মালদায় জালনোট পাচারে যুক্ত তৃণমূলের পঞ্চায়েত সদস্যাকে গ্রেপ্তার করতে গিয়ে আক্রান্ত পুলিশ

মালদায় জালনোট পাচারে যুক্ত তৃণমূলের পঞ্চায়েত সদস্যাকে গ্রেপ্তার করতে গিয়ে আক্রান্ত পুলিশ

দীর্ঘদিন ধরেই মজুত করা হচ্ছিল বাংলাদেশ থেকে আনা জাল নোট (Counterfeit notes)। খবর মিললেও ঘাঁটির খবর পাননি তদন্তকারীরা। অবশেষে গোপন সূত্রে খবর পেয়ে তল্লাশি চালিয়ে ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে কুম্ভিরায় গোটা পাচারচক্রটির হদিশ মেলে। গোপনে অভিযান চালাতে গিয়ে পাচারকারীদের হামলার মুখে পড়েন পুলিশ কর্মীরা। হাঁসুয়া দিয়ে কোপ মারা হয় বলে অভিযোগ। গুরুতর জখম হন ফাঁড়ি ইনচার্জ-সহ ২ পুলিশ (Police) কর্মী ও ২ সিভিক ভলেন্টিয়ার। ঠিক কী হয়েছিল এদিন?

বৈষ্ণবনগর থানার ইনচার্জ তনভীর আজাদ হাবিব জানিয়েছেন, গোপন সূত্রে বেশ কিছুদিন ধরে জালনোট কারবারিদের খবর পাওয়া যাচ্ছিল। সেইমতো, দৌলতপুরের একটি বাড়িতে তল্লাশি চালাতেই ওই জালনোট পাওয়া যায়। কিন্তু অভিযানে নেমে পাচারকারীদের ধরতে গিয়ে আক্রান্ত হয় পুলিশ। অভিযোগ, পাচারকারীদের বাড়িতে তল্লাশি চালাতে গিয়ে হাঁসুয়া নিয়ে তেড়ে আসেন এলাকাবাসী। পুলিশকর্মীদের ধারাল অস্ত্র দিয়ে কোপ মারা হয়। আচমকা আক্রমণে গুরুতর জখম হন সিভিক ভলেন্টিয়ার দুলাল সরকার ও চয়ন সিংহ।

তাঁদের প্রথমে বিএসএফ ক্য়াম্পে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখান থেকে বেদরাবাদ প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রে পাঠানো হয়। পরে ক্রমশ অবস্থার অবনতি হওয়ায় তাঁদের মালদা মেডিক্যাল কলেজে পাঠানো হয়। গোটা এলাকায় মোতায়েন করা হয়েছে পুলিশ। ঘটনাস্থল থেকেই গ্রেফতার করা হয় পাঁচজনকে। তাঁদের মধ্যে ২ জন মহিলা। বৈষ্ণবনগর থানার ইনচার্জের কথায়, “আমরা গোপন সূত্রে খবর পেয়েছিলাম। বেশ কিছুদিন ধরে এখানে জালনোটের কারবার চলছিল।

খবর পেয়েছিলাম। পরে, গোপন সূত্রের খবর পেয়ে শনিবার দৌলতপুরে মরফুল শেখ, সোহরার শেখ ও আতাউর শেখের বাড়িতে তল্লাশি চালাতে গিয়ে গ্রামবাসীরা আচমকা তেড়ে আসে। হাঁসুয়া দিয়ে আঘাত করে। আমাদের কয়েকজন কর্মী গুরুতর আহত। তবে এখনও পর্যন্ত পাঁচজন মূল অভিযুক্তকে গ্রেফতার করা সম্ভব হয়েছে। বাকিদের খোঁজ চলছে। গোটা এলাকায় পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

” সূত্রের খবর, অভিযুক্তরা সকলেই তৃণমূল কর্মী। ধৃত ৫ জনের মধ্যে রয়েছেন এলাকার দাপুটে তৃণমূল নেতা হবিবুর রহমান ও তাঁর স্ত্রী সীমা বিবি। সীমা বিবি বখরাবাদ গ্রাম পঞ্চায়েতের তৃণমূল সদস্য। তবে ওই পাঁচজন বাদে বাকি অভিযুক্তরা সকলেই পলাতক। ঘটনায়, স্থানীয় তৃণমূল নেতৃত্বের দাবি, জালকারবারিদের সঙ্গে শাসকদলের কোনও সম্পর্ক নেই। যদি, কেউ এইধরনের কোনও অসামাজিক কাজকর্মের সঙ্গে যুক্ত থাকে তবে, দোষীর উপযুক্ত শাস্তি হবে। পাশাপাশি দলের পক্ষ থেকেও পদক্ষেপ করা হবে। যদিও, ধৃত তৃণমূল নেতা বা তাঁর স্ত্রীর পক্ষ থেকে এ বিষয়ে কোনও প্রতিক্রিয়া মেলেনি।