পরিবেশ বান্ধব গোবরের প্রদীপ কাঁপাবে এবারের দীপাবলি

পরিবেশ বান্ধব গোবরের প্রদীপ কাঁপাবে এবারের দীপাবলি

আজবাংলা    চিনের উহান থেকে গোটা পৃথিবীতে ছড়িয়ে পড়া করোনা ভাইরাস থেকে মুক্তির জন্যে সকলের নজর একদিকে, সেটি ভ্যাকসিন! এই জীবনে একেবারে অতিষ্ট হয়ে পড়েছেন প্রত্যেকে! নিঃশ্বাস নিতেও ভয়, ভাইরাসের ভয় চারদিকে! এই মহামারিকালে বাঙালির শ্রেষ্ঠ উৎসব দুর্গা পূজার আনন্দও প্রায় মাটি!

অসমের কোন কোন জেলায় মূর্তিপুজোর অনুমতি দেয়া হয়নি সংক্রমণের ভয়ে। ঘট পুজোতেই নমো নমো করে পুজো সারার অনুমতি দেয়া হয়েছে। কোথাও বিশেষভাবে অনুমতি দেয়া হয়েছে যদিও কোভিড প্রোটোকল উৎসবের আনন্দকে বেঁধে ফেলেছে। মুক্ত আর নয়।

দুর্গা পূজার কয়েকদিন পরই আলোর উৎসব দীপাবলী। অতিমারি করোনার জন্যেই দেওয়ালির আনন্দেও যতি পড়ার সম্ভাবনা আছে যদিও এই আলোর উৎসবে প্রজ্জ্বলন করার জন্যে একটি সংস্থা তৈরি করছে ১১ কোটি বিশেষ প্রদীপ।

প্রদীপ ছাড়া কী আর আলোর উৎসব হয়? আজকাল যদিও বিভিন্ন ধরনের লাইট এসে পড়েছে চকমকি, সেখানে প্রদীপের আলো যেন একেবারে ম্লান! ফলে ব্যবসায়ীদের ব্যবসাও লাটে উঠেছে। তবে চিনের সঙ্গে সম্পর্ক খারাপ হওয়ার পর পরই ভারতে আরো বেশি করে আত্মনির্ভরতার দিকে জোর দিয়েছে।

এবং এর সুফলও মিলবে! এবার একটু ভিন্নভাবে প্রস্তুত করা হচ্ছে এই প্রদীপ। মাটি দিয়ে নয়, গোবরে প্রদীপ। রাষ্ট্রীয় কামধেনু আয়োগ ভারতের বিভিন্ন বেসরকারি সংস্থা,মহিলা সংগঠনকে জড়িত করে তৈরি করছে পরিবেশ বান্ধব ১১ কোটি গোবরের প্রদীপ।

গো মায়া দিয়া প্ৰকল্পের অধীনে তৈরি করা এই অসাধারণ প্রদীপগুলো পাঠানো হবে ভারতের বিভিন্ন প্রান্তে। আয়োগের চেয়ারম্যান ডাঃ বল্লভভাই কাঠিরিয়া প্রকাশ করা অনুযায়ী, এবারই প্রথম এমন বৃহৎ উদ্যোগ নিয়ে গোবরের প্রদীপ প্রস্তুত করা হচ্ছে।

এই কাজের মাধ্যমে পরিবেশ বান্ধব প্রদীপও উৎপাদন হবে এবং কিছু পরিমাণে হলেও আর্থিক দিক থেকে স্বস্তি পাওয়া যাবে। বাজার থেকে চিনের বৈদ্যুতিক প্রদীপ অন্তর্ধান হওয়ার সময়ই গোবরের প্রদীপ মানুষের দৃষ্টি-মন আকর্ষণ করবে বলেই আশা করা হচ্ছে।

আত্মনির্ভর ভারতকে সবরকমভাবে গড়ে তোলার চেষ্টা চালাচ্ছে মোদি সরকার। গো-সংক্রান্ত ব্যবসায় সব ধরনের উত্সাহ দিতে কেন্দ্রীয় সরকার তত্পর রয়েছে বলে স্পষ্ট ভাষায় বুঝিয়ে দেন খাতিরিয়া। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি নেতৃত্বাধীন সরকার ৫০০ কোটি টাকার কামধেনু আয়োগ প্রতিষ্ঠা করে। এই আয়োগের মূল লক্ষ্যই হলো গরুর নিরাপত্তা এবং গো-সংক্রান্ত বিষয়ে নতুনত্ব ব্যবসার ক্ষেত্র তৈরি করা।