বিজেপি-তে যোগ মুর্শিদাবাদ জেলা পরিষদের ২ সদস্যের

বিজেপি-তে যোগ মুর্শিদাবাদ জেলা পরিষদের ২  সদস্যের

 তৃণমূল ছেড়ে কংগ্রেসে ফিরে গিয়েছেন মুর্শিদাবাদ জেলা পরিষদের সভাধিপতি মোশারফ হোসেন। 'অভিভাবকহীন' হয়ে পড়ার যুক্তি দেখিয়ে এ বার দলবদলের সেই পথ অনুসরণ করলেন জেলা পরিষদের সহ-সভাধিপতি এবং আরও ১ তৃণমূল সদস্যও। তবে তাঁরা বিজেপি-তে যোগ দিলেন বুধবার। বুধবার কলকাতায় বিজেপি নেতা শুভেন্দু অধিকারীর হাত ধরে তৃণমূল ছেড়ে গেরুয়াশিবিরে যোগ দেন মুর্শিদাবাদ জেলা পরিষদের সহ সভাধিপতি বৈদ্যনাথ দাস এবং জেলা পরিষদের সদস্য দ্রৌপদী ঘোষ।

এ ছাড়া কান্দি পুরসভার প্রাক্তন চেয়ারম্যান গৌতম রায় যোগ দেন বিজেপি-তে। একইসঙ্গে পদ্মশিবিরে পা রেখেছেন কান্দি শহরে কংগ্রেসের সভাপতি পথে থাকা সোমনাথ দাস-সহ আরও কয়েক জন। একদা শুভেন্দুর অনুগামী হিসাবে পরিচিত বৈদ্যনাথের বক্তব্য, ''ওঁর (শুভেন্দু অধিকারী) হাত ধরে আমরা তৃণমূলে যোগ দিয়েছিলাম। বর্তমানে আমরা অভিভাবকহীন ছিলাম। তাই আমরা বিজেপি দলে যোগদান করেছি।

মানুষের জন্য কাজ করা আমাদের মুল উদ্দেশ্য।'' এ প্রসঙ্গে মুর্শিদাবাদের বিজেপি নেতা গৌরীশঙ্কর ঘোষ বলেন, ''বিধানসভা নির্বাচন যতই এগিয়ে আসবে তত তৃণমূলে ভাঙন বাড়বে। যাঁরা কাজ করতে চাইছেন তাঁরা বিজেপি-তে আসুন।'' মুর্শিদাবাদ জেলা তৃণমূলের মুখপাত্র অপুর্ব সরকার বলেন, ''যাঁরা দলবদল করেছেন তাঁরা যে সকলে বিজেপি-তে যাবেন এটা জানা কথা। কারণ তাঁরা শুভেন্দুর অনুগামী হিসাবেই পরিচিত। তাঁরা গেলে দলের কোনও ক্ষতি হবে না।''

প্রসঙ্গত মুর্শিদাবাদ জেলা পরিষদে মোট ৭০টি আসন। তার মধ্যে ৬৯টি ছিল তৃণমূলের এবং একটি কংগ্রেসের। ৩ সদস্য পদত্যাগ করলেও, ৬৬ জন এখনও রয়েছেন জোড়াফুল শিবিরেই । এদিকে মুর্শিদাবাদের সুতিতে মঙ্গলবার বিকেলে মহেন্দ্রপুরে এলাকায় প্রায় কয়েক হাজার কর্মী সমর্থকদের নিয়ে সভায় কার্যত ঈমানী বিশ্বাসের বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভ পোষন করেন খাদ্য কর্মাধ্যক্ষ মইদুল ইসলাম।কর্মীদের সামনে তুলে ধরলেন মান অভিমানের কথা।

মইদুল ইসলাম বলেন তৃণমূল কংগ্রেসের পদে থেকে ক্ষমতার অপব্যবহার করেছেন বর্তমান সুতি বিধানসভার তৃণমূলের প্রার্থী। এলাকাকে অরাজকতায় ভরে রেখেছেন। দলে পরিবারতন্ত্র কায়েম করেছেন। পঞ্চায়েত ও পঞ্চায়েত সমিতি একাধিক দূর নীতি মূলক। বারবার তৃণমূলের জেলা সভাপতি ও রাজ্য নেতৃত্বকে বলেও কনো কাজ হয়নি। এতবার বলার পরেও দল তাকে প্রার্থী করায় বাধ্য হয়েই তৃণমূল প্রার্থী ঈমানী বিশ্বাসের বিরুদ্ধে ক্ষোভ পোষন করে তৃণমূল ছাড়লেন।

এদিন মইদুল ইসলামের সাথে উপস্থিত ছিলেন প্রাক্তন ব্লক সভাপতি ওবায়দুর রহমান, প্রাক্তন পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি তথা উমরাপুর পঞ্চায়েতের সদস্য আনিকুল ইসলাম সহ স্থানীয় নেতা কর্মীরা। তৃণমূল ছেড়ে এবার কোন দলে যাবেন মইদুল ইসলাম? যদিও অন্য দলে যোগদানের জল্পনা জিইয়ে রেখে কংগ্রেসকেই ফার্স্ট চয়েস বলে সাফ জানালেন মইদুল ইসলাম।