ত্রিস্তান ডি কুনহাঃ বিশ্বের সবচেয়ে প্রত্যন্ত দ্বীপ ত্রিস্তান ডি কুনহা

ত্রিস্তান ডি কুনহাঃ  বিশ্বের সবচেয়ে প্রত্যন্ত দ্বীপ ত্রিস্তান ডি কুনহা

দক্ষিণ আফ্রিকার কেপ টাউন থেকে দূরত্ব ২৪৩২ কিমি, সেন্ট হেলেনা থেকে দূরত্ব ২১৬১ কিমি ও ফকল্যান্ড দীপপুঞ্জ থেকে ৩৪৮৬ কিমি। হ্যাঁ, পৃথিবী স্থলভাগ থেকে এতটাই দূরে আছে ছোট্ট এক মানববসতি ট্রিসটান ডা কুনহা। পৃথিবীর সবচেয়ে দূর্গম টুরিস্ট স্পট। এখানে পৌঁছনো যতটা কঠিন, টিকে থাকাও ঠিক ততটাই কঠিন। অথচ প্রকৃতি তার সেরা সৌন্দর্য ঢেলে দিয়েছে এখানে।

আটলান্টিক মহাসাগরের মাঝখানে এই ত্রিস্তান ডি কুনহা দ্বীপ।পৃথিবীর প্রত্যন্ত একটি এলাকা ত্রিস্তান ডি কুনহা। এটি একটি দ্বীপ স্থানীয়দের কাছে যা সংক্ষেপে টিডিসি নামে পরিচিত।দক্ষিণ অ্যাটলান্টিক মহাসাগরের এই ব্রিটিশ কলোনিতে পৌঁছতে গেলে, কেপটাউন থেকে মোটরবোটে লাগে সাতদিন ।

উত্তাল ও বিপজ্জনক সমুদ্রপথ পাড়ি দিয়ে আসতে হবে এই দ্বীপে, কারণ এখানে কোনও বিমানবন্দর বা সমুদ্রবন্দর নেই।এই দ্বীপে পাবেন না অনান্য পর্যটন কেন্দ্রের পরিষেবা। দ্বীপে একটিও রেস্টুরেন্ট নেই। হোটেল নেই। ক্রেডিট কার্ড চলে না। দোকান নেই, বাজার নেই। আছে কয়েকটা মাত্র হোম-স্টে। একটা কফি-শপ।

১. প্রথমে বিমানে করে দক্ষিণ আফ্রিকার কেপটাউনে যেতে হবে।

২. সেখান থেকে উঠতে হবে একটি নৌকায়।

৩. তার পর ১৮ দিন ধরে আপনাকে পাড়ি দিতে হবে উত্তাল সমুদ্র। পৃথিবীর সবচেয়ে বিপদসংকুল সমুদ্রপথের একটি এই পথ। তার পর কোন এক সময় কুয়াশা উঠে গেলে আপনি এই দ্বীপটির দেখা পেতে পারেন।

৪. নৌকা নিয়ে টিডিসি দ্বীপের দিকে অগ্রসর হবেন। নৌকাটি কূলে ভেড়ানোর জন্য আপনাকে অপেক্ষা করতে হবে কখন বাতাসের গতি একটু দুর্বল হয়ে আসে তার জন্য।

৫. নৌকাটি ডাঙায় তুলে রাখতে হবে। তা নাহলে সমুদ্রের ঢেউ এটিকে দূরে কোথাও ভাসিয়ে নিতে পারে। অথবা ঢেউ-এর আঘাতে পাথরের সঙ্গে সংঘর্ষে নৌকা ভেঙে যাওয়ার আশঙ্কা আছে।

৬. এর পরই আপনি দেখা পাবেন ত্রিস্তান ডি কুনহার রাজধানী সেভেন সিজের এডিনবরার এলাকার যেখানে লোকজনের বসতি।

অবশ্য আপনি দক্ষিণ আফ্রিকা থেকে দ্রুত গতির নৌকাও নিতে পারেন। সুবিধা হচ্ছে এই নৌকায় সমুদ্র পথে ২,৮১০ কিলোমিটার পাড়ি দিতে সময় লাগবে মাত্র ছয় দিন। কিন্তু এর নেতিবাচক দিকও আছে আর তা হচ্ছে এই নৌকাটি বছরে মাত্র একবার ছাড়ে। এর যাত্রী সংখ্যাও সীমিত।এছাড়াও এই পথে মাছ ধরার যে সামান্য কয়েকটি জাহাজ চলাচল করে সেগুলোর কাছেও আপনি লিফট চাইতে পারেন।ত্রিস্তান ডি কুনহাতে যাওয়া অথবা সেখান থেকে ফিরে আসা ঠিক এতোটাই কঠিন।

দ্বীপের ভূগোল

অনেকগুলি দ্বীপের সমষ্টি এই ট্রিসস্টান ডা কুনহা। প্রধান ও সবচেয়ে বড় দ্বীপ ট্রিসটান (৯৮ বর্গ কিলোমিটার)। এখানেই একমাত্র মানুষের বসতি আছে। দ্বীপমালায় আছে গঘ আইল্যান্ড (Gough Island Wildlife Reserve) , নাইটিঙ্গেল আইল্যান্ড, মিডল আইল্যন্ড, স্টোল্টেনহফ আইল্যান্ড।

ট্রিসটান ডা কুনহা দ্বীপটির মাঝখানে আছে পিরামিড আকৃতির এক বিশাল আগ্নেয়গিরি। নাম কুইন মেরি পিক (৫৭৬৫ ফুট)। রাজা পঞ্চম জর্জের  স্ত্রীর নামে শৃঙ্গটির নাম দেওয়া হয়। আগ্নেয়গিরিটি এখন শান্ত, তবে জেগে উঠতে পারে যেকোনও সময়ে।

সমুদ্র এখানে উত্তাল। সাঁতারের জন্য একেবারেই সুবিধাজনক নয়। তার ওপর মাসে ১৭ থেকে ২৬ দিনই প্রচণ্ড বৃষ্টি হয়। শীতকাল এখানে ভয়াবহ। বরফের চাদরে মুড়ে থাকে দ্বীপটি। তাই অনেকের মতে পৃথিবীতে মানুষের বসবাসের পক্ষে কঠিনতম দ্বীপের নাম ট্রিসস্টান ডা কুনহা

দ্বীপের ইতিহাস

 ১৫০৬ সালে দ্বীপটিকে প্রথম আবিষ্কার করেন পর্তুগিজ অনুসন্ধানকারী ট্রিস্টাও ডা কুনহা। কিন্তু সমুদ্রের ভয়াবহ ঢেউয়ের কারণে দ্বীপে নামতে না পারলেও তাঁর নামেই রাখেন দ্বীপের নাম ট্রিসস্টান ডা কুনহা

 ১৫২০ সালে জলের সন্ধানে দ্বীপের অদূরে এসে দাঁড়ায় পর্তুগিজ জাহাজ লা র‍্যাফায়েল।  জাহাজের ক্যাপ্টেন রুই পেরেরাই প্রথম মানুষ যিনি এই দ্বীপে পা রাখেন।

 ১৬৫৬ সালে দ্বীপের ম্যাপ তৈরি করে  ডাচ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি ।
● ১৭৬৭ সালে  দ্বীপে পূর্ণাঙ্গ জরিপ চালায় ফরাসিরা।
  ১৭৯৩ সালে প্রথম বৈজ্ঞানিক অনুসন্ধান চালান বিখ্যাত ফরাসি প্রকৃতিবিদ অবার্ট ডু পেটিট

কারা থাকে সেখানে

সর্বশেষ জরিপ অনুসারে ত্রিস্তান ডি কুনহা দ্বীপে মোট অধিবাসীর সংখ্যা ২৪৫। তাদের মধ্যে ১৩৩ জন নারী এবং ১১২ জন পুরুষ। তারা সবাই সেভেন সিজের এডিনবরায় বসবাস করেন।সেখানে আছে একটি কফি শপ, সামাজিক অনুষ্ঠান আয়োজনের জন্য একটি হল, একটি পোস্ট অফিস এবং একটি পাব। পাবটির নাম অ্যালবেট্রোস।দ্বীপটি আকারে ছোট্ট হলেও সেখানে একটি আধুনিক হাসপাতাল আছে, আছে তার চেয়েও ছোট এক স্কুল।

"আপনি যদি কখনো এই দ্বীপ ছেড়ে চলে না যান, তাহলে খুব শীঘ্রই বুঝতে পারবেন যাদের সঙ্গে আপনি স্কুলে যাচ্ছেন তাদের সঙ্গেই আপনাকে আপনার বাকি জীবন কাটাতে হবে," বলেন অ্যালেসডিয়ার উইলি, যিনি এক সময় টিডিসিতে বসবাস করতেন এবং কাজ করতেন একজন কৃষি উপদেষ্টা হিসেবে।

খুব সম্প্রতি তিনি ওই দ্বীপ ছেড়ে চলে এসেছেন।ত্রিস্তান ডি কুনহা এমন একটি জায়গা যেখানে হয়তো বিয়ের বহু আগেই আপনার স্বামী বা স্ত্রীর সঙ্গে দেখা হয়ে যাবে।আর আপনি যদি ত্রিস্তানিয়ান বা এখানকার আদি বাসিন্দাদের উত্তরসূরি হন তাহলে আপনার নামের সঙ্গে ছয়টি পদবীর যেকোনো একটি থাকতে পারে।শিল্পীর চোখে প্রত্যন্ত দ্বীপ ত্রিস্তান ডি কুনহা।এই নামগুলো হচ্ছে: লাভারেল্লো, রেপেত্তো, রজার্স, সোয়েইন, গ্রিন এবং গ্লাস।

অধিবাসীদের মধ্যে মাত্র দুজন আছেন যারা এই দ্বীপে জন্মগ্রহণ করেননি। তাদের একজন পুরুষ, আরেকজন নারী। কয়েক বছর আগে তারা দুজনেই দ্বীপের বাসিন্দাদের বিয়ে করে প্রত্যন্ত এই দ্বীপটিতে তাদের পরিবারের সঙ্গে থেকে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।এখানে একজন ডাক্তার এবং একজন শিক্ষকও আছেন যাদেরকে ব্রিটেন থেকে সেখানে পোস্টিং দেওয়া হয়েছে।এই দ্বীপটি ব্রিটেনের বাইরে ব্রিটিশ-শাসনাধীন এলাকা বা ব্রিটিশ ওভারসিজ টেরিটরি।দ্বীপটি একটি আগ্নেয়গিরি যেখানে সবশেষ অগ্নুত্‍পাত হয়েছিল ১৯৬১ সালে।

দ্বীপের বিনোদন

"এখানকার পরিবেশ এতোটাই শান্ত যে সেখানে ঘাস বড় হওয়ার শব্দও আপনি শুনতে পাবেন," বলেন হ্যারল্ড গ্রিন।"আর জায়গাটি এতোই নিরাপদ যে এখানে তালা বলে কিছু নেই।"তবে তিনি বলেন, দ্বীপে ইন্টারনেট সংযোগ "খারাপ, খুবই খারাপ।"তবে ভাল দিক হচ্ছে এখান থেকে বিদেশে যতো ফোন করা হয়, যদি সংযোগ ঠিক থাকে, সেগুলো ফ্রি।

দ্বীপটির উপকূল-জুড়ে তিন কিলোমিটার দীর্ঘ একটি রাস্তাও আছে। এই সড়ক ধরে খোলা একটি জায়গায় যাওয়া যায়। সেখানে জমির পর জমি।এর চারপাশে পাথরের প্রাচীর দিয়ে ঘেরা। তীব্র বাতাস থেকে লোকজনকে রক্ষা করতে এসব প্রাচীর তৈরি করা হয়েছে।সেখানে চাইলে আপনি কিছু সবজি চাষ করতে পারেন। "বিশেষ করে আলু," বলেন সেখানকার সাবেক একজন বাসিন্দা, "গ্রীষ্ম কালে আমরা সেখানে যেতে পারি। শহরের বাইরে ছুটি কাটানোর ওটাই একমাত্র জায়গা।"দ্বীপের লোকজনের কাছে বারবিকিউ বা ব্রাই সবচেয়ে প্রিয় বিনোদন। আগুনে মাংস ঝলসে খাওয়াকে ব্রাই বলা হয় যা ত্রিস্তান ডি কুনহার 'সবচেয়ে নিকটতম প্রতিবেশি' দক্ষিণ আফ্রিকার সংস্কৃতি থেকে এসেছে।দ্বীপের গবাদি পশুগুলো মূলত একাজেই ব্যবহৃত হয়।

দ্বীপের বাসিন্দারা বলছেন, একটা সময় ছিল যখন তাদের জীবনের একটি বড় অংশ জুড়ে ছিল সঙ্গীত। বাদ্যযন্ত্র বাজানো এবং গান গাওয়াই ছিল তাদের বিনোদনের উপায়। কিন্তু বেশিরভাগ মানুষ এখন স্ক্রিনেই সময় কাটাতে পছন্দ করেন, বলেন অ্যালেসডিয়ার।সুশ্যামল এই দ্বীপে ট্রেকিং বা পায়ে হেঁটে ঘুরে বেড়ানোও আরো একটি বড় বিনোদন। দ্বীপটি কখনোই ১০ কিলোমিটারের বেশি প্রশস্ত ছিল না। গভীর উপত্যকা এবং সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ২,০৬২ মিটার উপরে খাড়া পাহাড়ের কিনার ধরে হেঁটে যাওয়াও বাসিন্দারা উপভোগ করে থাকেন।আসলে এই দ্বীপে সমতল ভূমি খুব কমই আছে। চারপাশে দুই-তৃতীয়াংশ ঘিরে আছে পাথরের প্রাচীর যা খাড়া নেমে গেছে উত্তাল সমুদ্রের গভীরে।

দ্বীপের জীবন রোমান্টিক?

ত্রিস্তান ডি কুনহাকে অনেকেই শুধু ত্রিস্তান নামেই চেনে। একগুচ্ছ আগ্নেয় দ্বীপপুঞ্জের মধ্যে এটিই মূল দ্বীপ।এসব দ্বীপের মধ্যে একটির নাম নাইটিঙ্গেল আইল্যান্ডস যেখানে ত্রিস্তানিয়ানরা কখনো-সখনো ছুটি কাটাতে যায়। সেখানে তীব্র স্রোতের বিরুদ্ধে হাঙরের পাশাপাশি সাঁতার কাটা অপেক্ষাকৃত কম ঝুঁকিপূর্ণ। Alasdair Wyllie খোলা জায়গার চারপাশে তীব্র বাতাস ঠেকাতে পাথরের প্রাচীর।

সেখানে আরো কিছু দ্বীপ আছে যেগুলোতে সাধারণত মানুষের যাওয়া আসা নেই। তবে এরকম একটি দ্বীপ, লোকজন যার নাম দিয়েছে ইনঅ্যাকসিসেবল আইল্যান্ড, সেখানে দক্ষিণ আফ্রিকা একটি আবহাওয়া স্টেশন স্থাপন করেছে। ওই স্টেশনে কয়েকজন আবহাওয়াবিদ সারা বছর ধরে পালাক্রমে কাজ করেন।"মানুষের মনে একটা ধারণা আছে যে দ্বীপের জীবন বুঝি অনেক রোমান্টিক। কিন্তু সেখানে বসবাসের অনেক বিপদও আছে। এটা অবশ্যই সুন্দর একটি জায়গা। তবে এটি কোন স্বর্গ নয়," বলেন অ্যালিসডিয়ার।

ট্রিসটান দ্বীপের উত্তর দিকে আছে দ্বীপের একমাত্র গ্রাম। ১৮৮৭ সালে রানী ভিক্টোরিয়ার দ্বিতীয় পুত্র  ডিউক অফ এডিনবার্গ প্রিন্স আলফ্রেড ট্রিসটান দ্বীপে আসেন। তাঁরই সম্মানার্থে  গ্রামটির নাম রাখা হয়  Edinburgh of the Seven Seas৭০টি পরিবারের ২৪৫ জন মানুষ এখন এই গ্রামে বাস করেন। সবাই ব্রিটিশ নাগরিক। এবং প্রায় সবাই কৃষক। কৃষি ছাড়াও দ্বীপের বাসিন্দারা দ্বীপে আসা পর্যটকদের কাছে বিভিন্ন হস্তশিল্প, সুভেনির বিক্রি করে আয় করেন।১১ কিমি লম্বা এই দ্বীপে আছে একটি  মাত্র রাস্তা। ঝোড়ো সামুদ্রিক বাতাসের ঝাপট খাওয়া রাস্তা। সেই রাস্তায় চলে একটি মাত্র ১৮ সিটের বাস। বুক চিরে যাওয়া রাস্তাটির দুই ধারে বাংলো টাইপের কটেজ। চারদিকে, ভুট্টা, আলুর ক্ষেত। গরু বাছুর চড়ে বেড়ায়।

ডিজেল জেনারেটর দিয়ে দ্বীপে বিদ্যুৎ উৎপাদন করা হয়। দ্বীপে আছে একটি মাত্র মুদিখানার দোকান। কয়েক মাস আগে অর্ডার দিলে তবে জিনিস পাবেন। কেননা অর্ডার দেওয়ার পর তবেই সেটা জানানো হবে মাছ ধরার বোটকে। বোট গিয়ে দক্ষিণ আফ্রিকার কেপটাউনে খবর দেবে। অন্য বোট জিনিসপত্র দ্বীপে পৌঁছে দিয়ে যাবে। বেশিরভাগ সময়েই সমুদ্র উত্তাল থাকায় ডেলিভারি পিছিয়েও যেতে পারে।দ্বীপে আছে একটি ছোট্ট হাসপাতাল। আছেন একজন ডাক্তারও। কিন্তু রোগ জটিল হলে যেতে হয় সাউথ আফ্রিকা বা ইংল্যান্ডে। দ্বীপটিতে আছে একটা স্কুলও। এই সেন্ট মেরি স্কুলটি খোলা হয়েছিল ১৯৭৫ সালে।

২০০১ সাল থেকে বিবিসি এই গ্রামে কয়েকটি রেডিও ও টিভি চ্যানেল লাইভ দেখা ও শোনার সুবিধা দেয়। ২০০৫ সালে ব্রিটিশ পোস্টাল কোড পায় ট্রিসটান ডা কুনহা। সেটি হল TDCU 1ZZ। দ্বীপে আসে ইন্টারনেটও। এতে অনলাইন কেনা কাটায় সুবিধা হয়। কিন্তু জিনিসপত্র আসে মাছ ধরার বোটে সেই একমাস পর।এতো বাধা বিপত্তির সঙ্গে লড়াই করে টিকে আছে বলেই হয়ত রহস্যময় কুয়াশা ঢাকা ট্রিসটান ডা কুনহা পৃথিবীর সবচেয়ে আকর্ষণীয় ও রহস্যময় টুরিস্ট ডেস্টিনেশন। যেখানে মানুষজনের মধ্যে দুশ্চিন্তার লেশ মাত্র নেই। জীবন যেখানে শান্তির।

প্রথম শিশুর জন্ম

কোভিড মহামারির আরেকটি দিক হচ্ছে এর ফলে ত্রিস্তান ডি কুনহা দ্বীপে গত কয়েক বছরের মধ্যে এই প্রথম সেখানে একটি শিশুর জন্ম হয়েছে।"জটিলতা এড়াতে সন্তান জন্ম দেওয়ার জন্য নারীরা সাধারণত দক্ষিণ আফ্রিকাতে চলে যায়। কিন্তু সেদেশে লকডাউন জারি করার কারণে সবধরনের যোগাযোগ বন্ধ রাখা হয়েছে। একারণে ত্রিস্তানেই ওই শিশুটির জন্ম হয়েছে," বলেন অ্যালেসডিয়ার।মা ও শিশু দুজনেই সুস্থ আছে। দ্বীপের লোকজন নতুন এই বাসিন্দাকে পেয়েও খুব খুশি।

লোকজন অষ্টাদশ শতাব্দীর শুরুর দিকে ত্রিস্তান দ্বীপপুঞ্জে গিয়ে সেখানে বসতি গড়ে তুলতে শুরু করে। তার পর থেকে সেখানে জনসংখ্যা কখনো কমেছে, কখনো বেড়েছে। তবে গত কয়েক দশকে তাদের সংখ্যা কমতির দিকে। দ্বীপে ঘুরে বেড়ায় পেঙ্গুইনের দল।আপনি যদি প্রত্যন্ত এলাকার জীবন উপভোগ করতে চান এবং সেখানে যাওয়ার ব্যাপারে উত্‍সাহিত হয়ে থাকেন তাহলে আপনাকে সতর্ক করে দেওয়া উচিত যে তাতে আপনার সফল হওয়ার সম্ভাবনা খুব কম।"কেউ যদি সেখানে স্থায়ীভাবে বসবাস করতে চায় তাহলে তাকে ওই দ্বীপের কাউন্সিলের কাছ থেকে অনুমোদন নিতে হবে। এবং এজন্য করা বেশিরভাগ আবেদনই ফিরিয়ে দেওয়া হয়," বলেন অ্যালেসডিয়ার।