কর আদায়ে করতে এবার নাগরিকদের বাড়ি বাড়ি যাবে পুর আধিকারিকরা

কর আদায়ে করতে এবার নাগরিকদের বাড়ি বাড়ি যাবে পুর আধিকারিকরা

এবার বকেয়া কর আদায়ে কর প্রদেয়কারীদের বাড়ি বাড়ি যাবে কর বিভাগের আধিকারিকরা। পাশাপাশি তারা কেন কর দিতে পারছে না সেই রকম সমস্যা অনুযায়ী তাদের ভাগ করা হবে তিনটি বিভাগে। সেই অনুযায়ী চলবে সমস্যা সমাধানের কাজ। ওয়েবার স্কিম চালু করে বকেয়া কর আদায়ে করার উদ্যোগ নিয়েছিল কলকাতা পুরসভা।

কিন্তু দেখা গিয়েছে ৭৫০ কোটি টাকার লক্ষ্যমাত্রা থাকলেও মাত্র ১১৯ কোটি টাকা আদায় করতে পেরেছে পুর কর্তৃপক্ষ এইবার সিমের মাধ্যমে। এদিকে লকডাউন চলাকালীন বেশিরভাগ নাগরিক সম্পত্তি কর না দেওয়ায় পুরসভার কোষাগারে পড়েছে টান। সঙ্গতকারণেই আবেদন করার সেই সময়সীমা এক মাস বাড়িয়ে ৩১ জানুয়ারি পর্যন্ত করা হয়েছে।

এই আবেদনে যাতে মানুষ আরও বেশি করে সাড়া দেয়, তার জন্য মাইকে প্রচার, টিভি-রেডিওতে বিজ্ঞাপন, লিফলেট বিলির পাশাপাশি সোশ্যাল নেটওয়ার্কিং সাইটকেও হাতিয়ার করছে পুরসভা। এর পাশাপাশি এবার বাড়ি বাড়ি গিয়ে তারা কেন সম্পত্তি কর দিতে পারছেন না সেই সমস্যা শুনবে পুর আধিকারিকরা। পুরসভা সূত্রে খবর এরূপ তিনটি দল ভাগ করা হয়েছে যারা তিন ধরনের সমীক্ষা করবেন।

কে বকেয়া কর দিতে একেবারেই অনাগ্রহী, কার পক্ষে দেওয়া অত্যন্ত কষ্টসাধ্য, এবং কোন কোন সম্পত্তির কর মূল্যায়ণ নিয়ে জটিলতা রয়েছে এই নিয়ে হবে সমীক্ষা। এক পুর আধিকারিক জানান, যদি দেখা যায় কারোর ক্ষমতা থাকা সত্ত্বেও সে ইচ্ছে করেই বকেয়া কর দিচ্ছেন না সে ক্ষেত্রে ওই ব্যক্তিকে প্রথমে নোটিশ দেওয়া হবে।

এরপরেও যদি সেই ব্যক্তি কর না দেন তবে সেক্ষেত্রে তার সম্পত্তি অর্থাত্‍ বকেয়া করের সম্পত্তিটি তারই হোক বা বাড়ি সেটি বাজেয়াপ্ত করা হবে। শহরে ১৬টি বরোতে কতগুলি বাড়ি বেআইনি বাণিজ্যিক কাজে ব্যবহৃত হচ্ছে, কতগুলি সঠিক সম্পত্তি কর দেয়, এই ধরনের নানা তথ্য ইতিমধ্যেই সংগ্রহ করেছে রাজস্ব বিভাগ। পুরসভার নিজস্ব তথ্যানুযায়ী, বর্তমানে শহরে প্রায় সাড় সাত লক্ষ থেকে আট লক্ষ করদাতা রয়েছেন।

এ প্রসঙ্গে কলকাতা পুরসভার মুখ্য প্রশাসক ফিরহাদ হাকিম জানান, "ওয়েভার স্কিম দিনের পর দিন চলতে পারে না। কিন্তু যাঁদের অবস্থা স্বচ্ছল থাকা সত্ত্বেও কর দিচ্ছেন না, তাঁদের বিরুদ্ধে পুরসভাকে কড়া ব্যবস্থা নিতে হবে।ওয়েভার স্কিমে আবেদনের জন্য যে বাড়তি সময় দেওয়া হয়েছে, তা শেষ হলেই পরবর্তী পদক্ষেপ করা হবে"।