নন্দীগ্রাম নিয়ে মমতার অভিযোগ খারিজ কমিশনের, আদালতে যেতে পারে তৃণমূল

নন্দীগ্রাম নিয়ে মমতার অভিযোগ খারিজ কমিশনের, আদালতে যেতে পারে তৃণমূল

 কলকাতা: নন্দীগ্রাম-সহ রাজ্যের ৩০ টি আসনে গত ১ তারিখ ছিল দ্বিতীয় দফা ভোটগ্রহণ। তবে ওই দিন সকলের নজরে ছিল নন্দীগ্রামের মতো হাইভোল্টেজ কেন্দ্রটাই। সেই নন্দীগ্রামের ভোট নিয়ে রাজ্য নির্বাচন কমিশনের জবাবে সন্তুষ্ট নয় তৃণমূল কংগ্রেস। কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিশনের দ্বারস্থ হতে চলেছে তারা। এই ইস্যুতে প্রয়োজনে আদালতে যাওয়ার কথাও ভাবছে ঘাসফুল শিবির। ১ এপ্রিল দ্বিতীয় দফার নির্বাচনের দিন বয়ালের সাত নম্বর বুথে আশি শতাংশ ছাপ্পা ভোট হয়েছিল বলে নির্বাচন কমিশনে অভিযোগ করেছিলেন নন্দীগ্রামের তৃণমূল কংগ্রেস প্রার্থী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। 

বুথে মোতায়েন কেন্দ্রীয় বাহিনীর বিরুদ্ধেও নিস্ত্রিয় থাকার অভিযোগ তুলেছিলেন তিনি। রবিবার সেই অভিযোগ খারিজ করে দিয়েছে নির্বাচন কমিশন। বিশেষ পর্যবেক্ষক অজয় নায়ক (জেনারেল) ও বিবেক দুবে (পুলিশ) মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অভিযোগ নিয়ে একটি রিপোর্ট জমা দেন নির্বাচন কমিশনে। তার উপর ভিত্তি করেই এদিন মুখ্যমন্ত্রীকে জবাব দিয়েছে কমিশন। নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, নন্দীগ্রামের বয়াল ভোটকেন্দ্রে সকাল ৭টায় মক ড্রিল অনুষ্ঠিত হয়েছিল। তারপর ভোটগ্রহণ প্রক্রিয়া শুরু হয়।

ওই মক ড্রিলের সময় বিজেপি, সিপিআইএম এবং একজন নির্দল পোলিং এজেন্টরা বয়াল পোলিং বুথের ভিতর উপস্থিত ছিলেন। এর সিসিটিভি ফুটেজও রয়েছে বলে জানানো হয়েছে কমিশনের তরফে। যা থেকে প্রমাণ করা যায় যে প্রক্রিয়ায় কোন ভুল ছিল না। এপ্রসঙ্গে তৃণমূল মুখপাত্র কুণাল ঘোষ বলেন, '১৪৪ ধারা জারি থাকা সত্ত্বেও মেলা বসে গিয়েছিল ওখানে। বয়ালে সকাল থেকে কী হয়েছে, সেটা সব মানুষ দেখেছেন।

নির্বাচন কমিশনের কেন্দ্রীয় বাহিনী যদি চোখে ঠুলি গুঁজে থাকে, তাতে আমরা কী করব? নন্দীগ্রামে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় Mamata Banerjee বিপুল ভোটে জিতবেন। কিন্তু তারমানে এই নয় যে কয়েকটা বুথে বিজেপি অসভ্যতা করবে আর নির্বাচন কমিশন তার বৈধতা দেবে। পরবর্তী ভোটে যাতে আর এধরণের ঘটনা না ঘটে, তার জন্য আমরা যা যা করার তাই করব।' তৃণমূল কংগ্রেসের সাংসদ তথা মুখপাত্র সৌগত রায় বলেন, 'আমরা ওদের জবাবে সন্তুষ্ট নই।

আমরা দিল্লিতে চিফ ইলেকশন কমিশনে যাব। তারপর আদালত তো আছেই।' গত ১ এপ্রিল দুপুরে বয়ালের একটি বুথে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় পৌঁছতেই অশান্তি শুরু হয়। মমতাকে দেখে বিজেপি কর্মীরা বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন। তাঁকে উদ্দেশ্য করে 'জয় শ্রীরাম' স্লোগান ওঠে মুহুর্মুহু। তৃণমূল ও বিজেপি কর্মীরা একে অন্যদের দিকে ইট নিয়ে তেড়ে যান। মমতার অভিযোগ, বাইরে থেকে লোক এনে ভোট করাচ্ছে বিজেপি।

যাদের আনা হয়েছে, তাঁরা কেউ বাংলা জানেন না। বয়ালের ওই বুথে বিজেপি অবাধে ছাপ্পা ভোট করেছে বলে তৃণমূল নেত্র্রীর কাছে অভিযোগ জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। কেন্দ্রীয় বাহিনীর তরফে কোনও সাহায্য মেলেনি বলে অভিযোগ করেন মমতা। সেদিন বয়ালের বুথে বসেই রাজ্যপাল জগদীপ ধনকড়কে ফোন করে পরিস্থিতি জানিয়েছিলেন মমতা। তাত্‍পর্যপূর্ণ হল, কেন্দ্রীয় বাহিনীর বিরুদ্ধে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় অভিযোগ করলেও বাম প্রার্থী মীনাক্ষী ভট্টাচার্য কোনও অভিযোগ করেনি।