মালদায় কৃষি আইন প্রত্যাহারের দাবিতে তৃণমূলের বিক্ষোভ, বনধের সমর্থনে বামেরা

মালদায় কৃষি আইন প্রত্যাহারের দাবিতে তৃণমূলের বিক্ষোভ, বনধের সমর্থনে বামেরা

তনুজ জৈন   মালদা:    কৃষক আন্দোলন নিয়ে এই মুহূর্তে উত্তাল সারা দেশ।রাজধানী দিল্লিতে এক সপ্তাহেরও বেশি সময় ধরে বিক্ষোভ প্রদর্শন করছে কৃষকেরা।মাঝে বেশ কয়েকবার কেন্দ্রের সঙ্গে বৈঠক হলেও সেই বৈঠক ব্যর্থ হয়েছে।

কারণ কৃষকেরা কোনো রকম আপোষে যেতে নারাজ।তাদের একটাই দাবি এই আইন প্রত্যাহার করতে হবে।এই আবহেই আজ ভারত বনধের ডাক দিয়েছে সংযুক্ত কৃষক সভা।সেই বনধকে সমর্থন জানিয়েছে বামেরা।

বনধকে সমর্থন না করলেও কৃষকদের দাবিকে সমর্থন করে পথে নেমেছে তৃণমূলও।মালদহের হরিশ্চন্দ্রপুর ১ এবং ২ নং ব্লক তৃণমূলের পক্ষ থেকে আজ কৃষি আইন প্রত্যাহারের দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল এবং সভা করা হয়।

দুটি ব্লকের মিছিল নিজেদের ব্লক এলাকা হয়ে হরিশ্চন্দ্রপুরে একসাথে মিলিত হয়ে হরিশ্চন্দ্রপুর থানা পর্যন্ত যায়।মিছিল থেকে দাবি উঠে অবিলম্বে কৃষি আইন প্রত্যাহার করতে হবে। নাহলে আরোও বৃহত্তর আন্দোলনে নামা হবে।

এই বিক্ষোভ কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন মালদা জেলা তৃণমূলের সাধারণ সম্পাদক বুলবুল খান,হরিশ্চন্দ্রপুর ১ নং ব্লক তৃণমূল কংগ্রেসের সভাপতি মানিক দাস,হরিশ্চন্দ্রপুর ১ নং ব্লক তৃণমূল যুব কংগ্রেসের সভাপতি জিয়াউর রহমান,

হরিশ্চন্দ্রপুর ২ নং ব্লক তৃণমূল কংগ্রেসের সভাপতি হজরত আলী, জেলা পরিষদের শিশু,নারী এবং ত্রাণ কর্মাধক্ষ্যা মর্জিনা খাতুন সহ অন্যান্য ব্লক নেতৃত্ববৃন্দ।বুলবুল খান বলেন, " কৃষক স্বার্থ বিরোধী কেন্দ্র সরকার জোর করে এই বিল কৃষকদের উপর চাপিয়ে দিচ্ছে।

আমাদের সরকার সবসময় কৃষকদের পাশে থাকে।তাই তাদের দাবিকে সমর্থন জানিয়ে আজকের এই ব্লক ভিত্তিক বিক্ষোভ কর্মসূচি।অবিলম্বে এই আইন প্রত্যাহার করতে হবে।" এদিকে রেলের ভাড়া বৃদ্ধি নিয়েও কেন্দ্র সরকারকে আক্রমণ করেন তিনি।

এই প্রসঙ্গে বলেন, " আগে কলকাতা যাওয়ার যা ভাড়া ছিল এখন তা প্রায় ১০০ টাকার বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে। এইভাবেই ধীরে ধীরে সাধারণ মানুষের সবকিছু চাপিয়ে দিচ্ছে কেন্দ্র। " মানিক দাস বলেন,"মোদী সরকারের কৃষক বিরোধী এই কৃষি আইন প্রত্যাহারের দাবিতে এই বিক্ষোভ মিছিল হয়।

আমাদের দলীয় কার্য্যালয় থেকে বেরিয়ে গোপাল কেডিয়া মোড় হয়ে শহীদ মোড় পর্যন্ত। সারা দেশ আজ এই আইন প্রত্যাহারের দাবিতে পথে নেমেছে। " এদিকে বনধকে সমর্থন করে পথে নামে বামেরা। সিপিমের পক্ষ থেকে হরিশ্চন্দ্রপুরে একটি বিক্ষোভ মিছিল করা হয়।

তারাও দাবি জানায় কৃষি আইন প্রত্যাহার করার।এই বিক্ষোভ কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন সিপিএম নেতা জামিল ফিরদৌস, প্রণব দাস, কৃষকসভার নেতা তথা সিপিএমের জেলা সম্পাদক আরযাউল হক সহ অন্যান্য বাম নেতারা। আরযাউল হক বলেন, " বামেরা সর্বদা কৃষকদের পাশে আছে।

তাই সংগঠিত কৃষক সভার ডাকা এই বনধকে আমরা সমর্থন জানিয়ে পথে নেমেছি। অবিলম্বে এই কৃষি আইন প্রত্যাহার না করলে শুধু আন্দোলন নয় দেশজুড়ে বিপ্লব হবে।বিপ্লবের কথা বলতে গিয়ে তিনি রুশ বিপ্লবের প্রসঙ্গ টেনে আনেন।

বলেন এই লড়াই কৃষকদের স্বাধীনতার লড়াই।" বাংলায় আর কয়েকমাস পরেই বিধানসভা ভোট।ইতিমধ্যে ভোটের ঢাকে কাঠি পরে গেছে।বাংলা জয়ের স্বপ্ন দেখছে গেরুয়া শিবির।তাই তৃণমূল হোক বা সিপিএম কৃষি আইন নিয়ে ব্যাকফুটে ফেলতে চাইছে বিজেপিকে।