ফের বিপাকে তৃণমূল, এবার আসানসোলের বিদায়ী মেয়র এবং পুর প্রশাসক জিেতন্দ্র তিওয়ারি

ফের বিপাকে তৃণমূল, এবার আসানসোলের বিদায়ী মেয়র এবং পুর প্রশাসক জিেতন্দ্র তিওয়ারি

আসানসোলকে বঞ্চনার অভিযোগে সরাসরি পুরমন্ত্রী ফিরহাদ হাকিমকেই চিঠি লিখেছিলেন আসানসোলের বিদায়ী মেয়র এবং পুর প্রশাসক জিেতন্দ্র তিওয়ারি। রাজ্যের বাধায় কেন্দ্রীয় সরকারের বিপুল টাকা না পাওয়াতে ব্যাহত হচ্ছে আসানসোল স্মার্ট সিটির কাজ। চিঠির বিষয়বস্তু এটাই।

আর সেই চিঠি ফাঁস হয়ে যেতেই তীব্র অস্বস্তিতে পড়েছে তৃণমূল। বিষয়টি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন রাজ্যের পুরমন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম। তিনি বলেন," জিতেন্দ্রকে উন্নয়নের জন্য প্রচুর টাকা দেওয়া হয়েছে। আগে তো কখনও এসব কিছু বলেনি। এর আগে জল প্রকল্পের জন্যেও টাকা দিয়েছি। মনে হচ্ছে কারোর কাছ থেকে গ্যাস খেয়ে এসব বলছে"।

অস্বস্তিতে পড়ে তড়িঘড়ি জিতেন্দ্র তিওয়ারিকে মঙ্গলবারই কলকাতায় ডেকে পাঠালো দল। তৃণমূল শীর্ষ নেতৃত্বের তরফে জানতে চাওয়া হবে, কেন জিতেন্দ্র এই চিঠি লিখলেন। একই সঙ্গে তাঁর ক্ষোভ প্রশমনের চেষ্টাও থাকবে। অভিষেক বন্দ্য়োপাধ্য়ায় সহ তৃণমূল শীর্ষ নেতৃত্বের পাশাপাশি বৈঠকে থাকতে পারেন ভোট কুশলী প্রশান্ত কিশোরও। এদিকে বিষয়টি নিয়ে পাল্টা ক্ষোভ জানিয়েছেন জিতেন্দ্র।

আসানসোলের পুর প্রশাসক তথা পাণ্ডবেশ্বরের তৃণমূল বিধায়ক জিতেন্দ্র তিওয়ারি বলেন," আমি রাজ্যের পুরমন্ত্রীকে একটি চিঠি দিয়েছি। এটা একান্তই ব্যক্তিগত চিঠি। কিভাবে তা সংবাদ মাধ্যমের কাছে ফাঁস হয়ে গেল? আসানসোলের উন্নয়ন সংক্রান্ত বিষয় নিয়েই চিঠি দিয়েছিলাম।

কিভাবে তা প্রকাশ্যে এল জানি না"। শুধু চিঠি দেওয়াই নয়, এদিন আসানসোল এবং রানিগঞ্জের দুটি কলেজের পরিচালন সমিতির সভাপতির পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন তিনি। যা বিতর্কটিকে নিঃসন্দেহে আরও উসকে দিয়েছে ।তবে একাধিক জিতেন্দ্র তিওয়ারিকে ফোন করলেও তাঁকে তিনি ধরতে পারেননি বলে জানিয়েছেন পুরমন্ত্রী। 

 এখন প্রশ্ন হঠাত্‍ এমন পদক্ষেপ কেন করতে গেলেন জিতেন্দ্র? উত্তর একটাই, নিজের কেন্দ্রে তৃণমূল লোকসভা ভোটের নিরিখে ৬০০০ ভোটে পিছিয়ে রয়েছে। এর পাশাপাশি আসানসোল পুরনিগম অঞ্চলেও বিজেপির ব্যাপক লিড রয়েছে। তাই জিতেন্দ্র ভালো করেই বুঝতে পারছেন সামনের বিধানসভা নির্বাচনে পাণ্ডবেশ্বর থেকে তাঁর জয় পাওয়া খুবই কঠিন হয়ে দাঁড়াবে।

শুধু তাই নয়, সে ক্ষেত্রে তিনি পুনরায় মেয়র হবেন সেই সম্ভাবনা নেই বললেই চলে। আসানসোল লোকসভা কেন্দ্রের অন্তর্গত বিধানসভা গুলিতে অবাঙালি ভোটার সংখ্যা প্রচুর। এটা সকলেই জানেন অবাঙালিদের সমর্থন বিজেপি প্রবলভাবে পেয়ে আসছে বহুদিন ধরেই।