রন আক্রান্তের খোঁজ। আক্রান্ত মুর্শিদাবাদের বাসিন্দা এক সাত বছরের শিশু। আবু ধাবি থেকে হায়দরাবাদ হয়ে সে পরিবারের সঙ্গে বাংলায় এসেছে বলে সূত্রের খবর।

স্বাস্থ্য দফতর সূত্রে জানা গিয়েছে, গত ১১ ডিসেম্বর আবু ধাবি থেকে এসে হায়দরাবাদে বিমানবন্দরে অবতরণ করে ওই শিশু ও তার বাবা-মা। হায়দরাবাদে দু দিন থাকার পর গতকাল অর্থাৎ ১৪ ডিসেম্বর কলকাতায় ফেরে সেই পরিবার। কলকাতা বিমানবন্দর থেকে সড়কপথে গতকালই তারা মুর্শিদাবাদের বাড়িতে ফেরে। মুর্শিদাবাদের ফরাক্কার বাসিন্দা ওই পরিবার।

  এ দিকে, আবু ধাবি থেকে এসে হায়দরাবাদে বিমানবন্দরে নামার পর ওই পরিবারের প্রত্যেক সদস্যের করোনা পরীক্ষা করা হয়। তাতে বাবা-মায়ের রিপোর্ট নেগেটিভ আসে, তবে শিশুর নমুনায় করোনা ভাইরাসের উপস্থিতি ধরা পড়ে। এরপরই ওই নমুনা জেনোম সিকোয়েন্সিং-এর জন্য পাছানো হয়। তেলেঙ্গানা সরকার ওই রিপোর্টে জানতে পারে শিশুটি ওমিক্রনে আক্রান্ত। এরপরই পশ্চিমবঙ্গ সরকারকে সে কথা জানানো হয় তেলেঙ্গানার তরফ থেকে। আজ এই খবর প্রকাশ্যে আসার পর ওই শিশুকে দ্রুত আইসোলেট করার উদ্যেগ নেওয়া হয়েছে।

মুর্শিদাবাদের জেলা স্বাস্থ্য আধিকারিক জানিয়েছেন, আপাতত মুর্শিদাবাদ মাতৃসদনে আইসোলেশনে রাখা হবে ওই শিশুকে। এরপর সংস্পর্শে আসা ব্যক্তিদের চিহ্নিত করা হবে। আবু ধাবি থেকে মুর্শিদাবাদ দীর্ঘ পথ অতিক্রম করেছে ওই পরিবার। তাই অনেকেই সংস্পর্শে এসেছেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। মুর্শিদাবাদের জেলা স্বাস্থ্য আধিকারিক জানিয়েছেন, জেলার তরফে সবরকমের প্রস্তুতি রয়েছে। তবে ওমিক্রন আক্রান্তের জন্য় উপযুক্ত ব্যবস্থা আছে কি না, সেই প্রশ্নও সামনে আসছে।

তবে করোনা আক্রান্ত হওয়ার পর ওই শিশুকে কী ভাবে তার পরিবার এতটা পথ নিয়ে এল, সেই প্রশ্ন উঠছে। কলকাতা বিমানবন্দর থেকে ওমিক্রন পজিটিভ বালক কী ভাবে ফরাক্কা পৌঁছল? এই প্রশ্নের উত্তরে স্বাস্থ্য দফতরের বক্তব্য, ডোমেস্টিক উড়ানে আসায় নজরদারি এড়িয়ে গিয়েছে ওই বালক। প্রোটোকল মেনে আন্তর্জাতিক উড়ানে আসা যাত্রীদের‌ই পরীক্ষা করা হচ্ছে। নজরদারির ফাঁক কোথায়, এই ঘটনা তা চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিল।

এখনও পর্যন্ত ৭৭ টি দেশে এই ভ্যারিয়েন্টের খোঁজ মিলেছে। বিশেষজ্ঞরা ভাগেই জানিয়েছেন যে ওমিক্রন ভ্যারিয়েন্টের মৃদু উপসর্গ দেখা যাচ্ছে আক্রান্তদের মধ্যে। হু প্রধান টেডরস আধানম বলেছেন, ‘ওমিক্রনকে মৃদু বলে গুরুত্ব দিচ্ছেন না অনেকে। কিন্তু ওমিক্রনের জেরে অসুস্থতা যতই কম হোক না কেন, এত বেশি সংখ্যায় মানুষ আক্রান্ত হতে পারে যাতে স্বাস্থ্য ব্যবস্থা ধাক্কা খেতে পারে।’ সতর্ক করে তিনি জানিয়েছেন, অন্যান্য ভ্যারিয়েন্টের তুলনায় অনেক বেশি দ্রুত হারে ছড়িয়ে পড়ছে ওমিক্রন।