ডাকাতের উপদ্রবে জনমানবহীন গ্ৰাম

ডাকাতের উপদ্রবে জনমানবহীন গ্ৰাম

৪৫ বছর ধরে জনমানবহীন হয়ে রয়েছে বাংলাদেশের বগুড়ার সাজাহানপুর উপজেলার গোহাইল ইউনিয়নের পিচুলগাড়ী গ্রাম। এখনো সেই গ্রাম আছে। চারপাশে বিস্তীর্ণ ধানক্ষেতের মাঝে ৯ একর আয়তনের এই গ্রামটি। ৪৫ বছরের পুরনো অনেক বাড়িঘরও আছে এই গ্ৰামে। কিন্তু এসব ঘরে কেউ বাস করেন না। গ্রামবাসীরা ফিরতে  চান এই গ্ৰামে কিন্তু ডাকাতের উপদ্রবে তাদের এই গ্ৰামে পুনরায় ফেরা হয় না। 

স্বাধীনতার পর থেকেই পিচুলগাড়ীতে চোর-ডাকাতের বেশ উপদ্রব ছিল। গ্ৰামে আলো না থাকায় ডাকাতের উপদ্রব অত্যধিক মাত্রায় ছিল।  আশে পাশের জনবসতি না থাকায় আশির দশকের শুরুতে ডাকাতির প্রবণতা আরও বেড়ে যায়। ১৯৮১ সালে লুটপাটের সময় ডাকাতরা খুন করে গ্রামের ধনাঢ্য গৃহস্থ মফিজ উদ্দিন মণ্ডলকে। এরপর থেকেই প্রাণের ভয়ে গ্রাম ছাড়েন বাসিন্দারা। প্রায় ৮ বছর পর একেবারে শুনশান হয়ে যায় গ্রাম।

বাংলাদেশের বগুড়া থেকে প্রায় ২০ কিলোমিটার দূরের এই গ্রামে নেই কোনও যোগাযোগ ব্যবস্থা, নেই কোনও আলো। গ্রামে যাতায়াতের একমাত্র পথ বলতে কেবল একটা আলপথ। অন্যগ্রামে স্থায়ীভাবে বাস করতে শুরু করেছেন এই গ্ৰামের মানুষরা। কিন্তু বর্তমান প্রজন্মের অনেকেই এখন ফিরতে চান গ্রামের ভিতে মাটিতে। তারা জানান, গ্রামে রাস্তা, আলো হলেই ফিরে আসবেন।স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা লিখিতভাবে আবেদন করলে পিচুলগাড়ী থেকে পার্শ্ববর্তী গ্রামের সঙ্গে রাস্তার ব্যবস্থা-সহ প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।’