নিচু হয়ে পা ছুঁতে সমস্যা? অজান্তেই এই কঠিন রোগে ভুগছেন না তো ?

নিচু হয়ে পা ছুঁতে সমস্যা? অজান্তেই এই কঠিন রোগে ভুগছেন না তো ?

এক্সারসাইজ করার সাধ আছে, কিন্তু সাধ্য নেই। এ হচ্ছে যাকে বলে প্রায় সবার সমস্যা! কিন্তু কেন? শরীর একটু বেঁকালে-চোরালেই সে কেন জবাব দিয়ে দেয়? নিচু হয়ে পায়ের আঙুল ছুঁতে গেলে কোমরে টান ধরে, নয় তো হাঁটু কেন বিদ্রোহ করে?

যাঁরা এক্সারসাইজের ধার দিয়েই যান না, তাঁদের না হয় ছেড়েই দেওয়া যায়। কিন্তু যাঁরা নিজেদের ফিট বলে দাবি করেন, তাঁরাও অনেক সময়ে নিচু হয়ে নিজের পা ধরতে পারেন না। যদি এ রকমটা হয়, তা হলে ধরে নিতে হবে যে শরীর যথেষ্ট নমনীয় নয়।

শরীরে নমনীয়তা না থাকার অন্যতম কারণ হল পেশি শক্ত হয়ে যাওয়া বা শরীরে রক্তসঞ্চালন সঠিক ভাবে না হওয়া। কেন নিচু হতে সমস্যা হচ্ছে? হ্যামস্ট্রিং শক্ত হয়ে গেলে বা লাম্বার এক্সটেনসর টাইট হয়ে গেলে এমনটা হতে পারে। মাঝে মধ্যে এটাও খেয়াল রাখতে হবে যে পেটের চারপাশে চর্বি জমে গিয়েছে কি না।

এমনটা হলে পেট বড় হয়ে যায় আর তখনওনিচু হওয়া কষ্টকর হয়ে দাঁড়ায়। এর সঙ্গে ভীষণভাবে জড়িত আছে জীবনযাত্রার ধরনও। যাঁরা মাঠে-ঘাটে কাজ করেন, তাঁদের সাধারণত এই সমস্যা হয় না। এই সমস্যা সব চেয়ে বেশি তাঁদের, হয় যাঁরা বসে কাজ করেন বা যাঁরা শারীরিক পরিশ্রম খুব একটা করেন না।

এই জন্য তাঁদের কোমরের অংশ খুব স্টিফ বা শক্ত হয়ে যায়। তাই নিচু হলেই তাঁদের কোমরে টান ধরে। যাঁদের প্রতিদিনের দিনলিপিতে শরীরচর্চা বিষয়টা একেবারেই নেই এবং যাঁরা ঘরের কাজকর্মও খুব একটা করেন না, এই সমস্যা তাঁদের কাছে নতুন নয়। উপায় তা হলে কী?

শরীরের নমনীয়তা বাড়াতে গেলে উত্থানাসন ও পদহস্তাসন, এই দু'টি যোগব্যায়ামের সাহায্য নিতে হবে। এই দু'টি নিয়মিত করলে শরীর অনেক নমনীয় হয়ে যাবে। তবে নিজে থেকে কিছু না করে যোগপ্রশিক্ষকের সাহায্য নেওয়া উচিত্‍, যাতে আচমকা কোনও পেশি আহত না হয়।

শরীর নমনীয় থাকার সুফল: হিপ জয়েন্ট ও পেলভিক অঞ্চলের নমনীয়তা বেড়ে যাবে। তার সঙ্গে বাড়তি ওজনও কমে যাবে এবং শিরদাঁড়ার স্নায়ু ও পেশি নমনীয় হয়ে যাবে। এটা মনকেও অনেক শান্ত করে দেবে।