আজ সবাইকে এমন এক তীর্থে ভ্রমণ করাব যেখানে বাঙালি কমই যায়

আজ সবাইকে এমন এক তীর্থে ভ্রমণ করাব যেখানে বাঙালি কমই যায়

আজবাংলা        বেঙ্কটেশ্বর মন্দির হল ভারতের অন্ধ্রপ্রদেশ রাজ্যের চিত্তুর জেলার অন্তর্গত তিরুপতির তিরুমালা শৈলশহরে অবস্থিত একটি অন্যতম প্রধান বিষ্ণু মন্দির | এই মন্দিরের প্রধান উপাস্য দেবতা হলেন হিন্দু দেবতা বিষ্ণুর অবতার বেঙ্কটেশ্বর | তিরুমালা বেঙ্কটেশ্বর মন্দির তিরুপতি মন্দির, তিরুমালা মন্দির ও তিরুপতি বালাজি মন্দির নামেও পরিচিত | 

কথিত আছে বিশ্বের সবচেয়ে ধনী দেবতা হলেন তিরুপতি বালাজি | মানুষ বিশ্বাস করেন বালাজির কাছে কিছু চাইলে তিনি কখনোই ফেরান না | বালাজির কাছে কিছু মানত করলে তা পূরণ হবেই | এমন কোন মানুষ নেই যারা বালাজির কাছে যান না |  মেগাস্টার, রাজনীতিবিদ, দেশের বাইরের কূটনীতিবিদরাও নিজেদের মনের আসা পূরণ করতে ছুটে যায় বালাজির কাছে | 

তিরুপতি বালাজির মন্দিরের প্রতিষ্ঠাতা হলেন বিজয়নগরের রাজা শ্রীকৃষ্ণ দেবরায় | প্রায় ৪ বর্গকিমি এলাকা নিয়ে মন্দিরকে কেন্দ্র করে তিরুমালা শহর | মন্দির সংলগ্ন স্বামী পুষ্করিণীর জলে স্নান করে পবিত্র হয়ে বালাজির দর্শন করার প্রথা রয়েছে | বেশিভাগ ভক্তরা আগে থেকেই বালাজি দর্শনের টিকেট কেটে রাখেন | 

বালাজির মন্দিরে প্রবেশ করতে হলে কিছু নিয়ম কানন আছে | যেমন প্রত্যেকের আইডি কার্ড থাকতেই হবে | পোশাক ভারতীয় রীতির পরিধান করা আবশ্যক | পুরুষদের ধুতি-পাজামা-পাঞ্জাবি-জামা অন্যদিকে মহিলাদের শাড়ি- শালোয়ার কামিজ ও ওড়না পরা বাঞ্ছনীয় | পোশাক অন্য ধরণের কিছু হলে তাকে মন্দিরে প্রবেশ করতে দেওয়া হয়না | 

মন্দিরের মূল প্রবেশদ্বার ২৫০ ফুট উঁচু দ্রাবিড়ীয় স্থাপত্যের নিদর্শন | মন্দিরের মধ্যে সোনার পাতে মোড়া তালগাছ | মন্দিরের মধ্যে অসাধারণ পাথরের কারুকার্য রয়েছে, দেবদেবীর মূর্তি রয়েছে মন্দিরের ভিতরে | মূল মন্দিরটির অর্থাৎ বালাজির গর্ভগৃহটির চূড়া সোনা দিয়ে মোড়া | 

প্রতিদিন প্রায় টো হাজার ভক্ত এসে উপস্থিত হন বালাজির দর্শন পাওয়ার জন্য | তাই কমপক্ষে ৩-৫ ঘণ্টা দীর্ঘ লাইন অতিক্রম করেই তিরুপতি বালাজির দর্শন পাওয়া যায় | বালাজির গর্ভগৃহে কোন লাইটের ব্যবস্থা নেই | সকলকে বালাজির দর্শন করতে হয় প্রদীপের স্বল্প আলোয় | 

 মনিমুক্তা, স্বর্ণালঙ্কার ও পুষ্পমালায় সজ্জিত ২ মিটার উচ্চতা বিশিষ্ট কষ্ঠিপাথরের চতুর্ভুজ দেবতা বালাজি দণ্ডায়মান, দুইহাতে শঙ্খ ও চক্র, অন্য হাত অভয়মুদ্রা ও আর এক হাত কোমরে ন্যস্ত | বালাজির পাশে রয়েছেন শ্রীদেবী ও ভূদেবী | 

বালাজির মন্দির ছাড়াও মন্দির চত্বরে রয়েছে বেশ কিছু আকর্ষণীয়া দেখার জায়গা | যেমন টাকা পয়সার গণনা ঘর, দেবতার পালকি, উৎসবে ব্যবহৃত বাদ্যযন্ত্র, রাজা মহারাজাদের তৈলচিত্র, পেল্লায় সাইজের দাঁড়িপাল্লা ইত্যাদি | 

বালাজির মন্দিরে ফুল ফলের ডালি দিয়ে পূজো দেওয়ার রীতি নেই | ভগবানের উদ্দেশে প্রণামী হিসাবে অর্থ হুন্ডিতে (পয়সার ভান্ডার) দান করাই নিয়ম | সমস্ত ভক্তরা ওই হুন্ডিতেই দেন করেন এবং নিজের মনের আসা বালাজিকে জানায় | অন্যদিকে ভক্তরা মন্দিরের বাইরে একটি স্থানে কর্পূরের দীপ জ্বালিয়ে, নারকেল ফাটিয়ে অর্ঘ্য দেয় বালাজির উদ্দেশ্যে | 

বালাজির প্রসাদ হিসেবে প্র্রটেক ভক্তকে লাড্ডু অথবা পোলাও প্রসাদ দেওয়া হয় | মন্দিরে কোন উৎসবের সময় লক্ষ লক্ষ মানুষ ভিড় করেন বালাজির দর্শন পাওয়ার জন্য | বালাজির মন্দির ছাড়াও তিরুপতি তে আসে পাশে রয়েছে প্রচুর মন্দির | সেগুলো মানুষ গিয়ে দর্শন করেন |